চবি ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের অবরোধ, প্রধান ফটকে তালা

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ছাড়তে দেয়নি, চালককে ধরে নিয়ে যাওয়ায় শাটল ট্রেনও বন্ধ

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 August 2022, 06:30 AM
Updated : 1 August 2022, 06:30 AM

গভীর রাতে ফেইসবুক পেইজে প্রকাশ করা পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান বা কাঙ্ক্ষিত পদ না পেয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অবরুদ্ধ করে রেখেছে ছাত্রলীগের কিছু নেতার অনুসারীরা।

রোববার রাত সোয়া ১২টার দিকে ছাত্রলীগের ফেইসবুক পেইজে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ৩৭৬ সদস্যের ওই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীদের একদল নেতা-কর্মী।

এদিকে সোমবার সকালে নগরীর পুরাতন রেল স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনের লোকো মাস্টারকে ধরে নিয়ে গেছে একদল যুবক। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন চলাচলও বন্ধ রয়েছে বলে ষোলশহরের স্টেশন মাস্টার তন্ময় চৌধুরী জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, সকাল সাড়ে ৭টায় নগরীর পুরাতন স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনটি ৭টা ৪০ মিনিটে নগরীর ঝাঁউতলা স্টেশনে থামার পরপরই একদল যুবক ট্রেনে উঠে লোকমাস্টারকে ধরে নিয়ে যায়।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সকালে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কোনো বাসও ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে আসতে দেয়নি। রাত থেকে তারা ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণার পর পদবঞ্চিতরা রাতে প্রধান ফটকে বিক্ষোভ দেখায়। তখন তাদের আমরা বুঝিয়ে হলে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম।

“সকালে আবার তারা বাস, ট্রেন অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে। ফলে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে । পরীক্ষার নতুন তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে “

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তিন বছর আগে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়েছিল এক বছরের জন্য। তাদের মেয়াদ পার হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে ‘অবৈধ আর্থিক লেনদেন’ হয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগ কর্মী দেলোয়ার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ছাত্রলীগের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী এ কমিটি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অনেকে অছাত্র, মাদকসেবী এবং ছাত্র শিবিরের মতাদর্শে বিশ্বাসীরা কমিটিতে এসেছে।”

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, “পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যারা পদ পায়নি তারা প্রধান ফটকে বিক্ষোভ করছে। শীর্ষ নেতাদের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

২০১৯ সালে ১৪ জুলাই রেজাউল হককে সভাপতি ও ইকবাল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হলেও তা হয়নি।

তার তিন বছর পর রোববার মধ্যরাতে ৩৭৬ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক