প্রাণ ফিরেছে চট্টগ্রামের সড়কে
যাত্রী নিয়ে দূরপাল্লার বাসও ছেড়ে গেছে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে।
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে নজিরবিহীন সংঘাত-সহিংসতা, কারফিউ এবং তিন দিনের সাধারণ ছুটির পর বুধবার চট্টগ্রাম নগরীর সড়কে স্বাভাবিক সময়ের দৃশ্য দেখা গেছে।
বুধবার শহরের বিভিন্ন সড়কে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। চলেছে বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি, অটোরিকশাসহ সব ধরনের যানবাহন। এছাড়া যাত্রী নিয়ে দূরপাল্লার বাসও ছেড়ে গেছে বিভিন্ন গন্তব্যে। সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ খুলেছে ব্যাংক-বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
বুধবার সোহাগ পরিবহন চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপক মো. আবদুল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকাল থেকে ঢাকাসহ দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটের বাস ছেড়ে গেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত নিয়মিত বাস ছাড়ার শিডিউল আছে। রাতে বাস ছাড়বে কিনা সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।”
দামপাড়া বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা, কক্সাবাজারসহ বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি রাঙামাটি ও বান্দরবানসহ পার্বত্য জেলাগুলোর বাস চলেছে।
গণপরিবহন চলাচল নিয়ে বেলা সাড়ে ১২টায় নগর ভবনে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী।
নগর পুলিশের কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার অতনু চক্রবর্তী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।”
স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বিভিন্ন চট্টগ্রামের উপজেলার পরিবেশও।
হাটহাজারী উপজেলার সরকার হাটের বাসিন্দা বিকাশ কান্তি চৌধুরী বলেন, “সকালে সরকার হাট বাজারের সব দোকানপাট খুলেছে। ব্যাংক-অফিসগুলোও খুলেছে। শহরমুখী বাসও চলাচল করছে। সবকিছু স্বাভাবিক আছে।”
খুলেছে সব পোশাক কারখানা
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম ইপিজেড ও কর্ণফুলী ইপিজেড বাদে চট্টগ্রামের বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানা চালু হয়। বিজিএমইএর হিসাবে এদিন তাদের সদস্যভুক্ত ৮০ শতাংশ কারখানা চালু হয়েছিল।
আর বুধবার সকাল থেকেই চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা (সিইপিজেড) ও কর্ণফুলী ইপিজেডের সবকটি কারখানায় কাজ শুরু হয়। এসব কারখানায় ইন্টারনেট সুবিধাও মিলেছে।
বিজিএমইএর সহসভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, “আমাদের শতভাগ কারখানা খুলেছে। সব শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছে।”
সহিংসতার কারণে কারখানা বন্ধ থাকায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি আটকে থাকা রপ্তানিপণ্য ভর্তি কন্টেইনারের ডেমারেজ চার্জ কমানোর দাবি জানান তিনি।
এদিকে চট্টগ্রাম ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক মো. আবদুস সোবহান বলেছেন, কারকাখানায় কাজের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
কর্ণফুলী ইপিজেডের কারখানাও চালু হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের মহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন।
