Published : 27 Apr 2026, 08:34 PM
চট্টগ্রাম নগরীর লালদিঘীর মাঠে তুমুল জনপ্রিয় জব্বারের বলী খেলার (এক ধরনের কুস্তি) ১১৭তম আসর শুরু হয়েছে।
শনিবার বিকালে বলী খেলার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
এবারের খেলায় অংশ নিতে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রতিযোগীরা দুপুর থেকেই জড়ো হন লালদিঘী মাঠে। আছেন গতবারের চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ, রানার আপ রাশেদসহ অন্তত ৮০ কুস্তিগীর।
এদিকে খেলা শেষে জয়ীদের মাঝে চট্টগ্রামের সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনের পুরস্কার বিতরণ করার কথা রয়েছে। উপস্থিত থাকছেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে এ অঞ্চলের যুবকদের সংগঠিত ও শারীরিক ভাবে প্রস্তুত করতে চট্টগ্রাম শহরের বদর পাতির ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার সওদাগর ১৯০৯ সালের বাংলা ১২ বৈশাখ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আয়োজন করেন কুস্তির, যা বলী খেলা নামে পরিচিত।
বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে ১২ বৈশাখ চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক লালদিঘী মাঠে জব্বারের বলী খেলা হয় প্রতিবছর। খেলাকে কেন্দ্র করে হওয়া মেলা রূপ নিয়েছে চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের মেলায়।
১২ বৈশাখ বলী খেলা অনুষ্ঠিত হলেও লালদিঘী মাঠের আশপাশ ঘিরে প্রায় দেড় কিলোমিটার জুড়ে আগের দিন ও পরের দিন মিলিয়ে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় মেলা। তবে এসএসসি পরীক্ষার কারণে এবার মেলায় সময় একদিন কমিয়ে করা হয়েছে দুইদিন।
প্রতিবছর এ বলী খেলায় চট্টগ্রামের পাশাপাশি আশেপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকেও অংশ নিয়ে থাকেন প্রতিযোগীরা। এটা কারো ‘জীবিকা নয়’ বিনোদনের জন্য মনের টানে কিশোর থেকে বৃদ্ধ নানা বয়েসীরা অংশ নেন এ প্রতিযোগিতায়।
কিশোর-তরুণ যেমন এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন একই ভাবে সত্তোরোর্ধ মানুষও অংশ নেন এ বলী থেলায়।
বলি খেলাকে ঘিরে এ বৈশাখী মেলার জন্য অপেক্ষায় থাকেন চট্টগ্রামবাসী। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দোকানিরা নানা ধরনের মালামাল নিয়ে আসেন এ মেলায়।
মাটির তৈরি তৈজসপত্র, খেলনা, ফুলদানি, পুতুল, বেত-কাঠ ও বাঁশের তৈরি আসবাব, হাতপাখা, মাছ ধরার পলো, বেতের তৈরি ডালা, কুলো, ফলদ ও বনজ গাছের চারা, ফুল গাছের চারা, মুড়ি মুড়কি, পাটি, মাদুর, চুড়ি, প্রসাধনী সামগ্রী, দা-বটি, ছুরিসহ প্রায় সব পণ্যই পাওয়া যায় এ মেলায়।