১৫ অগাস্টের পরিকল্পনাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বঙ্গবন্ধু পরিবারকে হত্যার সুবিধাভোগী কারা, সেই হিসাব মেলানোর সময় এসেছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 August 2022, 02:59 PM
Updated : 5 August 2022, 02:59 PM

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পরিকল্পনাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

শুক্রবার চট্টগ্রামে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা ইউনিটের যৌথ উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ছয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের হত্যার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, “পরিবারের সদস্যদের কী দোষ ছিল? এখন সবগুলো হিসেব-নিকেশ করার সময় এসেছে। কারা এর সুবিধাভোগী?”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার হয়েছে। কিন্তু হত্যার কুশীলবদের পরিচয়ও উন্মোচন করা দরকার।

ডিআইজি আনোয়ার বলেন, “প্রথমে শেখ কামালের বাড়িতে আক্রমণ হয়েছিল। আরও পরে হামলা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে। এ সময়ে কেন তা প্রতিরোধ করা হলো না? হত্যাকারীরা কাদের কাছে রিপোর্ট করেছিল, নতুন প্রজন্মের কাছে সেটা জানা দরকার।”

ডিআইজি আনোয়ারের বক্তব্যের সূত্র ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “খুনের মাস্টারপ্ল্যান যারা করেছিল, তাদেরও বিচারের মুখোমুখি করার প্রচেষ্টা চলছে। বিশ্বাসঘাতকরা সেদিন কী করেছিল, সেটা আমরা তুলে ধরব জাতির কাছে। অনেক ইতিহাস, ঘটনার আমিও জ্বলন্ত স্বাক্ষী।”

তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু যে আমাদের শুধু স্বাধীন করে দিয়েছেন তা নয়, সাড়ে তিন বছরে ধ্বংসস্তুপ থেকে সচল দেশ গড়ে দিয়েছিল। তখনই ষড়যন্ত্রকারীরা হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটিয়েছে।”

বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ সবার আগে উন্নত দেশে পরিণত হতো মন্তব্য করে আসাদুজ্জামান বলেন, “যতকিছু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করে যাচ্ছেন, সবগুলোই বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারার মধ্যে ছিল।”

একাত্তরের এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, “লিবারেশনের পরে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা বললাম আমরা কিচ্ছুই চাই না… আমরা জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি আর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা চেয়েছিলাম। চিকিৎসা শিক্ষা-দীক্ষা যা যা করার, সেদিন বঙ্গবন্ধু করে দিয়েছিলেন।

“কিছুদিন পর দেখলাম, হঠাৎ মুখের ওপর দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা এসে সে দরজা ওপেন করে দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের তিনি প্রায়োরিটি দিয়েছেন বলেই আমরা মুক্তিযোদ্ধারা আজকে মাথা উঁচু করে বলতে পারি- আমরা বঙ্গবন্ধুর ডাকের সেই মুক্তিযোদ্ধা।”

মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,“ রাষ্ট্রীয়ভাবে আমাদের কিছু করছে বলে- আমরা তুষ্ট হয়ে থাকলে হবে না। আমাদেরও কিছু করণীয় আছে। আমি আগেই বলেছি আমরা একজন একজন করে হারিয়ে যাচ্ছি। আগামী ১০ বছর পর আরও অনেকে চলে যাব।

“তাই আমরা বড় সমাবেশ করে সারা দেশে দেখিয়ে দিতে চাই, আমরা মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে আছি। বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযোদ্ধারা এখনও বেঁচে আছে। কাজেই কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, অপকর্ম যদি করতে চাও- আমরা জীবিত থাকতে তা হবে না।”

চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম বীরের জাতি। কখনই তারা পরাধীনতা মেনে নেয়নি। সেই বৃটিশ আমলের কথা- মাস্টার দা সূর্যসেন, প্রীতিলতার কথা এখনও আমরা স্মরণ করি।

“সবকিছুতেই চট্টগ্রাম অগ্রভাগে। আপনারা একত্রে থাকেন। তাহলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।”

স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, “বঙ্গবন্ধু ২৫ মার্চ রাত ১২টার সময় যে ঘোষণাটা দিয়েছিলেন ইপিআরের মাধ্যমে, সেই ঘোষণাটা তখনকার চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি হান্নান ভাই ২৬ মার্চ ঘোষণা করেছিলেন।

“অনেকেই অনেক কথা বলছেন, পারলে বঙ্গবন্ধুর নামটাও মুছে দেয়ার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। অনেক দৃশ্য দেখলাম, বঙ্গবন্ধু হত্যার দৃশ্য আমরা কোনো দিনও ভুলতে পারব না।”

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ছয় দিন ব্যাপী এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, “জিয়া-মোশতাক চক্রের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড হয়েছে। সেদিনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর্দার আড়ালে যারা ছিল, তাদের বিচার হয়নি।”

যাদের মদদে ১৫ অগাস্ট হয়েছিল ‘ট্রুথ কমিশন’ গঠন করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক খুনী চক্রের মুখোশ উম্মোচন করার দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফ্ফর আহাম্মদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার।

বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক