Published : 22 May 2026, 08:28 PM
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশু ‘ধর্ষণের’ ঘটনা নিয়ে মামলা ও সন্দেহভাজনকে নিজেদের জিম্মায় পেতে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের দফায় দফায় সংঘর্ষের একদিন পর এবার বায়েজিদ ও ডবলমুরিং এলাকায় দুই শিশুকে ‘ধর্ষণচেষ্টার’ অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার দুপুরে ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ হাজীপাড়া ও বায়েজিদ বোস্তামী থানার মান্ডাটিলা এলাকার এসব ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক দুজন হলেন, হাজীপাড়া জালালের কালোনি এলাকার প্রহরী মো. এহসান (৪৫) ও মান্ডাটিলা এলাকার প্রহরী মো. হাসান (৪০)।
ডবলমুরিং থানার ওসি জামাল উদ্দিন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হাজীপাড়া জালালের কলোনি এলাকায় দুপুরে দুই শিশু খেলছিল। এ সময় ১০ বছর বয়সি এক শিশুকে এহসান নানা কথা বলে সীমানা প্রাচীরের ভেতর নিয়ে যায়। সেখানে এহসান শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
“স্থানীয়রা তাকে আটক করে রাখলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।”
এহসানকে পুলিশ হেফাজতে নিতে গেলে কলোনির লোকজন প্রতিবাদ শুরু করে এবং তাকে নিজেদের কাছে রেখে দিতে চায়। পরে পুলিশ লোকজনকে বুঝিয়ে এহসানকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নেয়।
অন্যদিকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বায়েজিদ থানা পুলিশের হাতে আটক হাসানও নিরাপত্তা প্রহরী।
বায়েজিদ থানার ওসি আবদুল করিম বলেন, “মান্ডাটিলা এলাকাটিতে নিম্ন আয়ের লোকজন বসবাস করে। সেখানকার একটি কলোনির প্রহরী হাসান একটি শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
“খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।”
দুই শিশুকেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর আটক সন্দেহভাজন মনির হোসেনকে নিজেদের জিম্মায় নেওয়ার চেষ্টায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধরা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে থেমে থেমে চলা এ সংঘর্ষের কারণে শাহ আমানত সেতু থেকে বহদ্দারহাট সড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। সংঘর্ষে আহত হয় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন।
বিকাল থেকে চলা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে রাত ১১টার কিছু পরে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিকে নিয়ে কড়া প্রহরায় বাকলিয়া এলাকা ছাড়ে পুলিশ। মনিরের বিরুদ্ধে ওই রাতেই মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা।