Published : 20 Feb 2026, 09:46 AM
বড় জয়ের উচ্ছ্বাসেও মিশে ছিল বিদায়ের রাগিনী। ম্যাচ শেষে করমর্দন পর্বে জোনাথান ট্রটকে লম্বা সময় ধরে আলিঙ্গনে জড়িয়ে রাখলেন রাশিদ খান। ম্যান অব দা ম্যাচ পুরস্কার কোচকেই উৎসর্গ করে আবেগময় প্রতিক্রিয়া জানালেন ইব্রাহিম জাদরান। দলের অন্যরাও তখন কোচকে ঘিরেই দাঁড়িয়ে। কোচের চোখেও তখন টলমল করছে জল। ধারাভাষ্যকাররা বললেন, “নিশ্চিতভাবেই আবেগপ্লাতু হয়ে পড়ছেন ট্রট…।”
এমনিতে ট্রটকে দেখে কড়া হেডমাস্টার ধরনের একজনই মনে হয়েছে বেশির ভাগ সময়ই। আবেগের প্রকাশ সেভাবে দেখা যায়নি তার খেলোয়াড়ি জীবনে বা কোচের দায়িত্বে। তবে আফগানিস্তানের কোচ হিসেবে শেষ ম্যাচটি শেষে আবেগের কাছেই যেন আত্মসমপর্ণ করতে বাধ্য হলেন। চেন্নাইয়ে বৃহস্পতিবার কানাডার বিপক্ষে জয়ের পর মাঠে যেমন তার চোখে পানি দেখা গেল, তেমনি সংবাদ সম্মেলনেও এক পর্যায়ে ধরে এলে তার গলা। কান্নার দমক আটকে রাখার চেষ্টায় বললেন, “বলেছিলাম যে, ভেঙে পড়ব না…।”
কিন্তু চাইলেই তো আর পারা যায় না! ঠিকই এখানেও ঠিকই তার ভেতরের অনুভূতি হলো বেরিয়ে এলো চোখের জল হয়ে।
গত নভেম্বরেই আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছিল, বিশ্বকাপ দিয়েই কোচের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হবে ট্রটের। ২০২২ সালের জুলাইয়ে দেড় বছরের জন্য দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। আফগানিস্তান তখন প্রতিভাবান আর সম্ভাবনাময় এক দল। সেই দলকে সম্ভাবনার পথ ধরে নতুন ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার নেপথ্য কারিগর ট্রট।
তার কোচিংয়ে ২০২৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে ষষ্ঠ হয় আফগানরা। অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর খুব কাছে ছিল তারা, কিন্তু অবিশ্বাস্য ইনিংসে সেটি হতে দেননি গ্লেন ম্যাক্সওয়েলে। তবে বিশ্বকাপের সাফল্যে জায়গা করে নেয় তারা ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অবিস্মরণীয় সাফল্যে দলটি পৌঁছে যায় সেমি-ফাইনালে। তাছাড়া দ্বিপাক্ষিক সিরিজেও এসেছে স্মরণীয় কিছু সাফল্য।
দেড় বছরের চুক্তিতে চাকরি শুরু করে দুই দফায় বেড়ে মেয়াদ শেষ পর্যন্ত হয়েছে সাড়ে তিন বছর।
শেষ ম্যাচটির আগের দিন অধিনায়ক রাশিদ খান অকপটভাবেই বলেছেন, “আফগানিস্তান ক্রিকেট এখন যেখানে আছে, এই কোচই নিয়ে এসেছেন সেখানে।”
সেই কোচ তাহলে কেন চলে যাচ্ছেন?
বিদায়ী ম্যাচ শেষে ট্রট খোলাসা করলেন, তিনি নিজ থেকে দায়িত্ব ছাড়ছেন না। সামনে সুনির্দিষ্ট চাকরি এখনও পাননি বলেই জানালেন।
“আপনি যা শুনতে চান, তেমন কিছু বলছি না আমি! তবে এই দায়িত্ব সত্যিই উপভোগ করেছি। জানি না, ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে। হয়তো কিছু দিন বিশ্রাম নেব এবং এরপর দেখব কীভাবে এগোয়।। বিশ্বকাপের বাকিটুকু দেখতেও মুখিয়ে থাকব। আমরা এখনও টিকে থাকলে ও পরের রাউন্ড খেলতে পারলে দারুণ লাগত।”
“চালিয়ে যাওয়া নিয়ে সিদ্ধান্তটি আমার নয়। স্রেফ এটুকুই বলছি। হয়তো এটিই উপযুক্ত সময়, হয়তো নয়। জানি না। সবার ভবিষ্যতের জন্যই শুভ কামনা।”
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর, আফগান বোর্ডই আর চুক্তি নবায়ন করতে আগ্রহী হয়নি। ট্রটকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নতুন কোচের তত্ত্বাবধানে নতুন উচ্চতা ছোঁয়ার লক্ষ্য তাদের।
ট্রট আপাতত ফিরে যাবেন নিজ দেশে। ইংল্যান্ডের হয়ে ৫২ টেস্ট খেলে ৪৪.০৮ গড়ে ৩ হাজার ৮৩৫ রান করেছেন তিনি। জিতেছেন টানা তিনটি অ্যাশেজ। তিন নম্বর পজিশনের ভরসা ছিলেন বেশ কিছুদিন। ওয়ানডেতে ৬৮ ম্যাচ খেলে ২ হাজার ৮১৯ রান করেছেন ৫১.২৫ গড়ে।
এখন কোচিং ক্যারিয়ারও তিনি উপভোগ করছেন। আফগানিস্তানের দায়িত্ব শেষে ৪৪ বছর বয়সী সাবেক ব্যাটসম্যান বললেন, নিজ দেশকে কোচিং করানোর স্বপ্ন হৃদয়ে লালন করছেন তিনি।
“ক্যারিয়ারে যেভাবে খেলেছি, তাতে আমি গর্বিত। ইংল্যান্ড দলকে সবসময় ভালো করতে দেখতে চাই। যে দল আমার হৃদয়ের এত কাছে, একদিন আশা করি সেই দলকে কোচিং করানোর সুযোগ পাব। নিশ্চিতভাবেই আরও অনেকেই দায়িত্বটি খুব করে পেতে চাইবে। কাজেই দেখা যাক…।”
“তবে কোচিং করাতে উপভোগ করি আমি এবং এখানেও গত কয়েক বছর উপভোগ করেছি নিশ্চিতভাবেই।”