১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

অবশেষে শুরু হচ্ছে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার কার্যক্রম

সাতটি আঞ্চলিক সংস্থার মধ্যে পাঁচটির কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে, জানালেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Jun 2023, 10:40 PM

Updated : 12 Jun 2023, 10:40 PM

বছর দশেক আগে বিসিবি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই দেশের ক্রিকেটে বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা চালুর কথা জানান নাজমুল হাসান৷ কিন্তু এরপর সময় গড়ানোর সঙ্গে বেড়েছে শুধু অপেক্ষা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে শুরু হচ্ছে এর কার্যক্রম।

সোমবার পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার কার্যক্রম শুরু করা নিয়ে ইতিবাচক খবর শোনান বিসিবি সভাপতি।

"আমরা বেশ কিছুদিন ধরেই আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা নিয়ে কাজ করছি। আজকে যত নিয়ম-কানুন আছে সবকিছু দেখে যে অ্যাডহক কমিটি হবে, এর অধীনে দুই বছরের মধ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিতে হবে। এসব শেষে সাতটার মধ্যে পাঁচটির অনুমোদন দিয়েছি।" 

"আরেকটিতে (খুলনা) আমাদের যে দায়িত্বে ছিলেন, (শেখ) সোহেল ভাই বিদেশে থাকায় জমা দিতে পারেননি। আর একটা পাইনি, বরিশালে (আলমগীর হোসেন) আলো ভাই অসুস্থ। উনার অবর্তমানে করতে চাচ্ছি না। উনি সুস্থ হয়ে এলে বরিশালেরটা নেবো।"

তবে সাতটি আঞ্চলিক সংস্থা করা হলেও, আপাতত পাঁচটির কার্যক্রম শুরু হবে।

"সবচেয়ে বড় কথা, আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার আমরা যে ৬টি অ্যাডহক কমিটি পেয়ে গিয়েছি; সুনির্দিষ্ট করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী ও সিলেট- ওদের কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে। অনেকদিন পরে হলেও এটি বড় অর্জন।"

ক্রিকেটের বিকেন্দ্রীকরণ, ক্রিকেট প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করা, ক্রিকেট আরও ছড়িয়ে দেওয়া ও তৃণমূল থেকে প্রতিভা তুলে আনার জন্য আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার দাবি দেশের ক্রিকেটে বহু দিনের। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর থেকেই নানা সময়ে এটি চালুর আশ্বাস দিয়েছে বিসিবির কমিটিই। কিন্তু তা পূরণ হয়নি কখনোই।

নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বাধীন এই কমিটিও গত ১০ বছরে বারবার বলেছে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে সেটির প্রমাণ দেখা যায়নি। ২০১২ সালের অক্টোবরে প্রথমে সরকার মনোনীত হিসেবে এক বছর দায়িত্ব পালনের পর নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে চার বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি প্রথম দফায়। তখনও এটার অগ্রগতি হয়নি।

দ্বিতীয় দফায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৭ সালের ১ নভেম্বর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের প্রথম এবং প্রাথমিক কাজ হবে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা গড়া। আমরা চেষ্টা করব আগামী ৬ মাসের মধ্যে এটি চূড়ান্ত করতে…. আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা গড়াকেই আমরা সবার আগে প্রাধান্য দেব। চেষ্টা করব খুব শিগগিরই, এমনও হতে পারে তিন মাসের মধ্যে সব তৈরি করে ফেলেছি।”

২০১৮ সালের এপ্রিলে তিনি আবার বলেন, এক মাসের মধ্যে শুরু হবে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার কার্যক্রম। হয়নি সেটাও। ওই বছরের জুনে আবার তিনি বলেন, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও রংপুর বিভাগে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা গঠন করার লক্ষ্যে আঞ্চলিক ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তারা দ্রুত কাজ শুরু করবেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, সেসবের কিছুই হয়নি।

পরে কোভিডে বাধার কথা বলা হয়েছে। নানা সময়ে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা উঠে এসেছে বোর্ড কর্তাদের কথায়। গত বছরের জুলাইয়ে বিসিবির বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে বোর্ড প্রধান জানান, গঠনতন্ত্রের ধারা সংশোধন করার পর এখন আর আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা করতে বাধা নেই।

এরপর টুকটাক কাজ এগোলেও দুশ্যমান বড় অগ্রগতি ছিল না। অবশেষে এবার চালুর ঘোষণা এলো।