১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রামে বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪ জনের অবস্থা ‘গুরুতর’, শঙ্কামুক্ত নয় অন্যরাও

বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ১০ জনেরই শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Sep 2025, 05:20 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:19 PM

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে সিলিন্ডারের গোডাউনে বিস্ফোরণে দগ্ধদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, তাদের অবস্থা ‘গুরুতর’।

দগ্ধ অপর ছয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের অবস্থাও ‘শঙ্কামুক্ত নয়’।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক এস খালেদ বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দগ্ধদের শারীরিক সবশেষ অবস্থার কথা জানিয়েছেন।

গুরুতর চারজনের মধ্যে মাহবুবুর রহমানের (৪৫) শরীরের ৫০ শতাংশ, মো. ইউসুফের (৩২) শরীরের ৬৭ শতাংশ, মো. ইদ্রিসের (২৭) শরীরের ৬০ শতাংশ এবং রিয়াজের (২০) শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের সবার শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাকি ছয়জনের ব্যাপারে এস খালেদ বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি থাকলেও তাদের অবস্থা ‘শঙ্কামুক্ত নয়’। কারণ বিস্ফোরণের ঘটনায় তাদের সকলেরই শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আকিবের ৪০ শতাংশ, সৌরভের ৩০ শতাংশ, কফিল উদ্দিন ৪৫ শতাংশ, হারুণ ৪৫ শতাংশ, সালেহ ৪৫ শতাংশ এবং লিটনের ২০ শতাংশ পুড়েছে বলে বার্ন ইউনিটের চিকিৎসরা জানিয়েছেন।

অনুমোদন নেই

চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী ইউনিয়নের মাহবুবুর রহমানের মালিকানাধীন গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউনে বুধবার সকালে সিলিন্ডার ‘লোড-আনলোডের’ সময় বিস্ফোরণ হয়। তাতে গোডাউন মালিকসহ ১০জন দগ্ধ হন। গোডাউনটি চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলার সীমানার মধ্যে অবস্থিত।

বিস্ফোরণের পর বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সেখানে যায় বিস্ফোরক অধিদপ্তরের একটি দল।

বিস্ফোরক অধিদপ্তর বলছে, গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউনটির কোনো ‘অনুমোদন ছিল না’। গোডাউনটিতে সিলিন্ডার লোড আনলোডের বদলে ‘ক্রস ফিলিং’ করা হচ্ছিল বলে তাদের ধারণা। 

সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। সেখানে অনেক সিলিন্ডার ছিল। কিন্তু গুদামজাত বা বিক্রির জন্য কোনো লাইসেন্স তারা বিস্ফোরক অধিদপ্তর থেকে নেয়নি।”

তিনি বলেন, “ওই গোডাউনে গ্যাস ‘ক্রস ফিলিং’ করা হচ্ছিল বলে আমাদের প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

‘ক্রস ফিলিং’ হচ্ছে কটি বড় বা সমপরিমাণের সিলিন্ডার থেকে অপর সিলিন্ডারে গ্যাস স্থানান্তর করা। এ প্রক্রিয়া শুধু সিলিন্ডার ভরার মূল কোম্পানিতে করা হয়ে থাকে।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যে গোডাউনে বিস্ফোরণ হয়েছে তার একটি অংশ সাতকানিয়া অংশে পড়লেও মালিক চন্দনাইশের। এ দুর্ঘটনার পর আমরা সাতকানিয়া এলাকায় এ ধরনের যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করব।”

চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব হোসেনও অবৈধভাবে পরিচালিত এমন কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।