‘নীরব-স্তব্ধ’ ড্রেসিংরুমেই জয়ের কলতানের আশা

বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় ক্রিকেটাররাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন জানিয়ে টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ বললেন, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততে মরিয়া দল।

আরিফুল ইসলাম রনিআরিফুল ইসলাম রনিদিল্লি থেকেবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Nov 2023, 05:43 PM
Updated : 3 Nov 2023, 05:43 PM

সময়টা সকাল নাকি সন্ধ্যা- একরকম বিভ্রান্তিতে পড়ার অবস্থাই হয়েছিল। শুক্রবার সকাল থেকে দিল্লির আবহাওয়া গুমোট, চারপাশ ঘোলাটে। সাতসকালেই অন্ধকার নেমে এসেছে যেন! নাহ, আকাশ মেঘলা হয়নি কিংবা শীতের আগমণী কুয়াশাও পড়েনি। দিল্লির কুখ্যাত বায়ু দুষণের প্রামাণ্য চিত্র এটি!

আগের দিন থেকেই অবশ্য দূষণের মাত্রা বাড়ছিল। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল তাই ঘোষণা দিয়েছেন, দুই দিন বন্ধ থাকবে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়। জরুরি নির্মাণ কাজ ছাড়া আর সব নির্মাণ কাজও বন্ধ থাকবে এই দুইদিন। সেই সঙ্গে আরও অনেক নিষেধাজ্ঞা-নির্দেশনা। বাংলাদেশ দলের অনুশীলনও পড়ে গেল সেই কাতারেই।

আরুন জেটলি স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনুশীলন করার কথা ছিল দলের। কিন্তু দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টিম অপারেশন্স ম্যানেজার রাবিদ ইমামের বার্তা, দলের অনুশীলন বাতিল করা হয়েছে। দল থেকে আনুষ্ঠানিক কারণ তখনও বলা হয়নি। তবে সন্ধ্যায়, সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ নিশ্চিত করেন, বায়ু দূষণের কারণেই বাতিল করা হয়েছে অনুশীলন।

বছরের এই সময়টায় দিল্লির প্রতিবেশি দুই রাজ্য পাঞ্জাব ও হারিয়ানায় ফসল কাটার উৎসব চলে। গোটা ভারতের বড় অংশের ফসল উৎপাদিত হয় এই অঞ্চলেই। ফসল কাটার পর কৃষকেরা খড়কুটো সব পুড়িয়ে ফেলেন। সেই ধোঁয়া থেকেই মূলত দিল্লির বাতাসের এই দূষণ।

বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের যা পারফরম্যান্স, পাঞ্জাব-হারিয়ানার ফসলের খড়ের মতো যেন পুড়ছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও। খালেদ মাহমুদের দাবি অন্তত সেরকমই। টিম ডিরেক্টর বললেন, বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সে অনুতাপ-অনুশোচনার আগুনে পুড়ছেন ক্রিকেটাররা।

“বাংলাদেশ দলকে আমি যেভাবে দেখি, সেটির ২৫-৩০ ভাগও আমরা খেলতে পারিনি। দল হিসেবে খেলতে পারিনি। আমরা সবাই একটু স্তব্ধ আসলে। বাংলাদেশের এরকম পারফরম্যান্স আমি কবে সবশেষ দেখেছি, মনে পড়ে না সত্যি কথা বলতে গেলে।”

“ওরা ভালো খেলছিল বলেই আমাদের এতটা প্রত্যাশা ছিল। এখন ওরা ভালো খেলেনি, ওরাও বুঝতে পারছে। এজন্য ওরাও ব্যথিত এবং তারা অনুভব করতে পারছে যে ভালো কিছু করতে পারছে না। সবার শরীরী ভাষার কথা যদি বলি, ড্রেসিং রুম অনেক নীরব হয়ে গেছে আসলে।”

কেন এবারের বিশ্বকাপে এমন বিপর্যয়, কেন এতটা ভরাডুবি, দলের কেউ তা বুঝতে পারছেন না বলেই দাবি খালেদ মাহমুদের। ডুবন্ত মানুষের খড়কুটো আকঁড়ে ধরার মতোই এখন তিনি আশায় বুক বেঁধে আছেন দিল্লিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের আশায়।

“কেন দল ভালো খেলছে না, এটার উপযুক্ত উত্তর কিন্তু আমরা দিতে পারছি না। আমরা বুঝতে পারছি না, যে দল এত ভালো খেলছিল, তাদের কেন এত সমস্যা হচ্ছে। আমরা চাই সব ব্যর্থতা ঝেরে… যেহেতু একটু সময় পাওয়া গেছে, ছেলেরা ক্রিকেট থেকে একটু দূরেও আছে দুই-তিনদিন। আমার মনে হয়, যখন আমরা ফিরব, তখন যেন সেরা ক্রিকেট খেলতে পারি।”

“দল তো অবশ্যই ভালো নেই। এরকম তো কাম্য ছিল না কারও। আমরা তো জানি যে ভালো খেলছি না, ভালো করছি না। তারপরও এখনও আমাদের দুটি ম্যাচ আছে। দিল্লিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য। কিছু পাওয়ার বলতে গেলে এখন আমাদের একটা জিনিসই আছে। আর তো কিছু পাওয়ার নেই।”

একেকটি ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে, আর সংবাদ সস্মেলনে নতুন আশার কথা বলে গেছেন দলের প্রতিনিধিরা। আশা পূরণ হয়নি। এখন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার যোগ্যতাকে ঘিরেই নতুন আশার বেসাতি। বিরুদ্ধ সময়ের সঙ্গে লড়াই করে ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপের শেষটা ভালো করবেন বলেই আশা টিম ডিরেক্টরের।

“দিনশেষে বেঁচে থাকতে হবে। কালকে আবার সূর্য উঠবে, কালকে আবার লড়াই করতে হবে…. ওরাও তা জানে। ওদেরকে তো আসলে বলার কিছু নেই। তারাও যে খুব ভালো অবস্থায় আছে, তা নয়। তবে মানুষকে তো চলতে হবে, বেঁচে থাকতে হবে, বাইরে যেতে হবে, ঘুরতে হবে, খেতে হবে, সবই করতে হবে। তবে ক্রিকেট বা এই খারাপ খেলাটা অবশ্যই ওদের মাথায় আছে। ওরা ভালো করতে পারেনি, এটায় আমাদের সবার চেয়ে ওদেরই বেশি কষ্ট হচ্ছে।”

“তবে যেটা বললাম, সব ঝেরে আমাদের সামনে তাকাতে হবে। আরও দুটি ম্যাচ আছে। দুটি না বলে আগে একটি বলি, ৬ তারিখের ম্যাচটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ। ৬ তারিখে জিততেই হবে, আর কোনো উপায় নেই। আমি বিশ্বাস করি, আমরা যথেষ্ট ভালো দল হিসেবে এখানে এসেছিলাম এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের সামর্থ্য আমাদের আছে।”

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই লড়াইয়ের জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুতি কতটা নিতে পারবে, সেই সংশয় থাকছে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার দিল্লির ‘এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স’ ছিল ভয়ঙ্কর পর্যায়ে। শনিবারও সেরকমই থাকার কথা। খালেদ মাহমুদ যদিও জানালেন, বায়ু দূষনের মাত্রা শনিবার বেশি থাকলেও কিছু করার নেই, দল অনুশীলন করবেই।

২০১৯ সালে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে ভারতে এসেও দিল্লির বায়ু দূষণের কবলে পড়তে হয়েছিল বাংলাদেশ দলকে। সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞার পরপর সেবারও বাংলাদেশের ক্রিকেট ছিল টালমাটাল। কিন্তু মাঠের ক্রিকেটে সেবার এখানে ভারতের বিপক্ষে দারুণ এক জয় পেয়েছিল দল। এবারও কী হবে তেমন কিছু!