Published : 30 Oct 2025, 09:56 PM
বন্দর নগরী চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে যানবাহনের গতিসীমা বিষয়য়ক প্রচারাভিযান।
বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর টাইগারপাসে অস্থায়ী নগর ভবনে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন এই ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেন।
‘মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা ২০২৪’ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ‘ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি’ (বিআইজিআরএস) এ উদ্যোগ নিয়েছে।
চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তায় বিআইজিআরএসের কার্যক্রম তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটির এনফোর্সমেন্ট কোঅর্ডিনেটর কাজী হেলাল উদ্দিন বলেন, “বিশ্বের ২৭টি শহর বিআইজিআরএস কর্মসূচির আওতায় রোড ক্র্যাশজনিত অকালমৃত্যু ও পঙ্গুত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
“বিশ্বব্যাপী সড়ক নিরাপত্তায় গতি নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, ৫ শতাংশ গতি কমালে রোড ক্র্যাশের ঝুঁকি কমে ৩০ শতাংশ। গতির কারণে রোড ক্র্যাশের ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি রোড ক্র্যাশের ভয়াবহতাও বাড়ে। এজন্য গতিসীমা নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।”
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “বর্তমানে সড়কে ব্যাটারি-চালিত রিকশা অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে, যেগুলো গতি নিয়ন্ত্রণ করে চলতে পারে না। এদের অনিয়ন্ত্রিত গতি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে এসব ঝুঁকিপূর্ণ যান নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করছি।
“এছাড়া টিএনজ গ্রুপের একটা প্রবণতা আছে, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এবং গাড়ির রেস করা। এটা হরমোনাল প্রবলেম। একটা নির্দিষ্ট বয়সে তাদের হরমোনাল ইমব্যালান্স হয়। সেসময় তারা জোরে গাড়ি চালাতে চায়, রেসিং করে। এই শহরে বড় বড় সড়কে রেসিং করতে গিয়ে মারাও গেছে। এটা এইজ ফ্যাক্টর।”
বিআইজিআরএসের এনফোর্সমেন্ট কোঅর্ডিনেটর কাজী হেলাল উদ্দিন বলেন, “২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরীতে ৩৬২টি রোড ক্র্যাশে ২৯৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন ১১ শতাধিক।”
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) লিয়াকত আলী খান বলেন, “নগরীতে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগে কাজ করছে পুলিশ। সিটি করপোরেশনের সাথে আমরা একযোগে কাজ করছি। গতিসীমা মেনে চলতে চালকদের উদ্বুদ্ধ করতে এই ক্যাম্পেইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”
ক্যাম্পেইনে কারিগরী সহায়তাদানকারী জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন বিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের কারিগরী উপদেষ্টা আমিনুল ইসলাম সুজন বলেন, “এ ক্যাম্পেইনের মধ্যে রয়েছে ৩০ সেকেন্ড, ৪৫ সেকেন্ড, ১ মিনিট ও ৯০ সেকেন্ড ব্যাপ্তির ভিডিওচিত্র। এগুলো ওয়েবসাইট, ইউটিউব, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং সড়কে ডিজিটাল স্ক্রিনে দেখানো হবে।
“ভিডিওচিত্রে রোড ক্র্যাশে নিহত তরুণ সংগঠক ও রাজনীতিক আরিফুল ইসলামের সহধর্মিনী রেবেকা সুলতানা নীলা অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি তার ও তাদের সন্তানের প্রিয় মানুষকে হারানোর বিষয়টি ও পরবর্তী অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।”
অনুষ্ঠানে বিআরটিএ, সিএমপি, সিডিএ, ইপসার কর্মীদের পাশাপাশি সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।