১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘নিজের দায়িত্ব পালন করলেই স্বাধীনতার সুফল মিলবে’

“আমরা পরিপূর্ণভাবে মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করতে পারিনি; সেখানেই আমাদের বিভাজন তৈরি করে দেওয়া হয়েছে,” বলেন অধ্যাপক কামাল।

‘নিজের দায়িত্ব পালন করলেই স্বাধীনতার সুফল মিলবে’
আলোচনা অনুষ্ঠানে অধ্যাপক শামীম উদ্দিন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Mar 2026, 05:49 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:15 PM

দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে কর্মব্যস্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) শামীম উদ্দিন।

তিনি বলেছেন, “আমরা জাতি হিসেবে খুবই কর্মবিমুখ। আমাদের কর্মমুখর হতে হবে। 

“আমি যদি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করি, তাহলেই স্বাধীনতার সুফল পাব এবং দেশকে এগিয়ে নিতে পারব।”

স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার উপাচার্য দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন অধ্যাপক শামীম।

তিনি বলেন, “সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার—এ তিনটি উদ্দেশ্য সামনে রেখে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল এবং বিজয় অর্জন করেছি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে ’৯০-এ স্বৈরাচার আন্দোলন এবং ’২৪-এ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আমাদের রক্ত দিতে হয়েছে। 

“স্বাধীনতার এত বছর পরও জাতি হিসেবে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে না পারার কারণে স্বাধীনতার আসল উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি।”

স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান।

স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, “ইতিহাসের অনন্য অংশ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অনন্য নজীর স্থাপন করেছিল। 

“চবির প্রায় ১৫ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী শহিদসহ অসংখ্যজন রক্ত দিয়েছেন স্বাধীনতা সংগ্রামে। এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে আমি নিযুক্ত হয়েছি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী স্বাধীনতা সংগ্রামে রক্ত দানের ইতিহাসে রয়েছে।”

আলোচনা অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক কামাল উদ্দিন।

আলোচনা অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক কামাল উদ্দিন।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক কামাল উদ্দিন বলেন, “স্বাধীনতা যুদ্ধের পিছনে একটা মুক্তিযুদ্ধ রয়েছে। আমরা মুক্তির জন্য লড়াই করেছি। কিন্তু মুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে এ রাষ্ট্র নিয়ে বার বার ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারিনি। 

“আমরা পরিপূর্ণভাবে মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করতে পারিনি। সেখানেই আমাদের বিভাজন তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমাদের শপথ নিতে হবে মুক্তিযুদ্ধে যার যতটুকু অবদান তা অবলীলায় স্বীকার করতে হবে। এটা আমরা স্বীকার করতে না পারলে আমাদের বার বার রক্ত দিতে হবে।”

এর আগে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফে ক্যাম্পাসের স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। এরপর স্মৃতিস্তম্ভ চত্বর থেকে একটি পদযাত্রা ক্যাম্পাস ঘুরে প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সেখানে উপাচার্য দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।