Published : 08 Aug 2026, 07:38 PM
সম্প্রতি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল দিতে তিন মাস অতিরিক্ত সময় এবং ব্যাংক সুদ মওকুফসহ কয়েকটি দাবি জানিয়েছে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীকে আলাদা চিঠি পাঠিয়ে এসব দাবি তুলে ধরেছেন চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
শনিবার চেম্বারের বিজ্ঞপ্তিতে চিঠির বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়।
চিঠিতে আমিরুল হক বলেন, “অনেক দিন যাবৎ দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহজনিত সীমাহীন বিঘ্নের কারণে রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট, টেক্সটাইল, প্লাস্টিকসহ দেশের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ উৎপাদনমুখী শিল্প কারখানাগুলোর উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়।
“এমনকি গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহজনিত সমস্যার কারণে অনেক কারখানা বন্ধও হয়ে যায় অথবা অলিখিত লে অফ হয়ে যায়।”
তিনি বলেন, “গ্যাস ও বিদ্যুতের এই বিপুল সরবরাহ হ্রাস ও বিঘ্নতার কারণে দেশের প্রায় সব কারখানায় উৎপাদন ব্যহত হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। শিল্পের উৎপাদন ব্যহত হওয়ার কারণে তাদের রপ্তানি বা বিক্রয়ও মারাত্মকভাবে হ্রাস পায় বা ক্ষেত্রবিশেষে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
“ফলে শিল্পমালিকদের পণ্যের উৎপাদন খরচও না উঠাসহ কর্মচারীদের বেতন ভাতা, ব্যাংক সুদ ও ইউটিলিটি বিল প্রদান এবং এমনকি প্রাত্যহিক খরচাদিও বহন করা সম্ভব হয়নি এবং আগামী কয়েক মাস এর ধকল শিল্পোদোক্তাদের বহন করতে হবে।”
কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) গত ২১ জুলাই কারিগরি সমস্যা শুরুর পর থেকেই চট্টগ্রামে গ্যাসের সরবরাহ কম ছিল। ১ অগাস্ট রাত থেকে সরবরাহ আরো কমানো হয়েছে।
এতে সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। শিল্প কারখানা, সিএনজি ফিলিং স্টেশন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সার কারখানা এবং বাসাবাড়িতে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে মারাত্মকভাবে।
গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন কারখানায় যেমন উৎপাদন ব্যাহত হয়, তেমনি বেড়ে যায় লোডশেডিং। গ্যাসের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়। বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলেনি।
চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ঢাকা অঞ্চলে সরবরাহ বাড়াতে জাতীয় গ্রিড থেকে সেখানে বেশি পরিমাণে গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল। এতে ১ অগাস্ট থেকে ৫ অগাস্ট চট্টগ্রামের জন্য গ্যাসের বরাদ্দ আরো কমে যায়।
কেজিডিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে স্বাভাবিক সময়ে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএসসিএফটি)। ২১ জুলাই এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার পরদিন চট্টগ্রামে জাতীয় গ্রিড থেকে ২৩০ এমএমসিএফটি গ্যাস মিলছিল।
১ অগাস্ট তা কমে দাঁড়ায় ২১৭ এমএমসিএফটি।৩ অগাস্ট গ্যাসের সরবরাহ ছিল ১৯৪ মিলিয়ন ঘনফুট। তার মানে তিনদিনে চট্টগ্রামে ৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গিয়েছিল।
পরে বৃহস্পতিবার মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি বয়লার চালু হলে গ্যাসের সরবরাহ আবার বাড়তে শুরু করে।