কাঁদবেন না, আমি আসব, চাও খাব: প্রধানমন্ত্রী

“আপনার চিকিৎসার ব্যবস্থা করাব। বলে দেব, চোখের চিকিৎসা যেন হয়,”- বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Sept 2022, 05:54 PM
Updated : 3 Sept 2022, 05:54 PM

প্রধানমন্ত্রীকে এক চোখে দেখেই কথা বলছিলেন কর্ণফুলী চা বাগানের শ্রমিক লাকী নারায়ণ। এসময় চায়ের নিমন্ত্রণ দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লে অপর চোখের চিকিৎসার আশ্বাস দেন শেখ হাসিনা।

শনিবার বিকালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের কর্ণফুলী চা বাগান থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন এই শিল্পের শ্রমিকরা।

এসময় হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের চণ্ডিছড়া চা বাগান, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের পাত্রখোলা, সিলেট সদরের লাক্কাতুরা এবং চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কর্ণফুলী চা বাগানের শ্রমিকরা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

চার চা বাগানের মধ্যে সবার শেষে চট্টগ্রামের চা বাগানের শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রীকে নিজেদের মনের কথা বলেন।

এরমধ্যে কর্ণফুলী চা বাগানের শ্রমিক লাকী নারায়ণ প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, “১২০টাকা বেতনে এত কষ্টে যে আমরা দিন পার করতাম, আপনাকে কি বলব। রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে আমরা চা বাগানের মানুষরা বাগানে কাজ করি।

“আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করে। বাগানে স্কুল আছে কিন্তু পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। এর ওপরে পড়তে গেলে অনেক দূরে যেতে হয়। সেখানে আমাদের ছেলেমেয়েরা যেতে পারে না। যদি আমাদের এখানে একটা স্কুল করে দিতে পারেন।”

লাকী নারায়ণ বলেন, “আপনি বলেছেন, আপনার বাবা-মা নেই। আমারও বাবা-মা কেউ নেই। একা। বিয়েশাদিও হয়নি। একটা চোখেও দেখি না। একটা চোখে দেখেই, এখন আপনার সাথে কথা বলছি।

“আপনি একবার আমাদের বাগানে আসবেন। আপনাকে আমাদের বাগানের এক কাপ চা খাওয়াতে চাই।”

এসময় লাকী নারায়ণ কান্নায় ভেঙে পড়লে তাকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “কাঁদবেন না, আমি আসব, চাও খাব। আপনার চিকিৎসার ব্যবস্থা করাব। বলে দেব, চোখের চিকিৎসা যেন হয়।”

এরপর চা শ্রমিক পরিবারের সন্তান মুনমুন ঘোষ প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, “আমি বাগান শ্রমিকের সন্তান। এখন কর্ণফুলী চা বাগানে নবনির্মিত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছি।

“আপনি যে উন্নত নতুন বাংলাদেশ গড়তে চান সেই লড়াইয়ে একজন সৈনিক হয়ে কাজ করতে চাই। আপনি একবার আমাদের বাগানে আসবেন। আপনি সর্বদা আমাদের পাশে ছিলেন, আশা করি ভবিষ্যতেও থাকবেন।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “শুনে খুব খুশি হলাম। তুমি নিজে পড়াশোনা করেছ। এখন আবার অন্যদের শিক্ষা দিচ্ছ।”

এরপর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, চা বাগানের নারী-পুরুষদের মত চা কন্যারাও (শিশু) আপনাকে দেখতে উদগ্রীব।

“তারা আপনাকে নাচ দেখাতে চায়। তাদের জিজ্ঞেস করেছি, তোমরা কী মুদ্রা জান? তারা বলেছে, যতটুকু জানি ততটুকুই আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে নেচে দেখাব। মাত্র দুদিনের প্রস্তুতিতে তারা এই নাচ পরিবেশন করছে।”

এসময় প্রধানমন্ত্রী সহাস্যে শিশুদের নাচের অনুমতি দেন। পরে তিনি আরও একটি নাচ দেখতে চাইলে শিশুরা চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে।

অনুষ্ঠানের শেষে টেবিলে সাজানো সারি সারি কৌটো দেখিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের ২১টি চা বাগান থেকে আপনার জন্য চা পাঠিয়েছে। আপনি অনুমতি দিলে এগুলো আমরা আপনার কাছে পাঠাতে পারি।”

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আমি চা পছন্দ করি। নিয়মিত চা খাই। অবশ্যই পাঠাবেন।”

সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চা শ্রমিকদের বাসস্থান, ভূমির অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্যসহ বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিলে খুশি মনে ঘরে ফেরেন চা বাগানের শ্রমিকরা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক