Published : 10 Sep 2026, 10:38 PM
পারোলে কারাগার থেকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য মুক্তি পেয়ে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছেন সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী।
বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের পুণ্ডরীক ধামে পৌঁছান তিনি। সেখানে সন্ধ্যায় তার মা সন্ধ্যা রানী ধরের শেষকৃত্য শুরু হয়।
শেষকৃত্যে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন চিন্ময় দাস। তারপর প্রিজন ভ্যানে করে আবার তাকে চট্টগ্রাম কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী তারেক আজিজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিকাল পৌনে ৫টার দিকে চিন্ময় দাসকে নিয়ে আসা হয়। উনি মায়ের মুখাগ্নি করেন। এরপর স্নান ও ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ শেষে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আবার উনাকে নিয়ে প্রিজন ভ্যান শহরের দিকে রওনা হয়।”
এরআগে দুপুর আড়াইটার দিকে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে চিন্ময় দাসের পারোল চেয়ে পরিবারের করা আবেদন অনুমোদন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক। মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে চিন্ময় দাসকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য মুক্তি দেওয়া হয়।
এ দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের পুণ্ডরীক ধামে চিন্ময় দাসের মা সন্ধ্যা রানী ধর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রয়াতের শেষ ইচ্ছা অনুসারে হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।
মায়ের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে আনার জন্য বিকাল ৪টার দিকে চিন্ময় দাসকে নিয়ে প্রিজন ভ্যান হাটহাজারীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সেখানে দুপুর থেকে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন ছিল। বিকালে যখন চিন্ময় দাসকে নিয়ে প্রিজন ভ্যানটি পুণ্ডরীক ধামে পৌঁছায় তখন বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টির মধ্যেই অনেক ভক্ত-অনুরাগী মন্দিরে জড়ো হয়।
চিন্ময় দাসকে পুলিশ প্রহরায় মন্দিরের ভিতর নেওয়া হয়। সেখানে মায়ের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
স্বজন, মন্দিরের সন্ন্যাসী ও প্রতিবেশীরা চিন্ময়কে স্বান্তনা দেন। এ সময় চিন্ময় কাঁদতে কাঁদতেই ধামের ভিতরে থাকা বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে প্রণাম করেন। পরে তিনি মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেন।
মৃত্যুর আগে মায়ের সঙ্গে শেষ দেখা না হওয়ায় আহাজারি করে সতীর্থদের জড়িয়ে কান্না করেন চিন্ময় দাস।
চিন্ময় দাসের পারিবারিক নাম চন্দন কুমার ধর। ধর্মীয় দীক্ষাগ্রহণের পর তিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী নাম নেন। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে চিন্ময় সবার ছোট।
মৃত্যুশয্যায় থাকা মা যাতে শেষবার তাকে দেখতে পারেন, সে জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বুধবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পারোলের আবেদন করার কথা বলা হয়েছিল।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তখন বলেছিলেন, “অসুস্থ অবস্থায় কাউকে দেখার জন্য পারোলে মুক্তি দেওয়ার আইনগত কোনো সুযোগ নেই। কেবল স্বজন মারা গেলে এ সুযোগ পাওয়া যায়।”
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারি সার্কেল) কাজী তারেক আজিজ বলেন, “যদি পরিবারের আবেদনে চিন্ময় দাসকে পারোলে মুক্তির আদেশ হয়, তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আট দফা দাবিতে সনাতনী সম্প্রদায়ের আন্দোলনের মুখপাত্র হিসেবে বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় দাস।
ওই বছর অক্টোবরে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদোহ মামলা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরদিন চিন্ময়কে জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ হলে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকরা। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময়কে কারাগারে নিয়ে যায়।
বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
ওই ঘটনায় আইনজীবী আলিফের বাবার করা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর নাম না থাকলেও পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদনে তাকে প্রধান আসামি করে।
চিন্ময়ের বিরুদ্ধে এখন মোট ৮টি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যালে বিচারাধীন।
চিন্ময় হাই কোর্ট থেকে চার মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার থাকায় তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
মায়ের মৃত্যু: ৫ ঘণ্টার জন্য মুক্তি পাচ্ছেন চিন্ময় দাস
কারাবন্দি চিন্ময় দাসের মায়ের মৃত্যু, পারোলের আবেদন করবে পরিবার