২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

নেচে-গেয়ে সুপার এইটে ওঠার মুহূর্ত উদযাপন বাছাই পেরিয়ে আসা জিম্বাবুয়ের

এই অর্জনকে নিজেদের চূড়ান্ত লক্ষ্যের পথে কেবলই একটি পদক্ষেপ বলছেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা।

নেচে-গেয়ে সুপার এইটে ওঠার মুহূর্ত উদযাপন বাছাই পেরিয়ে আসা জিম্বাবুয়ের
জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটারদের উদযাপনের মুহূর্ত। ছবি: জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট ফেইসবুক।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Feb 2026, 09:02 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:58 PM

ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা আসার পর জিম্বাবুয়ের ড্রেসিং রুমের সামনে ভিড় জমালেন বেশ কয়েকজন দর্শক। নেচে-গেয়ে দলের সুপার এইটে ওঠার মুহূর্তটা উদযাপন করলেন তারা। ড্রেসিং রুমের বারান্দায় এসে সমর্থকদের সঙ্গে সেই উদযাপনে যোগ দিলেন জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটাররা। সবার চোখে-মুখে ফুটে উঠছিল বড় এক অর্জন ধরা দেওয়ার আনন্দ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে জিম্বাবুয়ের পরের ধাপে যাওয়া নিশ্চিত হয় মঙ্গলবার। পাল্লেকেলেতে এদিন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যায়। এতে তিন ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে সুপার এইটের টিকেট পায় আফ্রিকার দলটি।

প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষার পর স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। এরপর শুরু হয় জিম্বাবুয়ের উল্লাস।

পরে জিম্বাবুয়ের সাবেক পেসার পমি এমবাঙ্গোয়ার সঙ্গে কথা বলেন সিকান্দার রাজা। শুরুতেই জানতে চাওয়া হয়, মূল গায়কের ভূমিকায় কে ছিলেন? জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক জানান, সেই দায়িত্ব সবসময়ই রিচার্ড এনগারাভার।

“রিচার্ড এনগারাভা গানে লিড দিচ্ছিল। সে দলের জন্য কয়েকটি সুন্দর গানও বানিয়েছে। আমাদের গানের দলের সে-ই প্রধান।”

স্রেফ সুপার এইটে উঠেই এমন উল্লাস! এমন ভাবনা আসতেই পারে অনেকের। তবে জিম্বাবুয়ের জন্য এটাও যে অনেক বড় প্রাপ্তি। এনিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্রেফ দ্বিতীয়বার প্রাথমিক পর্ব পার করতে পারল তারা।

আর গত বিশ্বকাপে তো খেলতেই পারেনি জিম্বাবুয়ে। বাছাই পর্বের পরীক্ষা উতরাতে ব্যর্থ হয় তারা। কিন্তু এবার বাছাই পর্বে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় জিম্বাবুয়ে।

বাছাইয়ের সময়ে দলের প্রতি কি বার্তা দিয়েছিলেন রাজা, সেটা কিছুটাও তুলে ধরেন তিনি।

“সাব-রিজিওনাল বাছাইয়ের সময়ের কথা বলছি—দলের সামনে দাঁড়িয়ে আমি বলেছিলাম, এখন যে অবস্থায় আছি, তার জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী, আর এই পরিস্থিতি থেকে আমাদেরই বের হতে হবে।”

ওমানকে হারিয়ে এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে জিম্বাবুয়ে। পরের ম্যাচে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তুলে নেয় স্মরণীয় জয়। এবার তারা সুপার এইটে লড়বে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

শুধু সুপার এইটে খেলতে পারার আনন্দ নিয়ে দেশে ফিরতে চায় না জিম্বাবুয়ে। রাজা বললেন, তাদের লক্ষ্য আরও বড়। সেই পথে এই সাফল্য কেবলই একটি ধাপ।

“আমরা যত কিছু অর্জন করেছি, এটা কেবল আংশিক লক্ষ্য পূরণ, পুরোটা নয়। ছোটখাট একটা উদযাপন করব আমরা, তবে এরপর পরের ম্যাচে মনোযোগ দেব। আমরা যে লক্ষ্য স্থির করেছি, সেখানে এটা (সুপার এইটে ওঠা) কেবল ছোট একটি ধাপ।”

এরপরই সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রাজা। দলের প্রতি তাদের এই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চান জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক।

“তারা (সমর্থকরা) স্টেডিয়ামের যে কোণাতেই বসুক না কেন, তারাই সবচেয়ে জোরে চিৎকার করে। তারা আমাদের সবসময় উজ্জীবিত করে। তাদের আওয়াজ আমাদের শক্তি জোগায়। এই সমর্থকেরা নিজেদের খরচে এসেছে। আশা করি, এটা আরও অনেক সমর্থকের আসার শুরু মাত্র। জিম্বাবুয়ের পতাকা উঁচুতে তুলতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আশা করি, সমর্থকদের সংখ্যা আরও বাড়বে এবং দল যেখানে খেলবে, সেখানেই সমর্থকরা যাওয়ার একটি সংস্কৃতির শুরু হবে।”

গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামী বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে।