১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মাশরাফি-সাকিবকে ‘দ্রুত ফেরাতে চান’ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট নিয়ে ভারত ও আইসিসির সঙ্গে চলমান টানাপোড়েনের অবসানের উদ্যোগ দ্রুত নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া এই সাবেক ফুটবলার।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Feb 2026, 04:36 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:58 PM

প্রথমবারের মতো ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে আমিনুল হক কথা বললেন ক্রীড়াঙ্গনের অনেক বিষয় নিয়ে। এর মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই থাকল কিংবদন্তি দুই ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা ও সাকিব আল হাসান ইস্যু। গত অগাস্টে ক্ষমতার পালাবদলে দুজনেই খেলার বাইরে। দুই তারকার ফেরার পথটা প্রশস্ত করতে চান আমিনুল।

ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়ার পর মাশরাফি, সাকিব দুজনেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদে সাংসদ হয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টে পটপরিবর্তনের পর দুজনেই আছেন ক্রিকেটর বাইরে। বিভিন্ন মামলাও হয়েছে দুজনের বিরুদ্ধেই। সংসদ ভবন চত্বরে মঙ্গলবার শপথ নেওয়ার পর আমিনুল দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি ও সাবিককে নিয়ে কথা বলেন।

“সাকিব আর মাশরাফির বিষয়টি… এটা রাষ্ট্রীয় একটি সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি যে, রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা অত্যন্ত নমনীয়ভাবে… যেহেতু তারা বাংলাদেশের লিজেন্ডারি ক্রিকেটার, তাদেরকে অবশ্যই আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু যে মামলাগুলো হয়েছে, সেটা রাষ্ট্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে আমরা চাই তারা যেন আমাদের বাংলাদেশে দ্রুত ফিরে আসতে পারে।”

আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া কেন্দ্র করে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে যায়নি বাংলাদেশ। এ নিয়ে ভারত ও ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসির সাথে চলছে টানাপোড়েন। এই ইস্যুটির সমাধানও দ্রুত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল।

“ক্রিকেটের যে একটি ইস্যু রয়েছে, আপনারা জানেন যে সাম্প্রতিক সময়ে আমরা বিশ্বকাপ খেলতে যাইনি, সেটা একটি কূটনৈতিক নীতির কারণে। কূটনৈতিকভাবে একে অপরের সাথে আলোচনার করে যদি সমাধান করতে পারতাম, তাহলে হয়তোবা আমাদের দল বিশ্বকাপ খেলত। আমি চাই যে, এটি দ্রুত অবসান হবে।”

“ইতিমধ্যে আমি কথা বলেছি, আমাদের যে পার্শ্ববর্তী দেশ রয়েছে, তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে ক্রিকেট, ফুটবল থেকে শুরু করে সকল স্পোর্টসের সকল বিভাগে যেন আমরা একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। আলোচনার ভিত্তিতে, আদান-প্রদানের মাধ্যমে যাতে আমরা একটি সুন্দর ক্রীড়াঙ্গন গড়ে তুলতে পারি, সে লক্ষ্য থাকবে।”

কেবল খেলাধুলা নয়, প্রতিবেশি দেশগুলোর সার্বিক দিকে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির আশাবাদও জানান আমিনুল। শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

“আমাদের সংসদ ভবনে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারের সাথে আমার দেখা হয়েছিল। এই বিষয়গুলো নিয়ে আমি তার সাথে কথা বলেছি এবং সেও খুব ফ্রেন্ডলি। আমিও তাকে খুব ফ্রেন্ডলি ভাবে বলেছি যে, আমরা দ্রুতই এই সমস্যাটি আলোচনার ভিত্তিতে নিরসন করতে চাই। কারণ আমরা চাই যে আমাদের পার্শ্ববর্তী সকল দেশের সাথে যাতে আমাদের একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকে, সেটা খেলাধুলা থেকে শুরু করে সব সেক্টর নিয়ে আমরা যেন একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি।”