Published : 13 Dec 2022, 09:16 PM
কুঁচকির চোটে প্রথম টেস্টে নেই তামিম ইকবাল। চট্টগ্রামে ভারতের বিপক্ষে ইনিংস সূচনার দায়িত্ব পড়তে পারে মাহমুদুল হাসান জয় ও জাকির হাসানের কাঁধে। তিন নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নাজমুল হোসেন শান্তর খেলা প্রায় নিশ্চিত। তিন জনের কেউ অভিজ্ঞতায় খুব সমৃদ্ধ নয়। তবে তাদের সামর্থ্যে আস্থা রয়েছে রাসেল ডমিঙ্গোর। নিজেদের প্রমাণে তরুণ এই তিন ব্যাটসম্যানকে পর্যাপ্ত সময় দিতে চান বাংলাদেশের প্রধান কোচ।
ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটা ভালো কাটেনি শান্তর। প্রথম দুই ম্যাচে ২১ ও ০ রানে ফেরার পর বাদ পড়েন একাদশ থেকে। টেস্টেও তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নয় ভালো কিছু। বছরের শুরুতে মাউন্ট মঙ্গানুইউয়ে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে ৬৪ রান করার পর গত ১৪ ইনিংসে ফিফটির দেখা পাননি তিনি। মাঝে টানা পাঁচ ইনিংস আটকে গেছেন দুই অঙ্কে পৌঁছার আগেই।
শান্তর মতোই অবস্থা ডানহাতি ওপেনার জয়ের। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে ওই একই টেস্টে প্রায় ৫ ঘণ্টা ব্যাট করে ২২৮ বল খেলে ৭৮ রান করেন তিনি। পরের টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডারবানে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টায় খেলেন ১৩৭ রানের ইনিংস। সেই জয় পরের ১০ ইনিংসে ফিফটি করতে পেরেছেন স্রেফ একটি। শূন্য রানের তেতো স্বাদ পেয়েছেন সবশেষ পাঁচ টেস্টে চারবার। ওই সেঞ্চুরির পর স্বীকৃতি ক্রিকেটে ১৩ ইনিংসে ফিফটির দেখা পেয়েছেন স্রেফ একবার।
জাকিরের বাস্তবতা অবশ্য ভিন্ন। এখনও টেস্ট ক্রিকেটে যাত্রা শুরু হয়নি তার। জাতীয় ক্রিকেট লিগ, বাংলাদেশ ক্রিকেট ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে রানের ফোয়ারা ছুটিয়ে তিনি ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষেও খেলেছেন ১৭৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। যার পুরস্কার হিসেবে ডাক পেয়েছেন টেস্ট দলে। চট্টগ্রামে টেস্ট অভিষেকও হয়ে যাচ্ছে তার।
মাঝেমধ্যে টপ অর্ডারে খেললেও জাকির মূলত মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানই। সম্প্রতি ‘এ’ দলের হয়ে অবশ্য দারুণ এক সেঞ্চুরি করেছেন ওপেনিংয়ে। টেস্টেও তাকে বিবেচনা করা হচ্ছে ইনিংস শুরুর জন্যই। যেমনটা অভিষেকের পর থেকে করে আসছেন জয়। নিজেদের পছন্দের জায়গা ছেড়ে নতুন কোথাও খেলা যে সহজ নয়, তা জানেন ডমিঙ্গো। তাদের কাঁধে তাই আস্থার হাত রাখছেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ।
“বছর দেড়েক আগে টেস্ট ক্রিকেটে ভালো ছাপ রেখেছে শান্ত। দুটি সেঞ্চুরি করেছে সে, যার একটি শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য টপ অর্ডারে খেলা কঠিন। জয় ও জাকির সহজাত ওপেনার নন। তারা ৩-৪ নম্বরে ব্যাটিং পছন্দ করে।”
“এই পর্যায়ে এসব তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে আমাদের ধৈর্য রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম তিনের মধ্যে ব্যাটিং করা সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন কাজ। আশা করি, তারা আস্থার প্রতিদান দেবে এবং কোচ-নির্বাচকেরা তাদের ধরে রাখার সুযোগ পাবে।”
অন্য দুই সংস্করণের তুলনায় টেস্ট ক্রিকেটে তুলনামূলক ভালো শান্তর পরিসংখ্যান। এখন পর্যন্ত ১৯ ম্যাচের ক্যারিয়ারে ৩৬ ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দুটি করে ফিফটি ও সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তিনি।
তবে বারবার থিতু হয়েও আউট হয়ে যাওয়া তার বড় সমস্যা। ১৮টি ইনিংসে দু অঙ্ক ছুঁয়েও থেমে গেছেন ফিফটির আগে। এই ১৮ ইনিংসের প্রতিটিতে অন্তত ৩০ বল খেলেছেন তিনি। অর্থাৎ শুরুর চ্যালঞ্জিং সময়টা পার করে দিতে পারলেও পরে আর ইনিংস বড় করতে পারছেন না তিনি।
এই সমস্যার সমাধান পাওয়া হবে বলেও আশাবাদী ডমিঙ্গো।
“হ্যাঁ, এটি চিন্তার বিষয় বটে। কারণ ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে কঠিন ধাপ হলো শুরুর সময়টা। সে অনেক ম্যাচেই ২০-৩০ রান করে আউট হয়ে গেছে। সে নিজেও এ বিষয়ে সচেতন। আমরা এটি নিয়ে কথা বলেছি।”