১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আমরা রাস্তা বানাব আর অন্য সংস্থা রাতে কেটে ফেলবে? ক্ষোভ রেজাউলের

শুধু হোল্ডিং ট্যাক্স দিয়ে চট্টগ্রামের মত বড় শহর চলতে পারে না মন্তব্য করে অন্য সরকারি সংস্থার আয়ের অংশ চেয়েছেন মেয়র।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Jul 2023, 08:51 PM

Updated : 27 Jul 2023, 08:51 PM

প্রকল্প নিয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, “দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া জনসংখ্যা আর জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের চাপে পিষ্ট চট্টগ্রামকে বসবাসের উপযোগী রাখতে প্রয়োজন সব সরকারি সংস্থার সমন্বয়। আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

“অন্য সরকারি সংস্থাগুলোকে সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় প্রকল্প গ্রহণ করতে হলে অনাপত্তিপত্র নিতে হবে। আমরা রাস্তা বানাব আর অন্য সংস্থা রাতের আঁধারে রাস্তা কেটে ফেলবে, এভাবে পরিকল্পিত চট্টগ্রাম গড়া সম্ভব নয়।"

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে নগর সংস্থার সভায় বন্দরনগরীর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন রেজাউল করিম চৌধুরী।

মেয়র বলেন, “চট্টগ্রামে বর্তমানে জনসংখ্যা ৭০ লক্ষ, যা আবার প্রতিদিন বাড়ছে। এই বাড়তি চাপ মোকাবিলায় সবগুলো সরকারি সংস্থা জনসাধারণকে সাথে নিয়ে কাজ না করলে নিকট ভবিষ্যতেই চট্টগ্রাম বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।"

কেবল হোল্ডিং ট্যাক্স দিয়ে চট্টগ্রামের মত বড় শহর চলতে পারে না মন্তব্য করে মেয়র রেজাউল বলেন, “আমি মন্ত্রণালয়ে বলেছি বন্দরে প্রত্যেক কন্টেইনার থেকে চার্জ আদায় করতে হবে, কাস্টমসে পৃথক চার্জ আরোপ করতে হবে।

“অন্য সংস্থাগুলো আয়ের একটি অংশ সিটি করপোরেশনকে দিলে সে টাকা দিয়ে চট্টগ্রামের অবকাঠামো উন্নয়নের গতি বাড়ানো সম্ভব, যা চট্টগ্রামে শিল্পায়ন বাড়াবে। আয় বাড়াতে আমাদের বিদ্যমান ভবনগুলোর উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হবে, কাজে লাগানো হবে পতিত ভূমিগুলোকে।"

নগরীর সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক বিভাগের সহযোগিতা চেয়ে মেয়র রেজাউল বলেন, “চট্টগ্রামের অধিকাংশ এলাকায় যথেষ্ট রাস্তা থাকলেও যানজট হচ্ছে, যার মূল কারণ অবৈধ পার্কিং। আমি কলকাতায় নিউ মার্কেটে দেখেছি সেখানে রাস্তা প্রশস্ত না হলেও ১০০ রুপি দিয়ে পে-পার্কিং চালু করা হয়েছে। কিন্তু  চট্টগ্রামে এই পে-পার্কিং চালু করতে গেলে কিছু মানুষ দুর্ঘটনার ভয় দেখায়।

“অথচ পোর্ট কানেক্টিং রোডে রাতদিন ডবল লাইন করে অবৈধভাবে ট্রাক-লরি দাঁড়িয়ে থাকে। এসব গাড়ি থেকে চুঁইয়ে পড়া তেলে রাস্তার বিটুমিন ক্ষয়ে যাচ্ছে। মাঝিরঘাটে রাস্তায় ৩০-৪০ টনের গাড়ি চলে নতুন রাস্তা নষ্ট করে ফেলেছে। আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের নীচে দিনরাত গাড়ি পার্কিং করা থাকে।"

অবৈধ দখলবাজির কারণে ফুটপাতে মানুষ হাঁটতে পারে না উল্লেখ করে মেয়র রেজাউল বলেন, “এমনকি একটি সংস্থা ফুটপাত দখল করে চশমার দোকান, খাবারের দোকান বসিয়ে ফেলেছে। আমরা সকালে উচ্ছেদ করি, দখলদাররা সন্ধ্যায় আবার দোকান বসায়।

“সিএমপি কমিশনারকে বলেছি- প্রতিটি থানা পুনরূদ্ধার করা ভূমি সংরক্ষণে মনিটরিং করলে সাফল্য আসবে। শহরে অবৈধ মোটর রিকশা অনেক বেড়ে গেছে। এগুলো দুর্ঘটনা আর লোড শেডিং বাড়াচ্ছে, সড়কের গতি কমাচ্ছে। পুুলিশের উচিত কঠোর অভিযান চালিয়ে মোটর রিকশা নিয়ন্ত্রণে রাখা।"

সভায় সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল আসলাম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও ওয়ার্ড কাউন্সিররা উপস্থিত ছিলেন।