হাম: চট্টগ্রামে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩২ শিশু
চট্টগ্রামে গত ছয় দিনে দুই হাজার শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
চট্টগ্রামে গত দুই দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা আগের চেয়ে কিছুটা কমার কথা বলছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
পাশাপাশি গত ছয় দিনে দুই হাজার শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার তথ্য জানিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সী যেসব শিশু টিকা পায়নি তাদের সবাইকে টিকা দেওয়া হবে।
গত শনিবার জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে ২৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য জানিয়েছিল জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। এরপর রোববার নতুন ১৭ শিশু এবং সোমবার নতুন করে ১৪ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়।
সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু হাসপাতাপালে আসার যে ঊর্ধ্বগতি ছিল, সেটা কিছুটা কমেছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে শিশুরা বাড়িও ফিরছে। সোমবার পর্যন্ত ৩২ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
“পাশাপাশি আমরা টিকা কার্যক্রম শুরু করেছি। ১ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত ছয় দিনে প্রায় দুই হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ভ্যাকসিন কার্যক্রম চলবে।”
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুসারে, সোমবার চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৭৭ জন শিশু হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৭ জন শিশু ভর্তি আছে চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজ (চমেক) হাসপাতালে।
এ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, “আমাদের এখানে ৪৭ জন শিশু ভর্তি আছে। তার মধ্যে আইসিইউতে আছে ৯ জন। নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুরা ভর্তি হচ্ছে। আবার ডিসচার্জ নিয়ে অনেকে চলেও যাচ্ছে।
“আক্রান্তদের বেশিরভাগের বয়স ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে। যেহেতু টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে, তাই মাসখানেকের মধ্যে হয়ত সংক্রমণের হার কমে আসবে।”
হাসপাতালে আসা শিশুদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও নিউমোনিয়ার মত উপসর্গ আছে জানিয়ে হাসপাতালের পরিচালক বলেন, “চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু আমাদের কাছে আছে।”
সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ওয়ার্ড পর্যায়ে টিকাদান চলছে। ৯ মাস বয়সী যারা প্রথম ডোজ পায়নি এবং ১৫ মাস বয়সী যারা দ্বিতীয় ডোজ পায়নি তাদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।
“স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে টিকা দিচ্ছেন। নগরীতে এবং উপজেলায় একসাথে টিকাদান কর্মসূচি চলছে। এই বয়সের শিশুদের অভিভাবকদের স্বাস্থ্য কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
হাম শনাক্ত ৮ শতাংশের
চট্টগ্রাম জেলা থেকে এখন পর্যন্ত যত শিশুর নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে তার মধ্যে সিংহভাগের ফলাফল এসে পৌঁছেছে।
সোমবার পর্যন্ত জেলা থেকে ২৫১ জনের নমুনা পাবলিক হেলথ ইনস্টিটিউটের (আইপিএইচ) ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস-রুবেলা ল্যাবরেটরি-এনপিএমএলে পাঠানো হয়।
এরমধ্যে ২৩১ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পেয়েছেন জানিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, এখন পর্যন্ত ১৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
চট্টগ্রামের হামের নমুনা পরীক্ষার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ফৌজদারহাটে বাংলাদেশে ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)-এ একটি বড় ল্যাব আছে। ঢাকার এনপিএমএল থেকে অনুমতি পেলে সেখানে হাম শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা যাবে।
“এজন্য আমরা ঢাকায় যোগাযোগ করেছিলাম ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে। তারা জানিয়েছেন, ঢাকার বাইরে বিভাগীয় পর্যায়ে নমুনা শনাক্তের অনুমতি দেওয়া হলে চট্টগ্রামকেও দেওয়া হবে।”
এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন কক্সবাজার জেলার এবং অন্যজন নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা।
পুরনো খবর
