Published : 12 Jan 2026, 07:38 PM
গণতন্ত্র ও নির্বাচনসহ বেশ কিছু বিষয়ের পরিবর্তনের জন্য গণভোটকে ‘দুর্লভ সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী।
তিনি বলেছেন, “কিছু ডিজাইনগত পরিবর্তন আমাদের পার্মানেন্টলি করার একটা সুযোগ আছে। এই গণভোটের যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট হয়, সেটার মাধ্যমে।
“এটা নিয়ে আমি খুবই এক্সসাইটেড। আমি মনে করি এটা (গণভোট) একটা উৎসব।”
সোমবার বিকালে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে ডিসি পার্কে ‘চট্টগ্রাম জেলায় গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিবর্তনের ক্ষেত্রগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “গণভোটের সুযোগটা আসলে একটা খুবই ‘দুলর্ভ সুযোগ’ আমাদের সামনে আছে। মনে রাখতে হবে, অনেক আহত নিহত শহীদদের আত্মত্যাগের কারণে এটা আমাদের সামনে আছে।
“এর মাধ্যমে গণতন্ত্রের সংজ্ঞাটা বদলে দেওয়ার সুযোগ আছে। মানে গণতন্ত্র বলতে আমরা কী বুঝি? এটাই যে, প্রতি পাঁচ বছর পরপর আমাদের ভোট দিয়ে আগামী পাঁচ বছরে কে আমাদের স্বৈরাচার হবে, এটা তো গণতন্ত্র না। এই পাঁচ বছরের মধ্যে শোষক না হয়ে কীভাবে সেবক হতে পারে আমাদের নেতারা, সেটার একটা ‘রিডিজাইন’ করার উদ্যোগ হয়েছিল ঐকমত্য কমিশনের জুলাই সনদে। সেই জুলাই সনদের পর সিদ্ধান্তগুলো এখন আমাদের সামনে আছে।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রসঙ্গে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, “এই নির্বাচনটা তো হয়ে যাবে। এই গণভোটটা আগামী সব নির্বাচনের জন্য প্রযোজ্য। এর পরের নির্বাচনটা কীভাবে হবে, কার অধীনে হবে? তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে।
“নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা কী রকম হবে। বিচার ব্যবস্থার সক্ষমতা কী রকম হবে। এগুলো আমরা এই গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করার একটা সুযোগ আছে। যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হয়, তাহলে কি এমনই হবে যে- যখন আমরা ফুটবল খেলি রেফারিটা খেলোয়াড়ের মধ্যে থেকে একজন আসবে বা যে টিম গতবার খেলায় জিতেছিল ওরা তারপর রেফারি নির্ধারণ করবে। এটা তো ঠিক না। তো একটা যে নিরপেক্ষ রেফারি থাকবে আগামী সব খেলায়, এটা হল একটা পয়েন্ট।
“আরেকটা হল উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ, একটা যেন ভারসাম্য থাকে। ‘উইনার টেক অল’, এটা যেন না হয়। কিছুটা যেন ‘লিমিট’ থাকে, ‘কন্ট্রোল’ থাকে। এজন্য যেমন পার্লামেন্টে ডেপুটি স্পিকার বিরোধীদল থেকে হতে পারে। পার্লামেন্টে সিলেক্ট কমিটি যেগুলো হয়, এই কমিটির কিছু কিছু চেয়ারম্যান যেন বিরোধী দল থেকে আসে।”
গণভোটের প্রচার যথেষ্ট মনে করছেন কিনা, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “অনেক ক্রিয়েটিভলি করা হচ্ছে। গান দিয়ে, কার্টুন এঁকে, সেমিনার করে, বৈঠক করে, অনেক ধরনের আলাপ হচ্ছে। আরও বেশি প্রচার করা উচিত। আমরা করছি সরকার থেকে। আপনাদের সবার করা উচিত নিজ নিজ দৃষ্টিকোণ থেকে।”
গণভোটের বিষয়ে বিদেশি চাপ আছে কিনা, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “না, চাপ তো নাই, বরঞ্চ এটাতেও অনেক আগ্রহ আছে।”
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “…আমরা বসে নেই। আমরা চাই, ‘ইট হ্যাজ টু বি দ্য বেস্ট ইলেকশন ইন দ্যা হিস্ট্রি অব দ্যা কান্ট্রি’।”
চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।