২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

নাঈম-মাহফিজুলের ডাবল সেঞ্চুরি, জাকির ১৬০*

ব্যাটসম্যানদের দাপটের দিনে নাঈম শেখ ও মাহফিজুল ইসলাম রবিনের দেখানো পথে ডাবল সেঞ্চুরির পথে জাকির হাসান।

নাঈম-মাহফিজুলের ডাবল সেঞ্চুরি, জাকির ১৬০*

জাকির হাসান। ফাইল ছবি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 25 Oct 2026, 06:09 PM

Updated : 25 Oct 2026, 06:09 PM

ভালো শুরুর পর ইনিংস বড় করতে না পারা- প্রথম তিন রাউন্ডে একই হতাশায় পোড়েন জাকির হাসান। তবে চতুর্থ রাউন্ডে আর ভুল করেননি জাতীয় দলের একসময়ের নিয়মিত ওপেনার। চমৎকার সেঞ্চুরিতে দ্বিশতকের সামনে এখন সিলেট অধিনায়ক।

জাতীয় ক্রিকেট লিগের চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে জাকিরের দেড়শ ছাড়ানো ইনিংসের দিনে অল্পের জন্য ট্রিপল সেঞ্চুরি করতে পারেননি মোহাম্মদ নাঈম শেখ। এছাড়া দুর্দান্ত পথচলায় এবার সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিলেন মাহফিজুল ইসলাম।

নাঈমের সঙ্গে ম্যারাথন জুটিতে রেকর্ড গড়ে ১৬৫ রানের ইনিংস খেলেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। আশা জাগিয়েও তিন অঙ্কের আগেই থেমে যান রাফসান আল মাহমুদ ও মাহমুদুল হাসান জয়।

নাঈম-অঙ্কনের দাপটের পর রাজশাহীর ধস

রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম দিনই ডাবল সেঞ্চুরির আশা জাগান নাঈম। রোববার সেটি তিনি টেনে নেন ট্রিপল সেঞ্চুরির খুব কাছে। শেষ পর্যন্ত বড় শটের খোঁজে ২৮২ রানের থামেন ঢাকার ওপেনার।

৩৬৯ বলের ইনিংসটি ২১ চারের সঙ্গে ৭টি ছক্কায় সাজান নাঈম। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। চলতি লিগে টানা তৃতীয় সেঞ্চুরিতে এখন পর্যন্ত তার সংগ্রহ ১১২.২০ গড়ে ৫৬১ রান।

নাঈমের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ৫৩৪ বলে ৩৬৩ রানের ম্যারাথন জুটি গড়েন অঙ্কন। বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটিই চতুর্থ উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড। ফেরার আগে ১৪ চার ও ৮ ছক্কায় ২৮৯ বলে অঙ্কন খেলেন ১৬৫ রানের ইনিংস। যা তার ক্যারিয়ার সেরা।

অঙ্কন ও নাঈম ছাড়া ঢাকার আর কেউ ২০ রানও করতে পারেননি। রাজশাহীর লেগ স্পিনার ওয়াসি সিদ্দিকি ৪ উইকেট নিলে ৫২১ রানে গুটিয়ে যায় রাজধানীর দলটি।

পরে ব্যাট করতে নেমে নতুন বলে সুমন খানের তোপে পড়ে রাজশাহী। মাত্র ১০ রানের মধ্যে ড্রেসিং রুমে ফিরে যান সাব্বির হোসেন, হাবিবুর রহমান ও প্রিতম কুমার।

৮০ রানের জুটি গড়ে শুরুর চাপ সামাল দেন নাঈম আহমেদ ও সাব্বির রহমান। ওয়ানডে স্টাইলে খেলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৪৪ বলে ফিফটি করেন সাব্বির রহমান।

দিনের শেষ ভাগে নাঈমকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন তাইবুর। খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে আমিনুল ইসলামের বলে ফিরতি ক্যাচ দেন সাব্বির। রহিম আহমেদও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।

রাজশাহীর সংগ্রহ এখন ৬ উইকেটে ১০৩ রান। ফলো-অন এড়াতে তাদের করতে হবে আরও ২৬৯ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ঢাকা ১ম ইনিংস: (আগের দিন ২৯৩/৩) ১৩৪.১ ওভারে ৫২১ (নাঈম ২৮২, অঙ্কন ১৬৫, তাইবুর ১২, আমিনুল ১৯, সুমন ১, রিপন ১, আরিফ ১, এনামুল ০*; শফিকুল ১৭-০-৮৭-০, আসাদুজ্জামান ২৪-৪-৭৪-২, সানজামুল ২০-২-৮৭-১, মেহেরব ৩৩-৫-১১৮-১, ওয়াসি ২৮-১-১১২-৪, রহিম ১২.১-২-৪০-২)

রাজশাহী ১ম ইনিংস: ২৬ ওভারে ১০৩/৬ (হাবিবুর ২, সাব্বির হোসেন ২, নাঈম ৩০, প্রিতম ৪, সাব্বির রহমান ৫৪, রহিম ৭, ওয়াসি ০*, মেহেরব ১*; সুমন ৬-১-২৫-৩, রিপন ৭-২-৩০-০, এনামুল ৩-০-২০-০, আরিফ ৩-০-১৫-০, তাইবুর ৪-১-৫-২, আমিনুল ৩-১-৭-১)

মাহফিজুলের ২১৭*

আগের তিন রাউন্ডে দুই সেঞ্চুরির পাশাপাশি দুই ফিফটিতে রীতিমতো উড়ছিলেন মাহফিজুল। এবার সেটি আরও রঙিন করে তুলেছেন ময়মনসিংহের ওপেনার। ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিতে তিনি খেলেছেন ২১৭ রানের অপরাজিত ইনিংস।

বগুড়ার মাঠে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ১৫৬ রান নিয়ে দিন শুরু করা ২২ বছর বয়সী ওপেনার কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যান দ্বিশতকের পথে। সাবধানী ব্যাটিংয়ে ৩৩৮ বলে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি।

এবারের লিগে এখন পর্যন্ত ৭ ইনিংসে তিন সেঞ্চুরি ও দুই ফিফটিতে ১০২.৮৩ গড়ে মাহফিজুলের সংগ্রহ ৬১৭ রান।

ষষ্ঠ উইকেটে মাহফিজুলের সঙ্গে ১২১ রানের জুটি গড়েন শুভাগত হোম। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারের ব্যাট থেকে আসে ১০১ বলে ৭১ রান।

মাহফিজুলের ডাবল সেঞ্চুরি হওয়ার কিছুক্ষণ পর ৭ উইকেটে ৪৬৫ রানের ইনিংস ঘোষণা করে দেয় ময়মনসিংহ।

পরে দারুণ শুরু করেন চট্টগ্রামের দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদিকুর রহমান। শুরুর জুটিতে আসে ১০৯ রান। তবে দুজনের কেউই দিন পার করতে পারেননি।

৪২ রান করা সাদিকুরকে ফিরিয়ে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন রকিবুল হাসান। পরে দিনের একদম শেষ দিকে সেঞ্চুরির পথে এগোতে থাকা জয়কেও থামান ময়মনসিংহ অধিনায়ক। ৭ চার ও ১ ছক্কায় ১১৯ বলে ৭৬ রান করে ফেরেন জয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ময়মনসিংহ ১ম ইনিংস: (আগের দিন ২৯৯/৪) ১৩৪ ওভারে ৪৬৫/৭ডি. (মাহফিজুল ২১৭*, রিজান ১৪, শুভাগত ৭১, আবু হায়দার ১৫, রকিবুল ২*; সঞ্জিত ২১-৩-৯১-০, শরিফ ১৫-১-৪৬-০, ইফরান ২৬-৬-৯২-১, পরান ৩-১-৬-০, মুরাদ ৫০-৬-১৫৪-৩, জয় ১৮-২-৫৮-৩, শাহাদাত ১-০-১২-০)

চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস: ৪০ ওভারে ১৩৪/২ (জয় ৭৬, সাদিকুর ৪২, তাসামুল ১৪*, শাহাদাত ০*; আবু হায়দার ৫-০-৩২-০, গালিব ৩-০-১২-০, ইয়াসিন ৬-০-১৮-০, রকিবুল ১৫-৪-৩২-২, রিজান ৩-১-১৩-০, শুভাগত ৮-৩-২৬-০)

তিন ফিফটির পর জাকিরের সেঞ্চুরি

৬০, ৬৫ ও ৭১*- প্রথম তিন রাউন্ডে জাকির হাসানের সংগ্রহ। চতুর্থ ম্যাচে আর ভালো শুরুকে অপচয় হতে দেননি সিলেট অধিনায়ক। খুলনার বিপক্ষে দ্বিতীয় দিন শেষে ১৬০ রানে অপরাজিত বাঁহাতি এই ওপেনার।

কক্সবাজারের মাঠে বৃষ্টির কারণে প্রথম দিন টসও করা যায়নি। রোববার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৮০ ওভারে সিলেটের সংগ্রহ ২ উইকেটে ২৮০ রান।

উদ্বোধনী জুটিতে মুবিন আহমেদ দিশানকে নিয়ে ১৭০ রান যোগ করেন জাকির। ৭ চার ও ১ ছক্কায় ১৪৩ বলে ৭১ রান করে আউট হন তরুণ ওপেনার দিশান।

তবে অন্যপ্রান্তে অবিচল থেকে প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে ১৭তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন জাকির। ১৫ চার ও ৪ ছক্কার ইনিংসে তার সামনে এখন ডাবল সেঞ্চুরির সম্ভাবনা।

দিন শেষে জাকিরের সঙ্গে ২২ রানে অপরাজিত অমিত হাসান। মাঝে ২৪ রান করে আউট হন সৈকত আলি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

সিলেট ১ম ইনিংস: ৮৪ ওভারে ২৮০/২ (জাকির ১৬০*, মুবিন ৭১, সৈকত ২৪, অমিত ২২*; মেহেদি ১২-২-৪২-০, জিয়াউর ৪-১-৭-০, সৌম্য ১০-১-৪৪-১, নাহিদুল ২২-৪-৬৩-০, রাকিব ১২-১-৪৫-০, তানভির ১৯-৩-৫০-১, আফিফ ৩-১-১৯-০, আজিজুল ২-০-৭-০)

রাফসানের আক্ষেপ

সিলেটের একাডেমি মাঠে রংপুরের ৪০২ রানের জবাবে দারুণ লড়ছে বরিশাল। দিন শেষে তাদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৭৯ রান। একদম শেষ সময়ে রাফসান আল মাহমুদ কট বিহাইন্ড না হলে আরও ভালো অবস্থানে থাকত তারা।

৫ উইকেটে ৩২০ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে এদিন সুবিধা করতে পারেনি রংপুর। আর মাত্র ৮২ রান যোগ করতে বাকি ৫ উইকেট হারায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৯ রান করে আউট হন আবদুল্লাহ আল মামুন।

পরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে জাওয়াদ আবরারের উইকেট হারায় বরিশাল। দ্বিতীয় উইকেটে ৯৭ রান যোগ করেন রাফসান ও অধিনায়ক ইফতেখার হোসেন। যেখানে রাফসানই ছিলেন অগ্রণী ভূমিকায়।

দিনের ঘণ্টাখানেক সময় বাকি থাকতে আউট হন ৩৩ রান করা ইফতেখার। এরপর ফজলে মাহমুদকে নিয়ে সেঞ্চুরির কাছাকাছি চলে যান রাফসান।

তবে দিন শেষ হওয়ার আগের ওভারে বিলাসী ড্রাইভের চেষ্টায় উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন বাঁহাতি ওপেনার। ১০ চার ও ৩ ছক্কায় ১৬৮ বলে তিনি করেন ৮৯ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

রংপুর ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৩২০/৫) ১০৬.৩ ওভারে ৪০২ (মামুন ৭৯, আলাউদ্দিন ৪৬, হাশিম ৩, শাহরিয়া ২২, মেহেদি ২২*, লিওন ১২; কামরুল ২৩.৩-৩-৮২-২, রুয়েল ২৪-২-৮১-২, মইন ১৩-০-৬৪-১, মইনুল ২৩-০-৯৬-১, ইফতি ১০-০-৩৫-২, ইসলামুল ১৩-৩-৩৪-১)

বরিশাল ১ম ইনিংস: ৫৬.১ ওভারে ১৭৯/৩ (জাওয়াদ ২২, রাফসান ৮৯, ইফতেখার ৩৩, ফজলে মাহমুদ ২৯*, রুয়েল ০*; মেহেদি ১০-১-৫১-১, লিওন ১৯-৯-৩১-০, শাহরিয়া ৪-০-১৬-১, হাশিম ১৪-১-৩৯-০, ইকবাল ৪-১-২৩-০, আলাউদ্দিন ৩-০-৭-০, মামুন ২.১-০-৭-০)