০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মায়ের মৃত্যু: ৫ ঘণ্টার জন্য ‍মুক্তি পাচ্ছেন চিন্ময় দাস

রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তাকে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Sep 2026, 03:37 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে কারাবন্দি সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর পারোল চেয়ে পরিবারের করা আবেদন অনুমোদন করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক।

বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে পারোলের আবেদনটি অনুমোদন করা হয়। তিনি পাঁচ ঘণ্টার জন্য মুক্তি পাচ্ছেন। 

এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের পুণ্ডরীক ধামে চিন্ময় দাসের মা সন্ধ্যা রানী ধর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

প্রয়াত সন্ধ্যা রানী ধরের শেষ ইচ্ছা অনুসারে পুণ্ডরীক ধামে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পরিবারের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর পারোলের আবেদন অনুমোদন করেছেন জেলা প্রশাসক মহোদয়। ৫ ঘণ্টার জন্য পারোল দেওয়া হয়েছে। 

“মায়ের শেষকৃত্যে অংশগ্রহণ শেষে আবার ‍ওনাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ফেরত আনা হবে।” 

ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের সহসভাপতি স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাশ ব্রহ্মচারী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। ৫ ঘণ্টার জন্য মুক্তি দেওয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে হাটহাজারী গিয়ে মায়ের শেষকৃত্যে উপস্থিত থেকে আবার ফিরে আসতে হবে।”

ক্যান্সারসহ নানা রোগে আক্রান্ত সন্ধ্যা রানী ধর প্রায় দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার ইচ্ছা অনুযায়ী, মঙ্গলবার তাকে হাসপাতাল থেকে পুণ্ডরীক ধামে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন চিন্ময় দাসের বড় ভাই রঞ্জন ধর।

চিন্ময় দাসের পারিবারিক নাম চন্দন কুমার ধর। ধর্মীয় দীক্ষাগ্রহণের পর তিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী নাম নেন। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে চিন্ময় সবার ছোট।

মৃত্যুশয্যায় থাকা মা যাতে শেষবার তাকে দেখতে পারেন, সেজন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বুধবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পারোলের আবেদন করার কথা বলা হয়েছিল। 

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তখন বলেছিলেন, অসুস্থ অবস্থায় কাউকে দেখার জন্য পারোলে মুক্তি দেওয়ার আইনগত কোনো সুযোগ নেই। কেবল স্বজন মারা গেলে এ সুযোগ পাওয়া যায়।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারি সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, “যদি পরিবারের আবেদনে চিন্ময় দাসকে পারোলে মুক্তির আদেশ হয়, তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আট দফা দাবিতে সনাতনী সম্প্রদায়ের আন্দোলনের মুখপাত্র হিসেবে বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় দাস।

ওই বছর অক্টোবরে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদোহ মামলা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন তার জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ হলে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকরা। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময়কে কারাগারে নিয়ে যায়।

বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

ওই ঘটনায় আইনজীবী আলিফের বাবার করা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর নাম না থাকলেও পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদনে তাকে প্রধান আসামি করে।

তার বিরুদ্ধে এখন মোট আটটি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যালে বিচারাধীন।

চিন্ময় হাই কোর্ট থেকে চার মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার থাকায় তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।

আগের খবর:

কারাবন্দি চিন্ময় দাসের মায়ের মৃত্যু, পারোলের আবেদন করবে পরিবার