১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রামে সবজি আলুতে ‘স্বস্তি’, বেড়েছে মুরগির দাম

সবজির দামে স্বস্তির কথা বললেও মুরগির দাম বাড়ার কারণ নিয়ে ধন্দে ক্রেতারা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Dec 2024, 06:51 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:09 AM

চট্টগ্রামের কাঁচা বাজারগুলোতে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়া সঙ্গে সপ্তাহের ব্যবধানে দামও কমেছে। উর্ধ্বমুখী থাকা আলুর দামও কমেছে। তবে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দর। 

শুক্রবার সকালে রেয়াজুদ্দিন বাজার, কাজীর দেউড়ি বাজার ও মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার ভ্রাম্যমাণ দোকান যাচাই করে সবজির দামের নিম্নমুখীতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে বাজার ও মানভেদে বিভিন্ন সবজির দামে কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য দেখা গেছে। 

নগরীর রেয়াজুদ্দিন বাজারে নতুন আলু আকারভেদে বিক্রি হচ্ছিল প্রতিকেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়, পুরাতন আলু ৬০ টাকায়। শীতকালীন সবজির মধ্যে ফুলকপি মানভেদে প্রতিকেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, বাঁধাকপি প্রতিকেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা, মুলা ২৫ থেকে ৩০ টাকায় কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। 

এছাড়া শালগম প্রতিকেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, শিম ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, শিমের বিচি ২২০ টাকা, টমেটো ৮০ থেকে ৯০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। 

বছরজুড়ে পাওয়া যায় এমন সবজির মধ্যে বরবটি ৮০ টাকা কেজি, করলা ১০০ টাকা, পেপে ৫০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

এই বাজারে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। আর ধনে পাতা প্রতি আঁটি (৪০০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকায়।  

আগের সপ্তাহের শুক্রবার পুরাতন আলু প্রতিকেজি ৬৫ টাকা, নতুন আলু ৮৫-৯০ টাকা, ফুলকপি প্রতিকেজি ৪০-৫০ টাকা ও বাঁধাকপি কেজি ৩০-৪০ টাকা, প্রতিকেজি শিম ৬০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ১১০-১২০ টাকা, বেগুন ৫০-৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪৫-৫০ টাকা, মুলা ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল।

রেয়াজুদ্দিন বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা শুক্রবার আবদুল আলীম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত শীতকালীন সবজি এসেছে, সে কারণে দামও আগের চেয়ে কমেছে। সব ধরণের সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১৫টাকা পর্যন্ত কমেছে। 

শুক্রবার এই বাজার থেকে দেড় কিলোমিটার দূরের কাজীর দেউড়ি বাজারে প্রতিটি সবজির দর প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি দেখা গেছে। নগরীর মোমিন রোড, পাথরঘাটা, সদরঘাট, চৌমুহনী এলাকার সবজির ভ্যানগুলোতে শীতকালীন সবজির দর নিম্নমুখী হলেও রেয়াজুদ্দিন বাজারের চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি দেখা গেছে। 

রেয়াজুদ্দিন বাজারে সবজি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী এহসান উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শীতকালীন সবজির দাম কমলেও টমেটো ও আলুর দাম এখনো বেশি পড়ছে, দাম আরও কমা উচিত। শীতকালীন সবজির দরের এই স্বস্তি কতদিন থাকে সেটা দেখার বিষয়।”

কাজীর দেউড়ি বাজারের বিক্রেতা রহিম বলেন, টমেটো ও আলুর সরবরাহ দিন দিন বাড়ছে, এতে করে সামনে এই দুই সবজির দাম আরও কমবে।

শীতকালীন সবজির দাম নিম্নমুখী থাকলেও ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা বাড়তির দিকে। রেয়াজুদ্দিন বাজারে মাঝারি আকারের ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। 

আর সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। উভয় প্রকারের মুরগি এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত।   

রেয়াজুদ্দিন বাজারের বিক্রেতা হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের কেনা বেশি পড়েছে, সে কারণে বিক্রিতে দামও সামান্য বাড়তি পড়ছে।” 

মুরগি কিনতে আসা শরিফ হাসান বলেন, “কখন কী কারণে বাড়তি দাম, সেটা বোঝা মুশকিল।”