সুরিয়াভানশিকে নিয়ে মাতামাতি ‘কারো জন্যই ভালো নয়’
ভারতের ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাকের মতে, কাউকে ভালো লাগলেই তাকে খেলানো যায় না।
বৈভাব সুরিয়াভানশির একাদশে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে আলোচনা যেন থামার নয়। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির আগে সিতাংশু কোটাকের সংবাদ সম্মেলনেও উঠল এই প্রসঙ্গ। এই কিশোর সেনসেশনকে নিয়ে এত আলোচনা সবার জন্যই ক্ষতিকর বলে মনে করেন ভারতের ব্যাটিং কোচ।
টি-টোয়েন্টিতে ওপেনিংয়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো করছেন আভিশেক শার্মা ও সাঞ্জু স্যামসন। তাতে ভারতের একাদশে নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছেন না ১৫ বছর বয়সি সুরিয়াভানশি। এ নিয়ে দেশটির ক্রিকেট আঙিনায় চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।
চলতি বছরের শুরুতে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের দলে প্রথমবার ডাক পান সুরিয়াভানশি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকও হয়ে যায় তার। জিম্বাবুয়েতে পরের সিরিজে বাঁহাতি এই ওপেনার হন সিরিজ সেরা।
স্যামসন ফেরায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরের সিরিজেই একাদশ থেকে বাদ পড়েন সুরিয়াভানশি। বেঞ্চে বসে থাকতে হয় তাকে। এরপর তিনি সুযোগ পান এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে, সেখানে দুই ম্যাচে ১৭৬.৬৬ স্ট্রাইক রেটে করেন ৫৩ রান।
সুরিয়াভানশিকে সুযোগ দিতে এশিয়ান গেমসের ওই দুই ম্যাচে তিন নম্বরে ব্যাট করেন স্যামসন। পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাঁচ টি-টোয়েন্টির একটিতেও একাদশে জায়গা হয়নি সুরিয়াভানশির। নিউ জিল্যান্ড সফরের দলেও আছেন তিনি। কিন্তু প্রথম টি-টোয়েন্টিতে পাননি খেলার সুযোগ।
এই সফরের প্রথম ম্যাচের আগেই অবশ্য ভারত অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার বার্তা দিয়ে রাখেন যে, আরও অপেক্ষা করতে হবে সুরিয়াভানশিকে। এবার কোটাক বললেন, প্রতিভাবান হলে কিংবা জনপ্রিয় হলেই কাউকে খেলানো যায় না।
“সে খুবই তরুণ, তবে টিম ম্যানেজমেন্টের সবাই যেভাবে তার খেয়াল রাখেন- আমি নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি লক্ষ্য করি- সবাই তাকে পছন্দ করে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সে জনপ্রিয়, দলের মধ্যেও সবাই তাকে পছন্দ করে। কিন্তু লোকে তাকে পছন্দ করে বলেই একাদশে পরিবর্তন আনতে পারেন না।
“সে খুবই প্রতিভাবান। আমি বিশ্বাস করি, তার সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। তাই সে যখন সুযোগ পাবে এবং দলে থিতু হবে, অনেক কিছু শিখবে।”
চোটের কারণে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি থেকে ছিটকে গেছেন ইশান কিষান। তাই পরের ম্যাচে সুরিয়ানভানশির একাদশে ফেরার সম্ভাবনা প্রবল।
সুরিয়াভানশির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন কোটাক। তবে তাকে নিয়ে এত মাতামাতি ভালো লাগছে না তার।
“আমার মনে হয়, শুরুতে ‘তাকে খেলাতে হবে’ এমন একটা তীব্র আলোচনা ছিল। সত্যিকার অর্থে আমার মনে হয়, এটা খেলোয়াড়ের জন্যও ভালো নয়। মাত্র ১৫-১৬ বছর বয়সি একটি ছেলে এবং সবাই বলছে ‘তার খেলা উচিত’ এবং ‘তাকে দলে নেওয়া হচ্ছে না’…।
“সে খুব ছোট। এটা আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং দুঃখজনক। আর অন্য ওপেনারদের জন্যও বিষয়টি দুঃখজনক; তারা ভালো পারফর্ম করা সত্ত্বেও মানুষ প্রশ্ন তুলছে, ‘সে কেন খেলছে?’”
একাদশে সুযোগ না পাওয়া সুরিয়াভানশি পুরো পরিস্থিতি বুঝতে পারছেন বলে মনে করেন কোটাক।
“সে এখন অনেক পরিণত। সে বোঝে যে সাঞ্জু ভালো খেলছে, কিংবা আভিশেক ভালো খেলছে- তাদের কীভাবে বাদ দেবে? মিডল অর্ডারও ঠাসা। সবাই তা বোঝে, তবে সে খেলতে চায়। তার জায়গায় থাকলে আমিও চাইতাম।
ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে শনিবার হবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি।
