Published : 16 Dec 2025, 11:23 AM
ভোরের আলো ফুটতেই চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
বিজয় দিবসে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উত্তর কাট্টলীতে সাগর তীরের টোল রোড সংলগ্ন অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
এরপর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শুরু হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্যে দিয়ে এই চট্টগ্রাম থেকে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার মধ্যে দিয়ে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আজকের এই দিনে আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয়েছি।
“আজকে বিজয়ের এই দিনে স্মরণ করছি লাখো শহীদের যাদের জীবনের বিনিময়ে, মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছে, আমরা একটা লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছি। ৫৫ হাজার ১২৬ বর্গমাইল অধ্যুষিত একটি বাংলাদেশ পেয়েছি।”
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমাদের মানুষের মৌলিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় এখনো কাজ করে যেতে হচ্ছে। আমাদের স্বাধীনতাকে ধরে রাখতে হলে ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে মিলে একসাথে কাজ করতে হবে।”
অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে মেয়রের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার জিয়াউদ্দীন এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
এরপর একে একে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হুমায়ন কবির এবং চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন।
তারপর চট্টগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও কর্মকর্তারা স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এদিকে সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে দিনের কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
সেখানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শনীরর আয়োজন করা হয়েছে।
অন্যদিকে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নগরীর থিয়েটার ইন্সটিটিউটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।
বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
এছাড়া আউটার স্টেডিয়াম এবং লালদীঘি পাড়সহ বিভিন্ন জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে শিশু পার্ক, ডিসি পার্ক, জাদুঘর ও চিড়িয়াখানা শিশুদের জন্য সকাল-সন্ধ্যা উন্মুক্ত রাখা এবং বিনা টিকেটে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এছাড়া হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, ডে-কেয়ার, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, শিশু পরিবার, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র এবং ভবঘুরে পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্রীতিভোজের আয়োজন থাকছে।
জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও জেলা শিশু একাডেমিতে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গীর্জাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং জাতির শান্তি সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন থাকছে বিজয় দিবসে।