হিজড়া নেতার মৃত্যু: ঘর থেকে বের হওয়া যুবকের সন্ধানে পুলিশ
পুলিশের ধারণা, ঘর থেকে বের হওয়া যুবক মৌসুমী হিজড়ার পূর্ব পরিচিত।
চট্টগ্রামে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করা মৌসুমী হিজড়ার মৃত্যুর কারণ খুঁজতে তার ঘর থেকে বের হওয়া যুবকের সন্ধান করছে পুলিশ।
খুলশী থানার ওসি আব্দুর রহিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শুক্রবার রাতে মৌসুমী হিজড়ার ঘরে এক যুবক প্রবেশ করেছিল। তাকে মৌসুমী নিজেই ঘরের দরজা খুলে দিয়েছিল।
“আবার গভীর রাতে সে ওই বাসা থেকে বের হয়ে গেছে।”
ওসি বলেন, “ওই যুবকের ঘরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আমরা সংগ্রহ করেছি। ওই যুবককে খুঁজতে ইতোমধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি।”
পুলিশ বলছে, রাতে ওই যুবক গিয়ে মৌসুমী হিজড়ার ঘরের দরজায় টোকা দেন। এরপর মৌসুমীই দরজা খুলে দেন। তখন ওই যুবক ঘরে ঢুকে প্রথম আয়না দেখে চুল ঠিক করেন; পরে ভেতরের রুমে প্রবেশ করেন।
পুলিশের ধারণা, ঘর থেকে বের হওয়া যুবক মৌসুমী হিজড়ার পূর্ব পরিচিত। তবে হিজড়াদের কেউই তাকে চিনছেন না।
নগরীর খুলশী থানার আমবাগান শহীদ মিনার কলোনির বাসা থেকে শনিবার মৌসুমী হিজড়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি একদল হিজড়ার কাছে ‘গুরুমা’হিসেবে পরিচিত।
লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ বলেছিল, সকালে মৌসুমীর শিষ্যরা বাসায় গেলে গেইট বাইরে থেকে বন্ধ দেখে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর বিছানায় উপুড় হয়ে শোয়া দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন।
মৌসুমীর গলায় ‘একটি কালো দাগ’ থাকলেও তিনি হত্যার শিকার হয়েছেন নাকি তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং বাসা থেকে বের হওয়া যুবকের সন্ধান দরকার বলে জানান ওসি আব্দুর রহিম।
এদিকে মৌসুমী হিজড়ার মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা রুস্তম আলী বাদী হয়ে রোববার খুলশী থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এতে আসামি করা হয়েছে অচেনা ব্যক্তিদের।
পুলিশ জানায়, মৌসুমী হিজড়ার প্রকৃত নাম মহসিন। তার বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মুনপুর গ্রামে। তিনি নগরীর আমবাগান শহীদ মিনার কলোনিতে একা থাকতেন।
