জয়সওয়ালের দ্বিশতকের পর আগুনে বোলিংয়ে বুমরাহর ৬ উইকেট

জাসপ্রিত বুমরাহর রিভার্স সুইংয়ে এলোমেলো ইংল্যান্ড, প্রথম ইনিংসে বড় লিড নিয়ে দিন শেষে আরও এগিয়ে ভারত।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Feb 2024, 01:59 PM
Updated : 3 Feb 2024, 01:59 PM

জাসপ্রিত বুমরাহর এক ওভারে চারটি বাউন্ডারিতে জ্যাক ক্রলি নিলেন ১৬ রান। টেস্টে এটিই তার সবচেয়ে খরুচে ওভার। সেই বিবর্ণতা ঝেড়ে ভারতীয় পেসার ঘুরে দাঁড়ালেন দোর্দণ্ড প্রতাপে। রিভার্স সুইংয়ের অসাধারণ প্রদর্শনীতে গুঁড়িয়ে দিলেন ইংলিশ ব্যাটিং। ভারত পেল বড় লিড। 

বিশাখাপাত্নাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম ভাগে ইয়াশাসবি জয়সওয়ালের অসাধারণ দ্বিশতকের পর বুমরাহর বিধ্বংসী বোলিংয়ে চালকের আসনে বসে গেল ভারত। 

প্রথম ইনিংসে ভারতের ৩৯৬ রানের জবাবে ইংল্যান্ড অল আউট ২৫৩ রানে। দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকদের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ২৮ রান। 

প্রথম ইনিংসের ১৪৩ রানের লিড মিলিয়ে রোহিত শার্মার দল এগিয়ে আছে ১৭১ রানে। 

ক্রলির আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে একটা পর্যায়ে ইংল্যান্ডের রান ছিল ১ উইকেটে ১১৪। সেখান থেকে তারা এলোমেলো হয়ে যায় বুমরাহর দারুণ বোলিংয়ে। 

স্রেফ ৪৫ রানে ৬ উইকেট নেন বুমরাহ। সবগুলো উইকেটই আসে তার শেষ তিনটি ছোট্ট স্পেলে, ৭১ বলের মধ্যে। উইকেটে পেসারদের সহায়তা তেমন একটা ছিল না। কিন্তু গতি ও রিভার্স সুইংয়ের মিশেলে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন তিনি। 

৩৪ টেস্টে এই নিয়ে ১০ বার ইনিংসে পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন বুমরাহ। তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেরা বোলিং এটি। দেশের মাঠে এটিই সেরা। 

প্রথম দুটি স্পেলে চার ওভারে ২৪ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন বুমরাহ। চতুর্থ ওভারটিতে ১৬ রান দেওয়ার পর তাকে বোলিং থেকে সরিয়ে নেন অধিনায়ক রোহিত। 

ইংল্যান্ড রান তুলছিল ওভারপ্রতি প্রায় ৬ করে। বেন ডাকেটকে (১৭ বলে ২১) ফিরিয়ে ৫৯ রানের শুরুর জুটি ভাঙেন কুলদিপ ইয়াদাভ। বাঁহাতি রিস্ট স্পিনারের বাড়তি বাউন্সে সিলি পয়েন্টে ধরা পড়েন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। 

তিনে নামা অলিভার পোপ খেলেন রয়েসয়ে। ক্রলি চালিয়ে যান আক্রমণ। কুলদিপকে স্লগ সুইপে ছক্কায় উড়িয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি ৫২ বলে। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা এই ব্যাটসম্যানকে থামান আকসার প্যাটেল। বাঁহাতি স্পিনারকে বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় বল উঠে যায় ওপরে। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট থেকে অনেকটা পেছনে দৌড়ে দারুণ ক্যাচ নেন শ্রেয়াস আইয়ার। 

ক্রলির ৭৮ বলে ৭২ রানের ইনিংস গড়া ১১ চার ও ২ ছক্কায়। 

পরের ওভারে বোলিংয়ে ফেরানো হয় বুমরাহকে। এ যাত্রায় দ্বিতীয় ওভারে আউটসুইঙ্গারে জো রুটকে প্রথম স্লিপের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তিনি। তার পরের ওভারে দুর্দান্ত এক ইনসুইং ইয়র্কারের জবাব খুঁজে পাননি পোপ, ছত্রখান হয়ে যায় স্টাম্প। 

আগের টেস্টে ১৯৬ রানের ইনিংস খেলা ব্যাটসম্যান এবার ফেরেন ৫৫ বলে ২৩ রান করে। 

এই নিয়ে রুটকে ২০ ইনিংসে আটবার ও পোপকে ১০ ইনিংসে পাঁচবার আউট করলেন বুমরাহ। 

শেষ সেশনের শুরুতে বুমরাহর তৃতীয় শিকারে পরিণত হন জনি বেয়ারস্টো (৩৯ বলে ২৫)। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করে স্লিপে ধরা পড়েন তিনি। 

স্পিনের সামনে টিকতে পারেননি বেন ফোকস ও রেহান আহমেদ। দুর্দান্ত ডেলিভারিতে ফোকসকে বোল্ড করার পর রেহানকেও ফেরান কুলদিপ। 

তখন ১৮২ রানে ৭ উইকেট হারানো ইংল্যান্ডকে টানেন অধিনায়ক বেন স্টোকস। দলের স্কোর দুইশ পার করে তিনি নিজে পৌঁছে যান ফিফটির দুয়ারে। এরপরই আরেক দফা আক্রমণে এসেই অফ কাটারে স্টোকসকে (৫৪ বলে ৪৭) বোল্ড করে দেন বুমরাহ। 

স্টোকসকে ফিরিয়ে টেস্টে ১৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন ৩০ বছর বয়সী পেসার। পরের ওভারে টম হার্টলিকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। পরে জেমস অ্যান্ডারসনকে এলবিডব্লিউ করে গুটিয়ে দেন সফরকারীদের ইনিংস। 

১২ ওভারে ৬১ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। দেশের মাটিতে টেস্টে এই নিয়ে স্রেফ পঞ্চমবার এমন অভিজ্ঞতা হলো তার। 

দিনের শেষ ভাগে দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ ওভার ব্যাটিং করে কোনো বিপদ হতে দেননি জয়সওয়াল ও রোহিত। 

দিনের শুরুটা ছিল জয়সওয়ালের। ১৭৯ রানে দিন শুরু করা ব্যাটসম্যান শোয়েব বাশিরকে ছক্কায় উড়িয়ে এগিয়ে যান দুইশর দিকে। এই অফ স্পিনারের পরের ওভারের প্রথম দুই বলে চার ও ছক্কায় ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। 

ভারতের টেস্ট ইতিহাসের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরিয়ান এখন ২২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। 

এরপর আর বেশিদূর এগোতে পারেননি জয়সওয়াল। অ্যান্ডারসনের বল উড়িয়ে মারার চেষ্টায় ধরা পড়েন ২০৯ রান করে। তার ২৯০ বলের ইনিংসে চার ১৯টি, ছক্কা ৭টি। 

শেষ ৪ উইকেটে এ দিন আর ৬০ রান যোগ করতে পারে ভারত।  ৪৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সফলতম বোলার অ্যান্ডারসন। প্রথম পেসার হিসেবে ৭০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁতে ৪১ বছর বয়সী পেসারের প্রয়োজন আর ৭ শিকার। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

ভারত ১ম ইনিংস: ১১২ ওভারে ৩৯৬ (আগের দিন ৩৩৬/৬) (জয়সওয়াল ২০৯, অশ্বিন ২০, কুলদিপ ৮, বুমরাহ ৬, মুকেশ ০; অ্যান্ডারসন ২৫-৪-৪৭-৩, রুট ১৪-০-৭১-০, হার্টলি ১৮-২-৭৪-১, বাশির ৩৮-১-১৩৮-৩, রেহান ১৭-২-৬৫-৩) 

ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৫৫.৫ ওভারে ২৫৩ (ক্রলি ৭৬, ডাকেট ২১, পোপ ২৩, রুট ৫, বেয়ারস্টো ২৫, স্টোকস ৪৭, ফোকস ৬, রেহান ৬, হার্টলি ২১, অ্যান্ডারসন ৬, বাশির ৮*; বুমরাহ ১৫.৫-৫-৪৫-৬, মুকেশ ৭-১-৪৪-০, কুলদিপ ১৭-১-৭১-৩, অশ্বিন ১২-০-৬১-০, আকসার ৪-০-২৪-১) 

ভারত ২য় ইনিংস: ৫ ওভারে ২৮/০ (জয়সওয়াল ১৫*, রোহিত ১৩*; অ্যান্ডারসন ২-০-৬-০, বাশির ২-০-১৭-০, রেহান ১-০-৫-০)