১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রামে অতি ভারি বর্ষণের সঙ্গে জোয়ারের পানি, খাল-সড়কের পার্থক্য বোঝার উপায় নাই

“এত কাজের পরও যদি নালা ও খালের সক্ষমতা না বাড়ে তাহলে এত হাজার কোটি টাকা খরচ করার প্রয়োজন কি ছিল?”

চট্টগ্রামে অতি ভারি বর্ষণের সঙ্গে জোয়ারের পানি, খাল-সড়কের পার্থক্য বোঝার উপায় নাই
নগরীর চকবাজার এলাকার মূল সড়কে কোথাও কোথাও হাঁটু পানি জমে যায়। সেই পানি ঠেলেই পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছিল।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2026, 01:27 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:51 PM

তিন ঘণ্টার অতি ভারি বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের পানির তোড়ে আবার ডুবেছে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকা। 

সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে; এদিন বেলা ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২০১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। 

বৃষ্টিতে নগরীর কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, বাদুরতলা, কাপাসগোলা, আগ্রাবাদ, উত্তর কাট্টলী, দক্ষিণ নালাপাড়া, জামালখান, জিইসি মোড়, প্রবর্তক মোড়, আইস ফ্যাক্টরি রোড, বাকলিয়ার বিভিন্ন অংশ, তিনপুলের মাথা ও মেহেদীবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। 

তাতে চলাচলে দুর্ভোগে পড়ে এসব এলাকার মানুষ। এছাড়া দোকান, মার্কেটের নিচতলায়ও পানি ঢুকছে।

তবে বেলা ১১টার পর বৃষ্টির তীব্রতা কমে আসে; ধীরে ধীরে বিভিন্ন এলাকায় পানি নামতে শুরু করে। 

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এমন ভারি বৃষ্টি মঙ্গলবার পর্যন্ত হতে পারে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. ইসমাইল ভূঁইয়া। 

নগরীর জামালখান এলাকার বাসিন্দা শৈবাল পারিয়াল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তিন ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে নালাগুলো উপচে মূল সড়কের উপর দিয়ে প্রায় হাঁটু পানি জমে গেছে। গত তিন-চার বছর ধরে খাল-নালায় কাজ চলছে। 

নগরীর চকবাজার এলাকার মূল সড়কে কোথাও কোথাও হাঁটু পানি জমে যায়। সেই পানি ঠেলেই পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছিল। 

নগরীর চকবাজার এলাকার মূল সড়কে কোথাও কোথাও হাঁটু পানি জমে যায়। সেই পানি ঠেলেই পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছিল।

“গত মাসে জলাবদ্ধতার সময় বলা হয়েছিল খালে বাঁধ থাকায় পানি উঠছে। এবার খালে বাঁধও নেই। এত কাজের পরও যদি নালা ও খালের সক্ষমতা না বাড়ে তাহলে এত হাজার কোটি টাকা খরচ করার প্রয়োজন কি ছিল?”

চকবাজার এলাকায় চক সুপার মার্কেটের নিচতলার সবগুলো দোকানে পানি ঢুকেছে। সেখান থেকে মালামাল সরিয়ে নেন দোকান মালিক ও কর্মচারীরা। 

অদূরে তেলিপট্টি মোড় এলাকা থেকেও সকালে ছিল হাঁটু পানি। সেখান থেকে কাপাসগোলার দিকে এগিয়ে গেলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের সামনে দেখা যায় খাল ও সড়ক দুটোতেই পানি সমান। কোনটা খাল আর কোনটা সড়ক বুঝার উপায় নেই। 

নগরীর কাতালগঞ্জ এলাকায় গত কয়েক মাসের মত সোমবারও কোমর সমান পানি জমে যায়। 

নগরীর চকবাজার এলাকার মূল সড়কে কোথাও কোথাও হাঁটু পানি জমে যায়। সেই পানি ঠেলেই পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছিল। 

নগরীর চকবাজার এলাকার মূল সড়কে কোথাও কোথাও হাঁটু পানি জমে যায়। সেই পানি ঠেলেই পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছিল।

কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, “রাস্তায় কোমর পানি। বাড়ির নিচে হাঁটু পানি। সকালে হঠাৎ করে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে এরকম পানি জমে গেল। আমরা কবে এই বিপদ থেকে মুক্তি পাব জানি না।” 

বৃষ্টিতে নগরীর মূল সড়কগুলোতে পানি জমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন অফিস, স্কুল-কলেজগামী এবং পথে বের হওয়া মানুষ। যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া গুণে তাদের গন্তব্যে যেতে হয়েছে। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. ইসমাইল ভূঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বেলা ১২টা পর্যন্ত শেষ ২৪ ঘণ্টায় ২০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। 

কাগাসগোলা এলাকায় কোমর সমান পানি ছিল সকালে। এখানে খাল ও সড়ক আলাদা করে চেনার উপায় ছিল না। 

কাগাসগোলা এলাকায় কোমর সমান পানি ছিল সকালে। এখানে খাল ও সড়ক আলাদা করে চেনার উপায় ছিল না।

“এর মধ্যে আজ সকাল ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১০৯ মিলিমিটার, যা অতি ভারি বর্ষণ। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ৩১ মিলিমিটার। বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ ও মৌসুম বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামীকাল পর্যন্ত এরকম বৃষ্টি হতে পারে।

“সোমবার সকাল ১০টায় জোয়ার শুরু হয়েছে, পরের ভাটা শুরু হবে বিকেল তিনটা ৪০ মিনিটে।”

কাগাসগোলা এলাকায় কোমর সমান পানি ছিল সকালে। এখানে খাল ও সড়ক আলাদা করে চেনার উপায় ছিল না। 

কাগাসগোলা এলাকায় কোমর সমান পানি ছিল সকালে। এখানে খাল ও সড়ক আলাদা করে চেনার উপায় ছিল না।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রনব কুমার শর্মা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকালে যখন অতি ভারি বৃষ্টি হয়েছে তখন জোয়ার হওয়াতে খালগুলোর কোথাও এক ইঞ্চি পরিমাণ জায়গা খালি ছিল না। উচ্চ জোয়ারের কারণে শহরের কোন পানি নামতে পারেনি। তাই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। 

কাগাসগোলা এলাকায় কোমর সমান পানি ছিল সকালে। এখানে খাল ও সড়ক আলাদা করে চেনার উপায় ছিল না। 

কাগাসগোলা এলাকায় কোমর সমান পানি ছিল সকালে। এখানে খাল ও সড়ক আলাদা করে চেনার উপায় ছিল না।

“কাতালগঞ্জ, আগ্রাবাদ, চকবাজার, মুরাদপুর ও বহদ্দারহাট এলাকায় পানি উঠেছিল। এখন পানি নামতে শুরু করেছে। তবে দুই নম্বর গেট এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়নি।” 

এ নিয়ে চলতি বছর এপ্রিল থেকে অগাস্ট পর্যন্ত ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেল কয়েক দফায়।