১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রামে পার্কের গেইটে মিলল কাঁথা-চাদরে মোড়ানো ৩ মাসের শিশু

আগ্রাবাদের মা ও শিশু হাসপাতালে রেখে শিশুটির চিকিৎসা চলছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Jan 2026, 08:19 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:35 PM

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ জাম্বুরি পার্কের গেইটে ফেলে যাওয়া তিন মাসের এক কন্যা শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে পার্কের নিরাপত্তারক্ষী শিশুটিকে দেখতে পান। পরে পুলিশের সহায়তায় শিশুটিকে আগ্রাবাদের মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুটির নিউমোনিয়া, হার্টের সমস্যা ও জন্মগত কিছু অসুস্থতা রয়েছে। তাকে এইচডিইউতে (হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসার খরচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বহন করছে।

কাঁথা ও চাদরে মোড়ানো ছিল শিশুটি। নিরাপত্তারক্ষী আবদুল মালেক পার্কের গেইট বন্ধ করে বের হওয়ার পর শিশুটিকে ওই অবস্থায় দেখতে পান। পরে মাটি থেকে তুলে পাশের একটি দোকানে শিশুটিকে রেখে থানায় খবর দেন।

নগরীর ডবলমুরিং থানার এএসআই আসলাম সরকার ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে কোলে নিয়ে একটি ভিডিও করে শিশুটির বাবা-মায়ের সন্ধান চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন।

ভিডিওতে তিনি বলেন, “শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় জাম্বুরি পার্কের পূর্ব দিকের প্রথম গেইটে এই শিশুটিকে পাওয়া যায়। শিশুটির সঙ্গে কেউ ছিল না। জাম্বুরি পার্কের সিকিউরিটি আবদুল মালেক ভাই গেইট বন্ধ করে বাইরে গেলে বাচ্চাটিকে শোয়া অবস্থায় দেখতে পান। শিশুটির গায়ে একটি চাদর, সুন্দর জামা ও সুন্দর কাঁথা আছে।

“আমি জানি না তার বাবা-মা কে। বাবা-মার কাছে যেন বাচ্চাটিকে পৌঁছে দিতে পারি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। বাচ্চাটি এখনো ঘুমাচ্ছে। মনে হচ্ছে বাচ্চাটি সুস্থ আছে। তবু আমি শিশুটিকে মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।”

আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক মিশু তালুকদার বলেন, “শিশুটির জন্মগত কিছু শারীরিক সমস্যা আছে। এ কারণে শ্বাসকষ্টসহ কিছু সমস্যা হচ্ছে। সেগুলো ওভারকাম করতে আমরা চেষ্টা করছি।”

হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি পার্কের সামনের এক খেলনা বিক্রেতা হালিমা ও তার পরিবারের সদস্যরা শিশুটির দেখাশোনা করছেন।

হালিমা বলেন, “আমরা পার্কের কাছেই থাকি। বাবুটার তো কেউ নেই। তাই আমরা পালা করে দেখছি। গতকাল (শুক্রবার) রাতে আমার তালত বোন ছিল। সকালে ভাইঝি ছিল। এখন আমি এসেছি। বাবুটা যেন ওর মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দিতে পারি।”

আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. নুরুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শিশুটির নিউমোনিয়া, হার্টের সমস্যা এবং জন্মগত কিছু সমস্যা আছে। এইচডিইউতে রেখে আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিচ্ছি। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। এখনো বাবা মা বা স্বজনদের কেউ আসেনি।”

ডবলমুরিং থানার ওসি মো. জামাল উদ্দিন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শিশুটির চিকিৎসা চলছে। এখনো মা-বাবার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। আমরা খুঁজছি।”

এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের আনোয়ারার বারখাইন ইউনিয়নের মাজার গেট এলাকায় সড়কের পাশ থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করেন স্থানীয় অটোরিকশাচালক মহিম উদ্দিন। এর মধ্যে আয়েশা বয়স সাড়ে ৩ বছর। তার ছোট ভাই মোরশেদের বয়স ১৪ মাস।

উদ্ধারের নয় দিন পর ৫ জানুয়ারি বিকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনআইসিইউতে ১৪ মাসের মোরশেদ মারা যায়।