১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘হাদির মত কণ্ঠস্বর প্রয়োজন ছিল’: চবিতে বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা

মিছিলে হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উস্কানি ও অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানানো হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Dec 2025, 04:14 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:21 PM

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর ঘটনায় তার ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে শুরু হয়ে সোহরাওয়ার্দী মোড় ঘুরে করে জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উস্কানি ও অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানানো হয়।

চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম রনি বলেন, “হাদি ভাইয়ের মত একটি কণ্ঠস্বর আমাদের খুব প্রয়োজন ছিল। তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মানুষের হৃদয়ের কথা বলতেন, খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে কথা বলতেন। তিনি মানুষের মনের কথা বুঝতেন বলেই তাকে শহীদ করা হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “শুধু হাদি নয় আধিপত্যবাদ এখন অনেকের বিরুদ্ধে কিলিং মিশনে নেমেছে। তারা আবার আধিপত্য কায়েম করতে চায়, দেশের সম্পদ লুটপাটের স্বপ্ন দেখে। হাদি ভাইয়ের শাহাদাতের পরও কেউ কেউ উস্কানি ছড়াচ্ছে আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জুলাইয়ের অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ার কারণেই আজ জুলাইয়ের বীরদের মার খেতে হচ্ছে।”

মিছিলে শিক্ষার্থীদের ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার’, ‘এই মুহূর্তে দরকার সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই’, ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘আমার ভাই মরল কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’, ‘আমরা সবাই হাদি হব, গুলির মুখে কথা কই’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘ফ্যাসিবাদের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’, ‘গুজরাট না চট্টলা, চট্টলা’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা বলেন, “গত জুমায় হাদি ভাই আমাদের সঙ্গে ছিলেন, কিন্তু এই জুমায় তিনি নেই। আমরা এখনো এটা মেনে নিতে পারছি না। তিনি প্রায়ই বলতেন শহীদ পরিবারের দিকে তাকাতে। আজ হাদি ভাইয়ের পরিবারকেই শহীদ পরিবারের কাতারে দাঁড়াতে হচ্ছে। আমরা হাদি ভাইয়ের আদর্শ গ্রহণ করব এবং প্রতিজ্ঞা করব, প্রয়োজনে জান দেব, কিন্তু জুলাই ছেড়ে দেব না। ইন্ডিয়া থেকে এনে হলেও খুনিদের বিচার করতে হবে।”

চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, “শহীদ হাদি ভাই ৫ অগাস্টের পর এক টকশোতে বলেছিলেন—যখন আমরা লড়াই করব, তখন আমাদের শত্রুকে চিনতে হবে। শত্রুকে না চিনলে লড়াই সঠিকভাবে করা যায় না। তার বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আমাদের শত্রু চিনিয়ে দিয়ে গেছেন। আমরা শাহবাগের কথা বলি, কিন্তু শাহবাগ কীভাবে আমাদের ক্ষতি করেছে, তা হাদি ভাই আমাদের দেখিয়ে দিয়েছেন। 

“আওয়ামী লীগ চলে গেলেও আমরা কালচারাল আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করতে পারিনি। হাদি ভাই বুঝেছিলেন এদের প্রতিহত করতে হলে সাংস্কৃতিকভাবেই প্রতিহত করতে হবে।”

বিক্ষোভ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হরেজুল ইসলাম, সহ-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক জিহাদ হোসেইন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আফনান হাসান, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ, সহ-যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ওবাইদুল সালমানসহ বিভিন্ন হল সংসদের নেতারা।

হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গেলে তাকে গুলি করে মোটরসাইকেলে করে আসা আততায়ী। গুলিটি লাগে হাদির মাথায়।

গুরুতর আহত হাদিকে সোমবার দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেখানেই তার মৃত্যু হয়।