অতি-উৎসাহী পোলিং এজেন্টরা ‘প্রপাগান্ডার’ ইন্ধন যোগায়: নাছির
চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্টরা যেই অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন, তা যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।
চট্টগ্রাম-১০ আসনের উপ-নির্বাচন বানচালের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন।
শুক্রবার বিকালে কাজির দেউড়িতে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে উপ-নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাছির বলেন, “আওয়ামী লীগ ঐতিহ্যগতভাবে একটি নির্বাচনমুখী দল। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন হওয়া বা ক্ষমতা পরিবর্তনের মাধ্যম নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোটগ্রহণ পদ্ধতি ও কার্যক্রম সম্পর্কে আমাদের নেতাকর্মীদের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ।
“অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ নিয়োজিত পোলিং এজেন্টরা অনেক ঝক্কি-ঝামেলা প্রতিকূলতা পেরিয়ে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্ষেত্র বিশেষে ঘটনাচক্রে এই দায়িত্ব যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।”
সাবেক মেয়র নাছির বলেন, “মনে রাখতে হবে একটি মহল গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য ঠুনকো অজুহাত ও অযৌক্তিক প্রশ্ন দাঁড় করিয়ে, নির্বাচন বানচাল করতে চায়। তাদেরকে আমরা কিছুতেই এই সুযোগ দিতে পারি না।
“তবে তাও দেখা যায় যে, কোনো কোনো অতি উৎসাহী পোলিং এজেন্ট এমন কিছু কাজ করেন যে, যা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রপাগান্ডায় ইন্ধন যোগায়। পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা, সতর্কতা, সহনশীলতা, ভোট প্রয়োগকারী, ভোট গ্রহণকারীকে সহযোগিতা করা এবং কাউকেও অন্যায়ভাবে প্রভাবিত না করা- এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে।”
ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নাছির বলেন, “ভোটের কেন্দ্রভিত্তিক আমাদের যে সকল নেতাকর্মী এবং সমর্থক রয়েছেন তাদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটলে স্থানীয় নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হবেন।
“এছাড়াও ভিন্ন মতের ভোটাররাও যেন নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে আসতে পারেন সেজন্য সংশ্লিষ্ট ভোট কেন্দ্রের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এই তাবৎ বিষয় ও নির্দেশনাগুলো সঠিকভাবে অনুসৃত হলে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার আর কোন সুযোগ থাকে না।”
কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রাম-১০ আসনের উপ-নির্বাচন আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সংবিধান সম্মতভাবে স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার ড্রেস রিহার্সেল।
“এই নির্বাচনে জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন প্রমাণ করতে হবে যে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটারদের উপস্থিতিতে নির্বাচন বর্তমান সরকারের অধীনে শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হতে পারে।”
কর্মশালায় চট্টগ্রাম-১০ আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, “নির্বাচনে ফলাফল যাই হোক তা মেনে নেওয়াটাই গণতান্ত্রিক মানসিকতা। এই মানসিকতা আমার আছে। আমি চাই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও অবাধ হোক।”
নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনীর সঞ্চালনায় কর্মশালায় সহসভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু বক্তব্য দেন।
সংসদ সদস্য নোমাল আল মাহমুদ, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল ও জহিরুল আলম দোভাষ, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শফিকুল ইসলাম ফারুক, হাসান মাহমুদ শমসের, শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, আহমেদুর রহমান সিদ্দিকী, মোহাম্মদ হোসেন, জুবাইরা নার্গিস খান, হাজী জহুর আহমদ, আবু তাহেরও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
