Published : 18 Feb 2026, 12:04 PM
‘বেঙ্গালুরুর সেই ম্যাচ…”, ব্যস, এটুকু বললেই চলবে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবাই বুঝে যাবেন, কোন ম্যাচের কথা বলা হচ্ছে। এদেশের ক্রিকেটের চিরন্তন দুঃখগাঁথার অংশ হয়ে থাকা যে ম্যাচ এখনও পোড়ায় অনেককে। ভারতীয় দলের জন্য সেটি দারুণ এক সুখস্মৃতি। সেদিনের শেষের নায়ক হার্দিক পান্ডিয়া ম্যাচটিকে লালন করেন সযত্নে। সেই ম্যাচই দিয়ে ঘুরিয়ে দিয়েছে তার ক্যারিয়ারের মোড়!
২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটি জয়ের জন্য শেষ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১১ রান। পান্ডিয়ার প্রথম বলে সিঙ্গল নেন মাহমুদউল্লাহ। পরের দুই বলে চার মেরে দেন মুশফিকুর রহিম। স্কুপ শটে দ্বিতীয় বাউন্ডারির পর মুষ্টিবদ্ধ হাত বাতাসে ছুড়ে হুঙ্কার দিয়ে এক দফায় উদযাপন সেরে নেন তিনি। ৩ বলে দরকার ছিল তখন কেবল ২ রান।
কিন্তু পরের দুই বলেই ছক্কার চেষ্টায় আউট হয়ে যান মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। শেষ বলটিতে ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি শুভাগত হোম। এক রান নিলে ম্যাচটি ‘টাই’ হতো। দৌড়ে বাই রান নিতে গিয়ে রান আউট হন মুস্তাফিজুর রহমান। ভারত অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচ জিতে যায় ১ রানে।
প্রায় ১০ বছর পর সেই ম্যাচের দিকে পেছন ফিরে তাকালেন পান্ডিয়া। জিওহটস্টারে কথোপকথনে ভারতের এই অলরাউন্ডার বললেন, ওই ম্যাচের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা থেকেই তার প্রবলভাবে কাজে লেগে ক্যারিয়ারের পথচলায়।
“আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুতে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে আমাকে, যেখানে আমি অটল থেকেছি এবং নিজের ওপর আস্থা রেখেছি। বিশ্বাসটা রাখা জরুরি। ক্রিকেটে যদি ১ শতাংশ সম্ভাবনাও জিইয়ে থাকে, তাহলে শেষ বলটি না হওয়া পর্যন্ত লড়াই শেষ নয়।”
“বাংলাদেশের বিপপক্ষে ম্যাচটিই একটি ধ্রুপদি উদাহরণ। উইকেট হারানোর আগের বলে ব্যাটার এমনভাবে উদযাপন করা শুরু করেছিল যে, ম্যাচ বুঝি শেষ হয়ে গেছে। ঠিক আমার সামনেই উদযাপন করছিল সে, আমার চোখের সামনে সব হচ্ছিল। ওই অবস্থা থেকে যখন সবকিছু বদলে যায়, দারুণ সব স্মৃতি তৈরি হয় এভাবেই। প্রতিবারই যখন এটি দেখি, তখন চিন্তা করি যে আমার জীবনের শুরুর সময়ের একটি চ্যালেঞ্জ ছিল সেটি এবং কীভাবে তা আমার ক্যারিয়ারের মুহূর্তগুলোর একটি, যা হার্দিক পান্ডিয়াকে গড়ে দিয়েছে। এরকম অনেক মুহূর্ত আমার জীবনে এসেছে, তবে সেই পথচলার শুরুটা সেখান থেকেই।”
পান্ডিয়া ব্যাটিং প্রধান অলরাউন্ডার নাকি বোলিং, এই প্রশ্ন করা যায়। দুটিতেই দক্ষতা দেখিয়ে আসছেন তিনি বছরের পর বছর। তবে তার নিজের উপলব্ধি, ব্যাটিং সামর্থ্যের অর্ধেকও তিনি দেখাতে পারেননি এখনও।
“আমার ভেতরে যে বাচ্চাটি আছে, ক্রিকেট পাগল ছেলেটি, যে সবসময়ই ছিল, সবসময় বোলার হিসেবে স্কিলসেটের দিকেই নজর ছিল তার। বোলিংয়ে সবসময় প্রবল আত্মবিশ্বাস ছিল আমার, কিন্তু ব্যাটিং ছিল আমার হৃদয়ের খুব কাছে।”
“গত আইপিএলের পর আমার মনে হলো, সত্যিকার অর্থেই সম্ভাবনার সবটুকু পূরণ করতে চাই আমি। আমার মনে হয়, এখনও পর্যন্ত ব্যাটিং সামর্থ্যের ৪০ শতাংশের বেশি সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারিনি আমি, সত্যিকারের উপলব্ধি।”
নিজের ভেতরের সেই তাড়না জাগিয়ে তোলার কৃতিত্ব দিলেন তিনি বান্ধবী মডেল মাহিকা শার্মাকে।
“ক্রিকেটার হিসেবে আমি যা ভাবি, যা দেখি এবং যেভাবে অনুশীলন করি, সেসবের প্রতিফলন পারফরম্যান্সে ফেলতে পারিনি ৪০ শতাংশের বেশি। কিছুটা সময় নিয়ে চেষ্টা করেছি, কীভাবে এটা বের করে আনা যায়। তখন মাহিকা এলো আমার জীবনে।”
“আমরা খেলাটা নিয়ে কথা বলতে শুরু করলাম, কীভাবে নিজের ভেতরের সেই বাচ্চাটাকে বের করে আনতে পারি। খেলাটা নিয়ে আমার ভেতরে লুকিয়ে থাকা সেই রোমাঞ্চ পুনরায় আবিষ্কার করতে সহায়তা করল সে।”
পান্ডিয়া জানালেন, ভেতরে সেই ক্ষুধা অনুভব করার পর বেঙ্গালুরর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে (আগে যেটির নাম ছিল জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি বা এনসিএ) গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাটিং নিয়ে ঘাম ঝরিয়েছেন তিনি।
“আমি আড়ালে চলে গেলাম, কঠোর পরিশ্রম করলাম, অনেক ব্যাটিং সেশন করলাম। অনেক দিনই ছিল, যখন আমি ৬-৭ ঘণ্টা মাঠে থেকেছি। এনসিএতে যখন গিয়েছি, দুপুর সাড়ে তিনটায় মাঠে যেতাম, রাত সাড়ে ১২টায় শেষ করতাম। সবার শেষে মাঠ ছাড়তাম, লাইট বন্ধ করে ফিরতাম।”