কামিন্সকেই ওয়ানডের নেতৃত্বে দেখছেন পন্টিং

কামিন্সের নিজের আগ্রহ খুব একটা না থাকলেও তাকে ওয়ানডের নেতৃত্বে না দেখলে অবাক হবেন এই অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Sept 2022, 10:36 AM
Updated : 19 Sept 2022, 10:36 AM

ওয়ানডে নেতৃত্ব আপাতত নিয়ে ভাবছেন না, কদিন আগে স্পষ্টই বলে দিয়েছেন প্যাট কামিন্স। তবে তাকে নিয়েই ভাবছেন রিকি পন্টিং। ওয়ানডে ইতিহাসের সফলতম অধিনায়ক এই অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তির ধারণা, টেস্ট অধিনায়কের কাঁধেই দেওয়া হবে অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে দলের ভার।

সম্প্রতি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসরে চলে যান অ্যারন ফিঞ্চ। তার বিদায়ের পর নতুন অধিনায়ক খুঁজছে অস্ট্রেলিয়া।

টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের নাম এখানে চলে আসছে স্বাভাবিকভাবেই। তবে ফাস্ট বোলার হওয়ায় ওয়ার্কলোড কমাতে অনেক সময়ই সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয় তাকে। কামিন্স নিজেও সপ্তাহখানেক আগে বলেন, ফাস্ট বোলার হিসেবে তার বিশ্রাম প্রয়োজন, তাই দায়িত্বের পরিধি বাড়ার কথা ভাবতেও পারছেন না।

কিন্তু পন্টিং আপাতত বিকল্প খুব একটা দেখছেন না। আইসিসি রিভিউ-এ দুটি বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক শোনালেন তার ভাবনা।

“আমার ধারণা, প্যাট কামিন্সই দায়িত্বটি পাবে। জানি, সঙ্গত কারণেই সব ওয়ানডেতে সে খেলে না। অন্য সব ফাস্ট বোলারদের মতোই গত কয়েক বছরে টেস্ট ক্রিকেটে তার ওয়ার্কলোড ছিল অনেক। সামনের টেস্ট সিরিজগুলোতে কামিন্স, (জশ) হেইজেলউড ও (মিচেল) স্টার্ককে শতভাগ ফিট পাওয়া নিয়ে তাদের সতর্কতার কথাও জানি। তারপরও, দায়িত্বটি কামিন্স না পেলে অবাকই হব।”

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়াকে এখনও নেতৃত্ব দেওয়া হয়নি কামিন্সের। বর্তমান দলে এই অভিজ্ঞতা আছে স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারের। স্মিথ অবশ্য এর মধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, তার আগ্রহ খুব একটা নেই। ওয়ার্নার আবার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন প্রকাশ্যেই।

ওয়ার্নারের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা, বল টেম্পারিং বিতর্কের জের ধরে তার নেতৃত্বের আজীবন নিষেধাজ্ঞা। স্মিথের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা ছিল দুই বছরের। নিষেধাজ্ঞা শেষে তাকে টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে।

পন্টিংয়ের মতে, একইভাবে নেতৃত্বের নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি দেওয়া উচিত ওয়ার্নারকেও।

“স্টিভ স্মিথের ক্ষেত্রে যা হয়েছে, স্রেফ সেটির প্রেক্ষিতেই বলছি…কেপ টাউনে ওই বিতর্কের সময় সে ছিল অধিনায়ক ও বিতর্কের কেন্দ্রে… সে এখন টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক। মানে কামিন্স কোনো টেস্টে না থাকলে স্টিভ স্মিথই নেতৃত্ব দেবে। এটাই যদি হয় এবং সবকিছুতে সমতা ও ন্যায্যতার কথা যদি বলা হয়, আমার মতে ডেভিড ওয়ার্নারের নামও থাকা উচিত (নেতৃত্বের আলোচনায়)।”

“আমি বলছি না যে ওয়ার্নারকেই অধিনায়ক করতে হবে। তবে আলোচনায় তার নামও থাকা উচিত।”

ফিঞ্চের ব্যাটিং ফর্মের যা অবস্থা ছিল, তাতে তার অবসরে অবাক হনি পন্টিং। বরং তিনি উত্তরসূরীর প্রশংসাই করলেন সময়মতো সরে যাওয়ায়।

“সত্যি বলতে, বিস্মিত হইনি। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হচ্ছিল, এমনিতেই সে বাদ পড়া থেকে স্রেফ একটি ম্যাচ বা আর একটি ব্যর্থতা থেকে দূরে ছিল। ওয়ানডেতে তার গত ১২ মাসের ব্যাটিং ফর্ম এতটাই বাজে ছিল।”

“আমার মনে হয়, এটিই ছিল সঠিক সময়। একটা কথা সে (ফিঞ্চ) দারুণ বলেছে যে, বিশ্বকাপের জন্য দলকে প্রস্তুত করে তুলতে পরবর্তী অধিনায়ককে যথেষ্ট সময় দিতে চায়। এটাই উচিত।”

“আমি যখন নেতৃত্বে পেলাম, তখন আমাকেও এই সময়টা দেওয়া হয়েছিল। পরে আমি যখন সরে দাঁড়াই এবং মাইকেল ক্লার্ক দায়িত্ব নেয়, আমিও জানতাম, সামনে কী অপেক্ষায়। পরবর্তী বড় টুর্নামেন্টের আগে অধিনায়ককে যথেষ্ট সময় দিতে চেয়েছিলাম আমি।”

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার আর কোনো ওয়ানডে নেই। নতুন অধিনায়ক নির্বাচনে তাই কিছুটা সময় পাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকরা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক