চট্টগ্রাম সওজ: কাজ না করা ঠিকাদারকে দিয়ে ‘বিল দাখিলের চেষ্টা’
“টেন্ডারে যারা কাজ পেয়েছে, তাদের দিয়ে কাজ করানো হয়নি। আরেক ঠিকাদারকে দিয়ে আগেই কাজ করানো হয়েছে,” বলেন দুদক কর্মকর্তা সায়েদ আলম।
চট্টগ্রামে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কাজ না করা ঠিকাদারকে দিয়ে বিল দাখিলের চেষ্টার প্রমাণ পাওয়ার কথা বলেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকায় সওজের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে অভিযান চালান দুদক কর্মকর্তারা।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলমের নেতৃত্বে একটি দল চট্টগ্রাম সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহেদ হোসাইনের কার্যালয়ে গিয়ে কাগজপত্র যাচাই করেন।
কার্যালয়ে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কিংবা ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না।
অভিযানের পর সায়েদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, নগরীর অক্সিজেন মোড় থেকে হাটহাজারি পর্যন্ত এক কোটি টাকার কাজ টেন্ডার প্রক্রিয়ার আগেই এক ঠিকাদারকে দিয়ে করানো হয়। পরে টেন্ডারে আরেক ঠিকাদার কাজ পেলে তাদেরকে বিল জমা দিতে বলা হয়।
একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বিলে সই করতে রাজি হয়নি এবং এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক অভিযান চালায় বলে জানান তিনি।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে সায়েদ আলম বলেন, টেন্ডারে যারা কাজ পেয়েছে, তাদের দিয়ে কাজ করানো হয়নি। অন্য একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে আগেই কাজ করানো হয়েছে, যারা কাজের টাকাও পেয়ে গেছে।
“টেন্ডারে যিনি কাজটি পেয়েছেন, তাকে জোর করে অনেকগুলো বিলে সই করতে বলা হয়। উনি অসম্মতি জানানোয় গতকাল রাতে অনেকগুলো অপরিচিত নম্বর থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হয়।”
তিনি বলেন, যে প্রতিষ্ঠান বিলে সই করতে রাজি হয়নি, তাদের সঙ্গে দুদক কর্মকর্তারা যোগাযোগ করেছেন এবং তাদের কাছে আরও কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৪ মে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস। তার সফর উপলক্ষে অক্সিজেন থেকে হাটহাজারি বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কে সৌন্দর্য্য বর্ধন ও সড়ক মেরামতের কাজটি করা হয়।
অভিযোগে বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও সওজের কোনো কর্মকর্তা রাজি হওননি। নির্বাহী প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায় প্রকৌশলী অন্য একটি কাজ পরিদর্শনে গেছেন বলে জানান সওজের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
