Published : 09 Feb 2026, 02:48 PM
একটি দল নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা বলে জনগণের মধ্যে ‘বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদীবাগে নিজ বাসভবনে সোমবার নিজের সংসদীয় আসন চট্টগ্রাম-১১ এর উন্নয়নের ১১ দফা বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, “অনেকেইতো নির্বাচন চায়নি, নির্বাচনের প্রতি তাদের আস্থা নেই। আবার নির্বাচনে গিয়ে বিভিন্ন কথা শুনতে পাচ্ছি। এগুলোতো ভালো লক্ষণ না।
“এগুলোর মাধ্যমে যে তারা কিছু করতে পারবে সেটা না…তবে জনগণের মধ্যে একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।”
নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোন সুযোগ নেই মন্তব্য করে আমীর খসরু বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ খুবই সজাগ। তারা ১২ তারিখ ভোট কেন্দ্রে যাবে, ভোট প্রয়োগ করবে। ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ জবাব দেবে। যারা এসবের মাধ্যমে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী, মুক্তিকামী মানুষ তাদের কোনদিন গ্রহণ করবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।”
চট্টগ্রাম-১১ আসনের জন্য ১১ দফা অঙ্গীকার ও বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাবেক মন্ত্রী খসরু বলেন, ‘লজিস্টিক হাবের’ মাধ্যমে সার্বিকভাবে চট্টগ্রামকে উন্নয়ন করা হবে।
“এর সাথে সাথে এখানে পড়াশোনা, ট্যুরিজম, হসপিটিলাটি বিজনেজ সবকিছু মিলিয়ে চট্টগ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান যাতে উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান হয় সেদিকে নজর দেওয়া হবে। চট্টগ্রামের জিডিপি বাংলাদেশর জিডিপিতে যাতে বড় একটা অবদান রাখতে পারে এটা আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে।”
চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী খসরু বলেন, “বিদেশিরা যখন বাংলাদেশে আসে তখন প্রথম প্রশ্ন করে আপনার বন্দরে টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম, ডেলিভারি টাইম কত? অ্যাফিসিয়েন্সি কী?- এটার ওপর নির্ভর করে তারা এখানে বিনিয়োগ করে।

“সুতরাং আগামী দিনের বন্দরের অ্যাফিসিয়েন্সি, টার্ন অ্যরাউন্ড টাইম, ডেলিভারি টাইম, কস্ট সবকিছু মিলিয়ে বন্দরকে ওই জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। যেখানে দ্যা গ্লোবাল বেস্ট প্রাকটিসেস আছে।”
বিশ্বের বিভিন্ন বন্দর পরিচালনাকারীদের উদাহরণ নিলে এগিয়ে যাওয়া যাবে মন্তব্য করে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি খসরু বলেন, “ইনশল্লাহ বিএনপি যদি কেবিনেটের দায়িত্ব পায় আমরা গ্লোবাল বেস্ট প্রাকটিস যেটা আছে সেটাকে নিয়ে… চট্টগ্রামকে লজিস্টিক্যাল হাব করতে হলে তো এফিসিয়েন্সি বাড়াতে হবে। না হলে এখানে আসবে কেন মানুষ? সুতরাং আপনাকে এফিসিয়েন্ট হতে হবে, সার্ভিস দিতে হবে, কম্পিটেটিভ হতে হবে। সেটাই আমাদের লক্ষ্য হবে।”
চট্টগ্রাম-১১ আসনের অধীনে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর ও দুইটি ইপিজেড। এ আসনে নিয়ে সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী খসরুর ১১ দফা অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে সেখানে এক হাজার ২০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ, তরুণদের কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরতা বাড়াতে ফ্রিল্যান্সিং ও আউট সোর্সিং প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নিরাপদ এলাকা করতে শক্তিশালী আইন শৃঙ্খলা তৈরি, পানি সংকট নিরসন, জলাবদ্ধতামুক্ত, যানজটমুক্ত চট্টগ্রাম, পরিবেশ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, টেকসই ও নিরাপদ রাস্তাঘাট, কন্টেইনর জট নিরসনে আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সমন্বয়ের মাধ্যমে বন্দর ব্যবস্থার আধুনিয়কায়ন, সহজ ও সমন্বিত নাগরিক সেবা প্রদান এবং পরিকল্পিত আধুনিক নগরায়ন করা।