Published : 02 May 2026, 06:27 PM
বেতন ও অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার মজুরির দাবিতে চট্টগ্রামে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন দুটি সোয়েটার কারখানার শ্রমিকরা।
বন্দর নগরীর আরাকান সড়কের সিঅ্যান্ডবি মোড়ে শনিবার সকাল ১১টার দিকে অবরোধ শুরু করেন শ্রমিকরা; বিকাল ৫টার পরও তারা সড়কে অবস্থান করছিলেন।
তাদের অবরোধের কারণে বহদ্দারহাট থেকে কালুরঘাটমুখী সড়কটি দিয়ে রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী ও রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ আছে।
শিল্প পুলিশের চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশ চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা বেতনের দাবিতে অনড় থাকায় আমরা মালিক পক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি।”
বিক্ষোভ-অবরোধে নামা শ্রমিকরা বলছেন, চার মাসের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার মজুরি আর দেড় মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। বারবার মালিকপক্ষকে বললেও তারা কেবল আশ্বাস দিয়ে গেছে। শ্রমিকদের বেতন না দিয়ে গড়িমসি করায় তারা বিক্ষোভে নেমেছেন।
পুলিশ বলছে, কালুরঘাট ভারী শিল্প এলাকায় আজিম গ্রুপের দুই সোয়েটার কারখানায় দেড় হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মরত। অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার বকেয়া মজুরি ও বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেন। বেলা ১১টার পর থেকে তারা আরাকান সড়কের সিঅ্যান্ডবি মোড়ে অবস্থান নেন।
পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, “মালিকপক্ষ দাবি করেছে, বেশ কয়েক মাস ধরে তাদের কোন অর্ডার নেই। তবুও তারা শ্রমিকদের বেতনভাতা পরিশোধ করেছিলেন। কিন্তু ওভারটাইম মজুরির জন্য শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে গেছে।”
ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরানো যায়নি। ফলে ওই সড়কে চলাচলকারীরা পড়েছেন দুর্ভোগে।
বোয়ালখালী থেকে চট্টগ্রাম শহরে আসা সনজিৎ ধর নামে এক ব্যক্তি বলেন, যানবাহন চলাচল না করায় কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে হেঁটে সিঅ্যান্ডবি এসেছেন। কিন্তু সেখানেও গাড়ির যানজট থাকায় গাড়ি পেতে কষ্ট হচ্ছে।
আবুল কালাম নামে এক অটোরিকশাচালক বলেন, “সকালে ভাড়া নিয়ে বোয়ালখালী থেকে শহরের চকবাজারে এসেছিলাম। এখন অবরোধের কারণে ওই সড়ক দিয়ে যেতে না পেরে শাহ আমানত সেতু হয়ে বোয়ালখালী যেতে হচ্ছে।”
অবরোধস্থলে শিল্প পুলিশ ও নগর পুলিশের টিমও অবস্থান করছে। তারা শ্রমিকদের শান্ত করে সড়ক থেকে সরানোর জন্য বারবার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ জোন) কাজী বিধান আবিদ।
তিনি বলেন, “বৃষ্টিতেও শ্রমিকরা সড়কে বসে আছেন। আমরা ও মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলছি। শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করে তাদের সরানোর চেষ্টা করছি।”