১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হবিগঞ্জে ‘হামলার প্রতিবাদে’ সমাবেশ: চট্টগ্রামে এনসিপি ও বিএনপি নেতার্মীদের মধ্যে উত্তেজনা

পুলিশ সদস্যরা মাঝখানে দাঁড়িয়ে দুই পক্ষকে শান্ত করেন।

হবিগঞ্জে ‘হামলার প্রতিবাদে’ সমাবেশ: চট্টগ্রামে এনসিপি ও বিএনপি নেতার্মীদের মধ্যে উত্তেজনা
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের হট্টগোল ও কথাকাটাকাটি হয়।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Jul 2026, 07:30 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:45 PM

হবিগঞ্জে নেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের হট্টগোল ও কথাকাটাকাটি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। পরে দুই পক্ষই প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে।

আগের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলা হয়। এ সময় সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কয়েকজন আহত হন।

এ হামলার জন্য ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দায় করে এনপিসি। এ ঘটনার প্রতিবাদে সারাদেশে বুধবার প্রতিবাদ সমাবেশ ডাকে এনসিপি।

হবিগঞ্জে ‘বিএনপির সন্ত্রাসীদের দ্বারা এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে’ ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে চট্টগ্রাম মহানগর শাখা এনসিপি। 

সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিনসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সমাবেশ শুরু হয়। এরপর আরিফ মঈনুদ্দিনের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়। 

সমাবেশ চলাকালে প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও জামালখান ওয়ার্ড বিএনপি নেতা শাহেদ বক্সের নেতৃত্বে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত হন।

সমাবেশ শেষ করে এনসিপি নেতাকর্মীরা প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল নিয়ে জামালখান মোড়ের দিকে রওনা হন। জামালখান মোড় ঘুরে মিছিলটি চেরাগী পাহাড় মোড়ের দিকে এগিয়ে যায়। 

এসময় এনসিপির মিছিল থেকে, ‘বিএনপি সন্ত্রাস’, ‘সন্ত্রাসের আস্তানা এই দেশে, হবে না’, ‘বিপ্লবীরা হারে না, তারেক কি জানে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। 

মিছিলটি সড়কের সিঁড়ির গোড়া অংশে পৌঁছে ইউটার্ন নিয়ে আবার প্রেস ক্লাবের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। 

এসময় এনসিপি নেতা আরিফ মঈনুদ্দিনকে থামায় বিএনপি নেতা শাহেদ বক্সসহ কয়েকজন। অল্প কিছুক্ষণ কথা বলার পর আরিফ মঈনুদ্দিন সেখান থেকে সরে এগিয়ে যাওয়া মিছিলের দিকে যাচ্ছিলেন। 

তখন মিছিলে থাকা এনসিপি নেতাকর্মীরা পিছনে ফিরে আরিফ মঈনুদ্দিনকে আটকে রাখার বিষয়টি দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। তখন পুলিশ সদস্যরা মাঝখানে দাঁড়িয়ে তাদের শান্ত করেন। 

পরে এনসিপির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে অবস্থান নেন। অদূরেই বিএনপির নেতাকর্মীরাও দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখায়। কয়েক মিনিট পর দুই পক্ষই সরে যায়। 

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা শাহেদ বক্স বলেন, “আমরা স্থানীয়। আমরা চিনি, কারা কে। এখানে ছাত্রলীগের ছেলেরা ঢুকতে পারত। ছাত্রলীগকে ঠেকানোর জন্য আমরা দাঁড়িয়েছি। ওদেরকে (এনসিপি) কিছু করার জন্য দাঁড়াইনি। 

“আরিফ মঈনুদ্দিনের সাথে আমি মিছিলের আগেও কথা বলেছি। ওনাকে অনুরোধ করেছিলাম মিছিল না করতে। উনি বলেছেন, ভিডিও ফুটেজ নেবার জন্য একটু মিছিল করবেন। ওনাকে বলেছি চেরাগী পাহাড় না যাবার জন্য। মিছিল শেষ করে ওনারা প্রেস ক্লাবের দিকে চলে যাচ্ছিলেন। এসময় তার সাথে আমরা কথা বলছিলাম। ওরা (এনসিপি কর্মীরা) শুধু শুধু দৌড়ে এসেছে।” 

ঘটনার বিষয়ে এনসিপি নেতা আরিফ মঈনুদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের কর্মসূচির শেষের দিকে বিএনপির শাহেদ বক্সসহ কয়েকজন আমাকে ঘিরে ধরে। এরআগে সমাবেশ চলাকালেও তারা উস্কানিমূলক কথা বলেছিল। 

“পরে আমাকে আটকে রাখলে আমি তাদের জিজ্ঞেস করি, কেন পথ আটকেছেন। তখন তারা বলে তারেক রহমানকে নিয়ে আমরা নাকি উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছি। কটুক্তি করেছি। জবাবে আমি বলেছি, কোনটা উস্কানি আর কোনটা কটুক্তি সেটা কি আপনারা ঠিক করবেন? এসময় আমাদের ছেলেরা এগিয়ে আসলে তারা পিছু হটে।” 

ঘটনার পর এনসিপি নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে গণি বেকারী মোড়ের দিকে চলে যায়। এসময় মিছিলে পুলিশ প্রহরা দেখা গেছে। আর বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। পরে তারাও চলে যান।