Published : 10 May 2026, 09:29 PM
কর্ণফুলী নদী রক্ষার দাবি নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর ব্রিজ ঘাটা থেকে নদীর দক্ষিণ পাড়ের চর পাথরঘাটা পর্যন্ত অংশে সাম্পান খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার বিকালে চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র ও সম্মান মাঝি কল্যাণ সমিতির যৌথ উদ্যোগে ২০তম বছরের মত এই ‘সাম্পান খেলা ও চাঁটগাইয়া সাংস্কৃতিক মেলা’ আয়োজন করা হল।
সাম্পান খেলা দেখতে নদীর দুই তীরে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হন।
বিকাল ৫টার দিকে ব্রিজ ঘাট অংশ থেকে ১১টি নৌকায় ১১টি দল ‘সাম্পান খেলায়’ অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি নৌকায় ৯ জন করে মাঝি ছিলেন।
কর্ণফুলী নদীর উত্তর পাড় থেকে যখন সাম্পানগুলো প্রতিযোগিতা শুরু করে, তখন তীরে বিভিন্ন বয়সী হাজার খানেক মানুষ দাঁড়িয়ে সেই খেলা উপভোগ করছিল।
এছাড়া সাম্পানের এই প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়েও অনেকে নদীতে নামেন। এসব নৌকার যাত্রীরা নেচে গেয়ে প্রতিযোগিদের উৎসাহ দিতে থাকেন।
নদীর উত্তর পাড় থেকে দক্ষিণ পাড়ের চর পাথরঘাটা এলাকায় পৌঁছাতে ১৫ মিনিটের মত সময় লাগে।
এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে চর পাথরঘাটার বড় সাম্পান সমিতির মোজাম্মল মাঝির দল, দ্বিতীয় হয়েছে শিকলবাহার ওহিদিয়া কাশেম মাঝির দল এবং তৃতীয় হয়েছে চর পাথরঘাটার রনি মাঝির দল।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার জামাল নিজাম বলেন, “মাঝিরা আছে বলে কর্ণফুলী নদীর এই বৈচিত্র্য আজো টিকে আছে। যেটা আমাদের দেশের গৌরব এবং সম্পদ। আমি সবসময় মাঝিদের অধিকার রক্ষার জন্য সোচ্চার থাকব।
“কর্ণফুলী নদী রক্ষার আন্দোলন সারাদেশের দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। সাম্পান মাঝিরা গত ২০ বছর ধরে কর্ণফুলী রক্ষার আন্দোলনে যেভাবে সম্পৃক্ত হয়েছেন সেটা আর কোথাও নাই।”
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মোজাম্মেল হক ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. ইদ্রিস মিয়া বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্রের উপদেষ্টা চৌধুরী ফরিদ, কেন্দ্রের চেয়ারম্যান আলীউর রহমান, কর্ণফুলী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল আমিন হোসেন ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য এস এম মামুন মিয়া।