রামমোহন রায় বাংলায় আধুনিক যুগের স্রষ্টা: অনুপম

“তিনি যে আধুনিক চিন্তার প্রবর্তন করে গেছেন সেজন্যই তিনি অসাধারণ।’

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 Sept 2022, 07:46 PM
Updated : 15 Sept 2022, 07:46 PM

বাংলায় রেনেসাঁর প্রাণপুরুষ রাজা রামমোহন রায়কে এই ভূখণ্ডে ‘আধুনিক যুগের স্রষ্টা’ বললেন সমাজজ্ঞিানী ড. অনুপম সেন।

রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশত জন্ম বর্ষ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরীর নন্দনকাননে শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফুলকি’র এ কে খান মিলনায়তনে আবুল ফজল স্মৃতি সংসদের আলোচনা সভায় একথা বলেন তিনি।

অনুপম সেন বলেন, “আজ রাজা রামমোহন রায় প্রায় বিস্মৃত। উনার সময়কে আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে। ১৭৭২ এর মে মাসে উনার জন্ম। ১৭৮৯ সালে তিনি দেখছেন ফরাসি বিপ্লব।

“রেঁনেসা, রিফরমেশন ও এনলাইটেনমেন্ট এ তিন ধারার প্রভাব তার চিন্তায় ছিল। আমি তাকে রেঁনেসাসের মহাপুরুষ মনে করি। তিনি ইংল্যান্ডে গিয়ে ঘোষণা দিলেন, রিফর্ম বিল পাস না হলে ইংল্যান্ডেই থাকবেন না। তিনি এতটা স্বাধীনচেতা ছিলেন। তাকে ইংল্যান্ডের পার্লামেন্টে সদস্য করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল তার আগেই তিনি মারা যান।”

ড. অনুপম বলেন, “বেদেও প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছিল- প্রথম সৃষ্টির কারণ কী? অথচ পরে সব প্রশ্নকে তথাকথিত ধর্ম শাস্ত্র বন্ধ করে দিয়েছিল। রামমোহন আবার প্রশ্ন তুলেছিলেন।

“তিনি যে আধুনিক চিন্তার প্রবর্তন করে গেছেন সেজন্যই তিনি অসাধারণ। তিনি আমাদের আধুনিক যুগের স্রষ্টা। তাকে সম্মান করলে আমরা জ্ঞান ও যুক্তিকে সম্মান করব। এগিয়ে যাওয়াকে মূল্য দিব।”

সভায় কবি-সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, “রবীন্দ্রনাথ রামমোহনকে ভারত পথিক বলেছেন। আমরা বলি তিনি বিশ্ব পথিক। রামমোহন সেসময়ে প্রথম ব্যক্তি তিনি যুক্তি ও বিচারে বিশ্বাসী ছিলেন।

“তিনি প্রশ্ন তুলে বিতর্কমূলক গ্রন্থ রচনা করেছেন। যুক্তি দিয়ে ভাবার মানসিকতা ও বাংলা গদ্যের উৎকর্ষ হয় এতে। সামাজিক চিন্তা ও সাংস্কৃতিক স্থবিরতাকে তিনি আঘাত করেন।”

সভায় অধ্যাপক গোলাম মুস্তফা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “রামমোহন শাস্ত্র নিরপেক্ষ দৃষ্টি দিয়ে যুক্তিবাদের চর্চা করেছিলেন। উনার ২৫০তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগ কোনো আয়োজন করেনি। এমনকি বাংলা একাডেমিও কোনো প্রকাশনা করেনি।”

কানাই দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ রীতা দত্ত, প্রকৌশলী বিধান বড়ুয়া, কলামনিস্ট কামরুল হাসান বাদল, সাংবাদিক ওমর কায়সার ও অধ্যাপক মাছুম আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক