Published : 15 Feb 2026, 10:25 AM
মূল ম্যাচ টাই। সুপার ওভারও টাই। এরপর আরেকটি সুপার ওভারে ম্যাচের ফয়সালা। কদিন আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তানের লড়াইয়ে দেখা গেল এই চিত্র। কিন্তু ৭ বছর আগে তো সেই নিয়ম ছিল না! সুপার ওভার টাই হওয়ার তখনকার নিয়ম অনুযায়ী বাউন্ডারি বেশি মারায় ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিয়েছিল ইংল্যান্ড। পেছন ফিরে তাকিয়ে এখন আক্ষেপ করছেন সেই ফাইনালে হেরে যাওয়া নিউ জিল্যান্ডের অলরাউন্ডার জিমি নিশাম।
লর্ডসের সেই ফাইনাল ম্যাচটি অনেকের মতেই সর্বকালের সবচেয়ে নাটকীয় ক্রিকেট ম্যাচ। নিউ জিল্যান্ডের ২৪১ রানের জবাবে শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। ট্রেন্ট বোল্টের করা শেষ ওভারে বেন স্টোকসের ছক্কা ও ওভার থ্রো থেকে আসা বাউন্ডারি এগিয়ে নেয় ইংলিশদের। শেষ বলে প্রয়োজন হয় ২ রানের। দ্বিতীয় রানের চেষ্টায় নিশামের থ্রোয়ে রান আউট হন শেষ ব্যাটসম্যান মার্ক উড।
সুপার ওভারে সেই বোল্টের বলেই ইংল্যান্ড তোলে ১৫ রান। নিউ জিল্যান্ডের সুপার ওভারে জফ্রা আর্চারকে ছক্কা মারেন নিশাম। এবারও শেষ বলে প্রয়োজন পড়ে ২ রানের এবং সেখানেও দ্বিতীয় রানের চেষ্টায় রান আউট মার্টিন গাপটিল। এবারও ম্যাচ টাই এবং বাউন্ডারি বেশি মারায় বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড।
সুপার ওভারের ছক্কার আগে সেদিন মূল ম্যাচেও ১৯ রান করার পর বল হাতে ৩টি উইকেট নিয়েছিলেন নিশাম। নিউ জিল্যান্ডের জন্য হৃদয়ভাঙা সেই ফাইনালের পর নিশামের একটি টুইট বিখ্যাত হয়ে আছে এখনও, “বাচ্চারা, খেলাধুলাকে বেছে নিও না (পেশা হিসেবে)। বেকিং বা অন্য কিছু বেছে নাও। হৃষ্টপুষ্ট ও সত্যিকারের সুখী জীবন কাটিয়ে ৬০ বছরে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করো।”
বাউন্ডারির সংখ্যায় শিরোপা নির্ধারিত হওয়ার নিয়ম নিয়ে ওই ফাইনালের পর তুমুল সমালোচনা হয় ক্রিকেট বিশ্বজুড়ে। অনেকেরই যুক্তি ছিল, বাউন্ডারি কম মারা তো দোষের নয়, বরং বাউন্ডারি কম মেরেও সমান রান করা বেশি কৃতিত্বের। প্রবল সমালোচনার মধ্যে ওই বছরই নিয়ম বদল করে আইসিসি। এখন জয়-পরাজয় নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত সুপার ওভার চলতেই থাকবে।
গত বুধবার আহমেদাবাদে প্রোটিয়াদের সঙ্গে আফগানদের লড়াইয়ের ফয়সালা যেমন হয়েছে দ্বিতীয় সুপার ওভারে।
আহমেদাবাদেই শনিবার দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে নিউ জিল্যান্ডের নিশাম ফিরে তাকালেন ২০১৯ সালে লর্ডসের সেই ফাইনালে।
“এটা ভালো যে এখন প্রথম সুপার ওভার টাই হলে আরও সুপার ওভার খেলার সুযোগ আছে। (২০১৯ সালেও থাকলে) খুবই দারুণ হতো…।”
ওই বিশ্বকাপের পর আরও একটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ, তিনটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পেরিয়ে চতুর্থটি চলছে। কিন্তু ওই ফাইনাল এখনও কিউইদের মনে হাহাকার জাগায়, ইংলিশদের ভাসায় উচ্ছ্বাসে, নিরপেক্ষ সমর্থকদের দোলায় রোমাঞ্চে।
নাটকীয় ম্যাচ অবশ্য থেমে নেই। ডাবল সুপার ওভার বেশ কিছুই হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও ফ্র্যাঞ্চাইজি আসরে। গত জুনে স্কটল্যান্ড ও নেপালের একটি ম্যাচে তো ট্রিপল সুপার ওভারও হয়েছে।
নিজেদের আক্ষেপ পেছনে ফেলে বৃহত্তর ছবিটা এখন দেখছেন নিশাম। তার মতে, এই ধরনের ম্যাচগুলিই বড় টুর্নামেন্টগুলোকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
“এই টুর্নামেন্টগুলো এত ভালো এসব নাটকীয় মুহূর্তের কারণেই। এই টুর্নামেন্টেও অনেক ম্যাচ এরকম হয়েছে, যেমন ইংল্যান্ড ও নেপালের লড়াই একদম শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে এবং সেসবের প্রভাব সত্যিকার অর্থেই বাকি টুর্নামেন্টে ছড়িয়ে পড়েছে।”
“সেদিনের (আফগানিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকা) ম্যাচও অবশ্যই দারুণ উপভোগ্য ছিল দেখাটা। আমরা আহমেদাবাদে আসছিলাম, বিমানবন্দরে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম, হোটেলে সবাই ছিল টিভির সামনে, বাসও দেরিতে ছেড়েছিল সেজন্য। সেটা দেখে দারুণ লেগেছে। আশা করি, টুর্নামেন্টের বাকি সময়েও এরকম ম্যাচ আরও কিছু দেখা যাবে।”