Published : 03 May 2026, 06:28 PM
পুরো মুনাফাসহ আমানত ফিরে পেতে চট্টগ্রামে ব্যাংকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারী ও গ্রাহকরা।
রোববার সকালে বন্দরনগরীর খাতুনগঞ্জ এলাকায় একীভূত হওয়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকের সামনে তারা বিক্ষোভ করেন।
গ্রাহকরা ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকে তালা লাগিয়ে দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তালা খুলে দেয়।
তাদের দাবি, ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাসসহ সকল সুযোগ সুবিধা ঠিক আছে। কিন্তু মুনাফার আশায় তারা ব্যাংকে টাকা রাখলেও এখন তারা আমানত ফেরত পাচ্ছেন না। এ কারণে পরিবার নিয়ে তারা সংকটে রয়েছেন।
মো. তানভীর নামে এক আন্দোলনকারী বলেন, সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা থাকার পরও সেগুলো তারা তুলতে পারছেন না। স্বাভাবিক লেনদেন করতে পারছেন না।
তিনি বলেন, “ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকে আমানত রেখেছিলাম। সেখান থেকে বিভিন্ন সময়ে এফডিআর থেকে মুনাফা তুলেছি। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে ২০২৪-২০২৫ সালের ৪ শতাংশ মুনাফা বাদে বাকি টাকা মূলধন থেকে কেটে রাখা হবে। পাশাপাশি যেসব এফডিআর মেয়াদ পূরণ হয়নি, সেগুলোও ভাঙতে দেওয়া হচ্ছে না।”
সংকটে থাকা বেসরকারি শরীয়াহভিত্তিক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গত বছর রাষ্ট্রায়ত্ত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। এরপরই গত দুই অর্থবছরের আমানতের বিপরীতে কোনো মুনাফা না দেওয়ার ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ‘হেয়ার কাট’ পদ্ধতিতে তা বাতিল করা হয়। পরে আন্দোলনের মুখে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারী বিষু দত্ত নামে এক গ্রাহক বলেন, “২০২১ সালে সাড়ে ১২ শতাংশ মুনাফায় এফডিআর করেছি। বিভিন্ন সময়ে মুনাফার টাকা উত্তোলন করেছি। এখন বলছে ২০২৪-২০২৫ সালে ৪ শতাংশ মুনাফা দিবে। বাকি টাকাগুলো আসল থেকে কেটে রাখা হবে।
“আবার আমানতের টাকাও উত্তোলন করতে পারছি না।”
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারী শারমিন আক্তার বলেন, “২০১৮ সালে ব্যাংকে টাকা রেখেছি। এখন বলা হচ্ছে ২০২৪-২০২৫ সালের মুনাফার ৪ শতাংশ বাদে বাকি টাকা আমাদের আসল থেকে কেটে রাখা হবে।”
তিনি বলেন, “আমরা টাকা উত্তোলন করতে চাইলেও সেটা করতে দেওয়া হচ্ছে না। ব্যাংক থেকে বলছে ২০২৮ সালের আগে টাকা উত্তোলন করা যাবে না। সে সময় আমরা যে টাকা উত্তোলন করতে পারব তার নিশ্চয়তাও কেউ দিচ্ছেন না।”
গ্রাহক ও আমানতকারীদের বিক্ষোভ ও তাদের দাবির বিষয়ে কোনো সমাধান দিতে পারেননি শাখা ব্যবস্থাপকরা।
বিষয়টি নিয়ে কোতোয়ালী থানার ওসি আফতাব উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, “দেশের বিভিন্ন জায়গার মত এখানেও আন্দোলন হয়েছে। আমরা আন্দোলনকারী ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”