‘প্রোপার অলরাউন্ডার’ মিনহাসকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত আফ্রিদি
অভিষেক ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়ার পর পঞ্চম ম্যাচে ফিফটি করে ও ৬ উইকেট নিয়ে অসাধারণ অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দেখালেন পাকিস্তানের উঠতি প্রতিভা আরাফাত মিনহাস।
অভিষেক ওয়ানডেতেই পাঁচ উইকেট নিয়ে অনন্য এক কীর্তি গড়েছিলেন আরাফাত মিনহাস। তার সম্পর্কে যারা ভালোভাবে জানেন না, তাকে স্রেফ বোলার ধরে নেওয়াই স্বাভাবিক। পঞ্চম ওয়ানডেতে এসে তাদের সেই ভুল ভেঙে দিলেন তিনি। এবার ব্যাট হাতে উপহার দিলেন দারুণ এক ফিফটি, বল হাতে উইকেট নিলেন ছয়টি! ম্যাচের পর তার মূল পরিচয় তুলে ধরে পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি বললেন, মিনহাস আসলে পুরোদস্তুর অলরাউন্ডার!
ত্রিদেশীয় সিরিজে মঙ্গলবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৮ বলে ৫৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন মিনহাস। বড় ভূমিকা রাখেন দলকে তিনশ পার করানোয়। সেই রান তাড়ায় ইংল্যান্ড ছুটছিল দারুণ গতিতে। এক পর্যায়ে তাদের রান ছিল ১ উইকেটে ১২০। টম ব্যান্টনকে ফিরিয়ে তখন জুটি ভাঙেন সেই মিনহাসই। শেষ হয় এখানেই, দুর্দান্ত বোলিংয়ে এরপর ধসিয়ে দেন ইংলিশ ব্যাটিংস।
পথ হারিয়ে ইংল্যান্ড ম্যাচ হেরে যায় ৮৭ রানে। মিনহাসের শিকার ৪০ রানে ৬ উইকেট!
পাকিস্তানের হয়ে ওয়ানডেতে এর আগে এক ম্যাচে ফিফটি ও অন্তত ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি ছিল শাহিদ আফ্রিদি ও আব্দুল রাজ্জাকের। এক ম্যাচে ফিফটি ও ৬ উইকেটের কীর্তি ছিল কেবল আফ্রিদির। দুটিতেই এবার যুক্ত হলো মিনহাসের নাম।
বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডারদের মধ্যে একই ম্যাচে ফিফটি ও ৬ উইকেটের কীর্তি শুধু পাকিস্তানের নয়, ওয়ানডে ইতিহাসেই নেই আর কারও।
বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ব্যাটে-বলে দুটিতেই দক্ষতা দেখিয়েছেন মিনহাস। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটেও মেলে ধরেছেন নিজের সেই রূপ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৫২ রানের ইনিংস যেমন খেলেছেন, তেমনি উইকেটও নিয়েছেন। তিন সংস্করণেই মেলে ধরেছেন নিজের অলরাউন্ড চেহারা। কদিন আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে ২০ বলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলার পর একটি উইকেট নিয়েছেন।
তার ওয়ানডে অভিষেক গত মে মাসে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেদিন ৩২ রানে শিকার করেন ৫ উইকেট। ওয়ানডেতে ইতিহাসে প্রথমবার কোনো বাঁহাতি স্পিনার অভিষেকে নিতে পারেন ৫ উইকেট। পঞ্চম ম্যাচে এসে পেলেন প্রথম ফিফটি। বোলিংয়েও ছাড়িয়ে গেলেন অভিষেকের সেই ম্যাচকে।
ম্যাচের পর পাকিস্তানের অধিনায়ক আফ্রিদি বললেন, ব্যাটিং অলরাউন্ডার বা বোলিং অলরাউন্ডারের গন্ডিতে মিনহাসকে আটকে রাখা যাবে না। তরুণ এই অলরাউন্ডারের কাছ থেকে সামনেও এমন পারফরম্যান্স অনেক দেখার আশা তাদের।
“সে একজন খুবই প্রতিভাবান ক্রিকেটার। তার কথা আগেও বলা হয়েছে। সে স্রেফ একজন বোলিং অলরাউন্ডার বা ব্যাটিং অলরাউন্ডার নয়; সে ‘প্রোপার’ অলরাউন্ডার। ব্যাটিংয়ে যেভাবে সে ইনিংস শুরু করেছে এবং এরপর বোলিংয়েও ভালো করছে, তা আমাদের জন্য, পাকিস্তান দলের জন্য খুবই ভালো ছিল। আশা করি, সে আরও অনেক ম্যাচে ভালো খেলবে।”
মিনহাস ম্যাচের পর বললেন, এমন অসাধারণ পারফর্ম করেছেন তিনি স্রেফ পরিকল্পনা সহজ রেখে।
“পরিকল্পনা খুব সিম্পল রেখেছিলাম। প্রথম ম্যাচে স্পিনারদের জন্য তেমন কোনো সহায়তা ছিল না, কিন্তু নিজের পরিকল্পনার ওপর ভরসা রেখেছিলাম। আজ পিচটা একটু ধীরগতির ছিল। ভালো জায়গায় বল করতে পেরেছি এবং কিছুটা সাহায্যও পাচ্ছিলাম, যা আমার জন্য সুবিধাজনক হয়েছে।”
“বৈচিত্র্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আপনি যদি এক জায়গায় বল করতে থাকেন, তাহলে স্পিনাররা তেমন সুবিধা পায় না। কিন্তু যখন আপনি গতিতে বৈচিত্র্য আনেন এবং স্পিন ও আর্ম বল দুটোই করেন, তখন তা ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করে। আমার মনে হয়, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং আমি এটা নিয়ে কাজও করেছি, যা আজ আমাকে সাহায্য করেছে।”
বোলিংয়ের আগে ব্যাট হাতেও তার ইনিংসটি দলের জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সাত নম্বরে যখন তিনি ব্যাটিংয়ে নামেন, পাকিস্তানের রান তখন ৫ উইকেটে ১৩৩। আড়াইশ রানও মনে হচ্ছিল বেশ দূরের পথ। কিন্তু হাসান নাওয়াজের সঙ্গে মিনহাসের ৭৪ বলে ৭৮ রানের জুটি ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়।
নাওয়াজ ৭৪ বলে ৭৯ রান করে আউট হওয়ার পর দলকে আরও টেনে নেন মিনহাস। ৫৮ বলে ৫৯ করে তিনি আউট হন ৪৮তম ওভারে। ফাহিম আশরাফের ২৬ বলে ৩৯ রানের ইনিংসে তিনশ ছাড়ায় পাকিস্তান।
মিনহাস বললেন, ক্রিজে যাওযার পর থেকে তার লক্ষ্যই ছিল শেষ পর্যন্ত টিকে থাকা।
“আমি যখন ব্যাট করতে নামি, তখন জুটি গড়ার প্রয়োজন ছিল। হাসান এবং আমি আলোচনা করছিলাম যে, এই জুটিকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিতে হবে। আমাদের লক্ষ্য ছিল যত বেশি সম্ভব রান যোগ করা, কারণ তা দলকে সুবিধা দেবে এবং শেষের দিকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ দেবে। আমাদের দুজনেরই সেই সামর্থ্য আছে।
“হাসান তার ছন্দ ও তাড়না ধরে ভালো ব্যাটিং করছিল, আর আমি তাকে সমর্থন দিচ্ছিলাম। কিন্তু সে আউট হয়ে যাওয়ার পর, আমি দায়িত্ব নিই এবং শেষ পর্যন্ত ব্যাট করার চেষ্টা করি। এর ফলে আমরা লাভবান হয়েছিলাম এবং ৩০০ রান করতে পেরেছিলাম।”
