১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হতাশা নিয়ে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা জায়াসুরিয়ার

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর মেয়াদ শেষের আগেই শ্রীলঙ্কার কোচের দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিলেন সানাৎ জায়াসুরিয়া।

হতাশা নিয়ে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা জায়াসুরিয়ার
সানাৎ জায়াসুরিয়া থাকছেন না শ্রীলঙ্কার কোচের দায়িত্বে। ছবি: শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Mar 2026, 10:21 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:03 PM

দায়িত্বের মেয়াদ আছে আগামী জুন পর্যন্ত। তবে সানাৎ জায়াসুরিয়া চলে যেতে চান আগেই। শ্রীলঙ্কার কোচের দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চান তিনি। সেটি এই মুহূর্তেই নাকি আরও একটি সিরিজ থাকবেন, তা পরিষ্কার নয় এখনও। তবে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েই রাখলেন লঙ্কান কিংবদন্তি।

আগেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া শ্রীলঙ্কা সুপার এইট পর্বের শেষ ম্যাচে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে হেরে যায় পাকিস্তানের কাছে। ৫ রানের সেই হার দিয়ে সুপার এইটের তিন ম্যাচেই সবকটিই হেরে গেল স্বাগতিক দলটি। গ্রুপ পর্বেও একটি ম্যাচে তারা হেরেছিল জিম্বাবুয়ের কাছে।

সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ অভিযান চরম ব্যর্থই বলতে হবে। তবে জায়াসুরিয়ার দাবি, সিদ্ধান্তটি তিনি নিয়ে রেখেছিলেন বেশ আগেই। 

“আমার মনে হয়েছে, সময় এখন অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার। এজন্যই মাস দুয়েক আগে ইংল্যান্ড সিরিজের সময়ই বলেছিলাম, দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকার কোনো ইচ্ছে আমার নেই। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। ভেবেছিলাম, বিশ্বকাপে ভালো করে ভালোভাবে কোচের দায়িত্ব থেকে বিদায় নেব। যেভাবে চেয়েছিলাম, সেভাবে পারলাম না। এজন্য খারাপ লাগছে।”

বিশ্বকাপ শেষের ঠিক পরই আগামী ১৩ মার্চ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমিত ওভারের সিরিজ আছে শ্রীলঙ্কার। সেই সিরিজ পর্যন্ত তাকে দায়িত্বে থেকে যেতে বললে রাজি হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন ৫৬ বছর বয়সী সাবেক অলরাউন্ডার। 

“আমার চুক্তি আছে জুন পর্যন্ত। এখনও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাইনি। এখানে যে এসব বলব, সেটাও জানে না তারা। তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে আমাকে। তারা যদি কাউকে পেয়ে যায় (কোচ হিসেবে), তাহলে অবশ্যই (দায়িত্ব দেওয়া উচিত)।”

বিশ্বকাপে দল মুখ থুবড়ে পড়লেও বিদায়ের ঘোষণায় তৃপ্তিও কিছু মিশে আছে জায়াসুরিয়ার মনে। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন সাবেক এই অধিনায়ক। এরপর দ্রুতই দারুণ কিছু সাফল্য পায় দল। ২৭ বছর পর ভারতকে ওয়ানডে সিরিজে হারায় লঙ্কানরা। ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে স্মরণীয় টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় ওভালে, দেশের মাঠে টেস্ট সিরিজে হারায় নিউ জিল্যান্ডকে। 

শ্রীলঙ্কার সর্বকালের সেরা ক্রিকেটাদের একজন ও ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানদের একজন বিদায়বেলায় সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে কৃতজ্ঞতা জানালেন তার সহকারীদের প্রতি। 

“আমরা যেখানে ছিলাম, সেখান থেকে গত দেড় বছরে দলকে টেনে তুলেছি আমি। ওয়ানডেতে আমরা র‌্যাঙ্কিংয়ের আট বা নয়ে ছিলাম, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার যোগ্যতাই অর্জন করিনি। সেখান থেকে দলকে চার নম্বরে তুলেছি। টেস্ট দলকে ছয় নম্বরে তুলেছি, টি-টোয়েন্টি দলও ছয় বা সাতে আছে (আপাতত আটে)।”

“অবশ্যই একা করিনি এসব। আমার সাপোর্ট স্টাফের অবিশ্বাস্য সহায়তা পেয়েছি। প্রথম দিন থেকেই তাদেরকে বলেছি আমাকে সহায়তা করতে, কারণ কোচ হিসেবে অভিজ্ঞতা বেশি ছিল না আমার। তার পরও এত ক্রিকেট খেলেছি বলে এটা সামলাতে পেরেছি।” 

কোচের দায়িত্বে শুরুটা ভালো করলেও পরে সেভাবে সাফল্য ধরে রাখতে পারেননি জায়াসুরিয়া। বিশ্বকাপের আগের বড় আসর গত এশিয়া কাপে সুপার ফোরে সব ম্যাচে তারা ছিল জয়বিহীন। পরে ভালো করতে পারেনি পাকিস্তানে ত্রিদেশীয় সিরিজে।