Published : 24 Nov 2025, 09:49 PM
প্রায় আট বছর আগে চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম নুরু হত্যা মামলায় রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
সোমবার শুনানি নিয়ে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহিম খলিল এই আদেশ দেন।
শুনানিতে ভার্চুয়ালি অংশ নেন কারাগারে থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক এই এমপি।
চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রিয়াদ উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম হত্যা মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা সাবেক এমপি ফজলে করিমের চৌধুরীর পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।”
রোববার এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির পরিদর্শক নাছির উদ্দিন রাসেল রিমান্ডের আবেদন করেন।
নুরু কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার বাসা চট্টগ্রাম নগরীর চন্দনপুরায়।
২০১৭ সালের ২৯ মার্চ রাত ১২টার দিকে পুলিশ পরিচয়ে তাকে বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে স্বজনরা সেসময় দাবি করেন।
পরদিন ৩০ মার্চ দুপুরে রাউজান উপজেলার বাগোয়ান এলাকায় কর্ণফুলী নদীর পাড়ে নুরুর লাশ পাওয়ার তথ্য দেয় পুলিশ।
ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ব্ছরের ১ সেপ্টেম্বর নুরুর স্ত্রী সুমি আক্তার নগরীর চকবাজার থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
আসামিদের তালিকায় প্রথম নামটি ফজলে করিমের। আর ঘটনার সময় রাউজানের নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত থাকা এসআই জাবেদকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়।
মামলায় মোট ১৭ জনের নাম দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নুরুর স্ত্রীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ফজলে করিমের নির্দেশে নগরীর চন্দনপুরার বাসা থেকে এসআই জাবেদের নেতৃত্বে অন্য আসামিরা নুরুর বিরুদ্ধে ‘গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে দাবি করে তাকে তুলে নিয়ে যায়’।
এরপর নুরুকে মাইক্রোবাসে করে নোয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজের মাঠে নিয়ে ‘চোখ ও মুখ-হাত বেঁধে নির্যাতন করা হয়’। পরে নুরুকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের খেলারঘাট নামক স্থানে কর্ণফুলী নদীর তীরে লাশ ফেলে আসে বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে।
নুরুর স্ত্রী বলেছেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পরদিন ৩০ মার্চ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নুরুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন- রাউজানের নোয়াপাড়ার বাসিন্দা বাবুল মেম্বার, নাসের ওরফে টাইগার নাসের, মো. লিটন, তৈয়ব, ফরিদ, মামুন, আবু জাফর রাশেদ, ইয়ার মোহাম্মদ বাছইন্না, সেকান্দর জসিম, খালেক, বাবুল, মো. রব্বানি, হাসান মোহাম্মদ নাসির এবং মো. মোর্শেদ।
একসময় এনডিপি’র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকা ফজলে করিম ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নৌকার মনোনয়ন পান। ওইবার আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও নির্বাচনে জিততে পারেননি তিনি।
২০০১ সালে চট্টগ্রামের রাউজান আসনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফজলে করিম। এর পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি।
গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীsমান্ত এলাকা থেকে ফজলে করিমকে আটকের তথ্য দেয় বিজিবি। এরপর তাকে আখাউড়া থানায় হস্তান্তর করে বিজিবি। সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে। সবশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর হেলিকপ্টারে করে ফজলে করিমকে সেখান থেকে চট্টগ্রামে আনা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।
হত্যা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো, অস্ত্রের মুখে জমি লিখিয়ে নেওয়া, ভাংচুর, দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে এখন পর্যন্ত ফজলে করিমের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় ১০টি মামলা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ পেয়েছে। বিভিন্ন মামলায় একাধিক বার তাকে রিমান্ডও দিয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন: