Published : 06 Nov 2025, 02:08 AM
নিজ দলের প্রার্থীর গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর চট্টগ্রামের সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেছেন, "এতদিন শহরটা নিরাপদ ছিল। গত ১ মাস আমরা দেখতে পাচ্ছি, শহরটা আস্তে আস্তে অনিরাপদের দিকে যাচ্ছে।“
নির্বাচনকে সামনে রেখে একটা চক্র তা বিলম্বিত করতে এটা করে থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বুধবার মধ্যরাতে নগরীর কুয়াইশ এলাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি নেতা চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহকে দেখতে এসে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এদিন সন্ধ্যায় নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলি এলাকায় এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগে গুলিতে নিহত হন পুলিশের তালিকাভুক্ত 'শীর্ষ সন্ত্রাসী' সরোয়ার বাবলা। এ ঘটনায় এরশাদ উল্লাহসহ আরও চারজন গুলিবিদ্ধ হন।
রাত ১২টার পর হাসপাতালে তাদের দেখতে গিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতা শাহাদাত বলেন, "পুলিশের গোয়েন্দা শাখা- ডিবি ও এসবি, সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই ও এনএসআই আছে। তাদের কাছে নিশ্চয় গোয়েন্দা রিপোর্ট আছে। তাদের সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"
তিনি বলেন, "আমরা মনে করি নির্বাচন কমিশনের এ ব্যাপারে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে কারণ এরশাদ উল্লাহ ভাই একজন প্রার্থী। সমস্ত প্রার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে প্রচার করতে পারে। নির্বাচন কমিশনকে সেই ব্যবস্থাটা অবশ্যই করে দিতে হবে।
"নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর করার জন্য অবশ্যই সন্ত্রাসীদেরকে গ্রেপ্তার করতে হবে।"

মেয়র বলেন, "এটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটা কাজ। এতগুলো মানুষের মধ্যে, প্রফেশনাল কিলার ছাড়া এটা কখনো সম্ভব নয়। আমি ভিডিওটা দেখেছি। কিভাবে খুব ঠান্ডা মাথায় ঘাড়ের পিছনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।"
পেশায় চিকিৎসক শাহাদাত বলেন, "আমি এরশাদ উল্লাহ ভাইকে দেখে আসলাম, বুলেটটা উনার পেটের বাম সাইড থেকে ডান সাইডে বেরিয়ে গেছে। উনাকে এইচডিইউতে রাখা হয়েছে। উনার সাথে কথা বলেছি।
"তবে এটা খুব রিস্কি ছিল। উনি কিন্তু স্ট্যান্টিং করা এবং পেসমেকার আছে উনার। একজন পেসমেকারের রোগীর জন্য যে এটা কত রিস্কি হতে পারে।"
তিনি বলেন, "আরেকজন যে শান্ত, সে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা। সে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। তার অবস্থা খুবই খারাপ। কারণ তার বুলেটটা বাম দিক থেকে ভোকাল কর্ড ছেদ করে সেখানে গুলিটা আটকে ছিল। ডাক্তাররা গুলিটা বের করেছে। ডাক্তারদের ধন্যবাদ। উনারা অনেক প্রফেশনালি ও স্কিলফুলি কাজটা করেছে। কিন্তু এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। সে আইসিইউতে আছে।"
সাম্প্রতিক আরেকটি খুনের ঘটনা তুলে ধরে মেয়র শাহাদাত বলেন, "আমি বেশ কিছুদিন ধরে বলছিলাম, শহরটাকে কিছু সন্ত্রাসী অনিরাপদ করতে চায়। কিছুদিন আগে এক্সেস রোডে সাজ্জাদকে হত্যা করা হয়েছে। তার আগে আমি প্রশাসনকে বারবার বলেছি, এসব সন্ত্রাসীরা চিহ্নিত, তাদেরকে গ্রেপ্তার করুন। যদি এরেস্ট না করে তাহলে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে।
"কারণ এদেরকে গ্রেপ্তার না করলে এদের সাহস কিন্তু দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের ছাড় দেয়ার কোন দরকার নেই। তাদেরকে আইনের আওতায় আনতেই হবে।"
তিনি বলেন, "৫ অগাস্টের পরে আমি বারবার বলেছি, থানা লুট করেছে, তাদের প্রচুর অস্ত্র ১৬ বছর ধরে মজুদ করেছে। এই অবৈধ অস্ত্রগুলো কিন্তু উদ্ধার হয় নাই। আমরা যেভাবে চিন্তা করেছিলাম, ৫ অগাস্টের পর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হবে। সেগুলো কিন্তু রয়ে গেছে।
"ছাত্রলীগ যুবলীগের তৃণমূলের ক্যাডাররা এখনো বাংলাদেশে ও চট্টগ্রামে অবস্থান করছে। এবং তারা কোন না কোন ভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করছে।"
সন্ত্রাস দমনে সেনা অভিযান চান কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র শাহাদাত বলেন, "সেটা আরো পরে। এখনই যদি তারা মাঠে নামে তাহলে পুলিশ বাহিনী তো বিতর্কিত হয়ে যাবে।”