১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

পাকিস্তানের ‘ট্রাম্প কার্ড’ নিষ্ক্রিয় করতে অশ্বিনের চমকপ্রদ টোটকা

ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কেউ এটা করে দেখাতে পারবেন কি না, সেটা অবশ্য নিশ্চিত নন ভারতের স্পিন গ্রেট।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Feb 2026, 02:45 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:56 PM

বল করার আগে একটু থেমে তার পর ডেলিভারি করবেন উসমান তারিক, সেটা এখন সবারই জানা। ঠিক তখন যদি বলটি না খেলে সরে যান ব্যাটসম্যান! এই প্রশ্নটিই ছুড়ে দিয়েছেন রাভিচান্দ্রান অশ্বিন। ক্রিকেট চিন্তক হিসেবে আলাদা একটা পরিচিত বরাবরই আছে ভারতের এই স্পিন গ্রেটের। ব্যতিক্রমী সব ভাবনা দিয়ে চমকে দেন অনেক সময়ই। পাকিস্তানের আলোচিত স্পিনারের বোলিং অ্যাকশন সামলানোর ক্ষেত্রেও তিনি বাতলে দিলেন অদ্ভুত দাওয়াই। 

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলতি আসরে একটি ম্যাচেই তারিককে খেলায় পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে দলের ৩২ রানের জয়ে ৩ উইকেট নিয়ে অবদান রাখেন তিনি। তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আলোচনা চলছে আরও অনেক আগে থেকেই। বিশ্বকাপের ম্যাচের পর সেই আলোচনা-সমালোচনা পালে লেগেছে জোর হাওয়া। অনেকের মনেই সংশয় তার অ্যাকশনের বৈধতা নিয়ে, অনেকে সরাসরিই তুলছেন চাকিংয়ের অভিযোগ। 

বোলিংয়ের সময় স্টাম্পের কাছে এসে একটু থেমে এরপর কিছুটা সাইড-আর্ম অ্যাকশনে বল ছাড়েন তারিক। তবে অশ্বিন আগেও বলেছেন, ব্যতিক্রমী এই স্পিনারের অ্যাকশনে কোনো সমস্যা তিনি দেখেন না। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগে নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘অ্যাশ কি বাত’-এ একই কথা বললেন তিনি।

“আমার যদি স্বাভাবিক বোলিং অ্যাকশন থাকে, কিন্তু হুট করে ওভারের শেষ ডেলিভারিটি করার সময় একটু থেমে গিয়ে বল ছাড়ি, তাহলে কয়েক বছর আগে সেটাকে অবৈধ বলা হতো। কারণ সেটা আমার স্বাভাবিক বোলিং অ্যাকশনের ছন্দের বিপরীত। সে ক্ষেত্রে আম্পায়ার আমাকে সতর্ক করতে পারেন। কিন্তু তারিকের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। বল ছাড়ার আগে থেমে যাওয়া তার স্বাভাবিক বোলিং অ্যাকশনের অংশ।”

এরপরই তারিকের বিপক্ষে কী করা উচিত ব্যাটসম্যানদের, সেটাও বাতলে দেন অশ্বিন।

“একটা জিনিস আমি দেখতে চাই—কে সাহস করে এটা করবে? যদি তারিক বল ছাড়ার আগে থামে, ব্যাটসম্যানের সরে যাওয়ার অধিকার আছে। ব্যাটসম্যান বলতে পারে, ‘আমি জানি না কখন বল আসবে, তাই সরে গেছি’।”

বোলার বল ছাড়ার আগে ব্যাটসম্যান বারবার সরে গেলে এটা আম্পায়ারের জন্যও ঝামেলার কারণ হবে বলে মনে করেন অশ্বিন।

“এটা খুবই মজার একটা পরিস্থিতি হবে এবং আম্পায়ারের জন্য বড় মাথাব্যথা তৈরি করবে। দেখুন, আমি কারও বিরুদ্ধে নই। আমি যদি সেখানে থাকতাম, এটাই করতাম। খেলার আইনের মধ্যে যা কিছু আছে, সবই করতাম। এই ক্ষেত্রে আম্পায়ারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তিনি বোলারকে সতর্ক করবেন, নাকি ব্যাটসম্যানকে। যেটা হতে পারে, ক্রিকেটে সাধারণত এমনটাই হয়ে থাকে, প্রথমে বোলারকেই সতর্ক করা হবে।”

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে তারিক এমন পরিস্থিতিতে পড়লে, নিজের স্বাভাবিক বোলিংটা করতে পারবে না বলে মনে হচ্ছে অশ্বিনের।

“ভাবুন, এটা কত বড় ম্যাচ… আর তারিক এখন আলোনার কেন্দ্রে। তাকে এভাবে ২৪টি বল করতে হবে। যদি ব্যাটসম্যান বারবার সরে যেতে শুরু করে, তাহলে তারিকের ওপর কী পরিমাণ চাপ তৈরি হবে কল্পনা করুন। ম্যাচের মাঝপথেই হয়তো তাকে নিজের অ্যাকশন বদলাতে হতে পারে। পাকিস্তানের ট্রাম্প কার্ড হয়তো একেবারে নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে।”

“তবে এমনও হতে পারে, আম্পায়ার ব্যাটসম্যানকে বলতে পারেন, ‘এটা বৈধ অ্যাকশন, তাই তুমি সরে যেতে পারবে না।’ আম্পায়ারের জন্য এটা অভূতপূর্ব এক পরিস্থিতি হবে। তবে আমার সংশয় আছে, ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের কারও মধ্যে এটা করে দেখানোর সাহস আছে কি না। আমি নিশ্চিত নই।”

আগামী রোববার কলম্বোতে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান।