ক্রাইস্টচাচের বর্ম থাকায় কাঁটা হয়ে বিঁধছে না হোবার্টের শীত
ক্রাইস্টচার্চে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে আসায় হোবার্টের কন্ডিশন বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নয় বাংলাদেশ দলের জন্য।
ছিমছাম পাহাড়ী শহর হোবার্টের থেকে একটু দূরে ছবির মতো সুন্দর উপশহর কিংস্টন। এখানে টিলার কোলে পাশাপাশি দুটি মাঠ। নাম কিংস্টন টুইন ওভাল। একটি অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলের জন্য, আরেকটি ক্রিকেটের। ক্রিকেট মাঠের উল্টো দিকেই আরেকটি মাঠ তৈরি করছে হোবার্ট সিটি কাউন্সিল, যেখানে হবে ফুটবল। প্রতিটি মাঠই নান্দিক। সবুজের এক সমুদ্র যেন চারপাশে।
তবে সেই সৌন্দর্য উপভোগ করার জো কোথায়, মাথা তুলে দাঁড়ানোই যে কঠিন! প্রচণ্ড শীতে যাকে বলা যায় জবুথবু অবস্থা সংবাদকর্মীদের। হোবার্টে শীতকাল পেরিয়ে গেছে বেশ আগেই। গ্রীষ্ম এই এলো বলে। স্থানীয়দের পোশাক ও চলন-বলনেও গ্রীষ্মের ছোঁয়া। কিন্তু সদ্য বাংলাদেশ থেকে আসা সবাই শীতে কাবু। এই সময়েও এখানে তাপমাত্রা ১০-১১ ডিগ্রি। তবে আদতে মনে হয় যেন, আরও কম। হীমশীতল বাতাস গায়ে কাঁপন ধরায়।
এখানে রোববার বাংলাদেশ দলের অনুশীলন কাভার করতে গিয়ে সংবাদকর্মীরা শীতে আক্ষরিক অর্থেই কাঁপলেন ঠকঠক করে। সেসব দেখে মাঠে অনুশীলনের ফাঁকে ক্রিকেটাররা হেসেই বাঁচেন না। সৌম্য সরকার কৌতুকের হাসিতে বললেন, “এত শীত কিসের?”, পাশ থেকে শরিফুল ইসলামের হাসিমুখে চিৎকার, “আরে গরম তো এখানে…।”
অবশ্যই গরম এখানে নয়। তবে শরিফুলরা কিছুদিন আগে যেখানে ছিলেন, সেখানকার তুলনায় আবহাওয়া এখানে যথেষ্ট আরামদায়ক বটে!
চূড়ান্ত গ্রীষ্মের সময়ও অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য জায়গার চেয়ে শীতল থাকে হোবার্ট। আর এই সময়টায় যে এখানে শীতের তীব্রতা যথেষ্টই আছে, তা বাংলাদেশ দল জানতে পেরেছিল কদিন ব্রিজবেনে অনুশীলন করার সময়ই। তবে ঠাণ্ডায় কাবু হওয়ার শঙ্কা তখনও তাদের ছিল না।
টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট শ্রীধরন শ্রীরামকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তখন হোবার্টের শীত নিয়ে। শ্রীরাম চোখ পাকিয়ে বলেছিলেন, “আমরা কদিন আগে ক্রাইস্টচার্চে খেলে এলাম ম্যান… সেখানে তাপমাত্রা ছিল মাইনাস এক-দুই ডিগ্রি। হোবার্টে আর কত ঠাণ্ডা থাকবে!”
অস্ট্রেলিয়াতে আসার আগেই ক্রাইস্টচার্চে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। সেখানে তখনও তুষারপাত হচ্ছিল নানা জায়গায়। বাতাসের বেগ তো ওই শহরে আরও তীব্র ও আরও শীতল। সঙ্গে বৃষ্টি মিলিয়ে আবহাওয়া ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য নারকীয়। সেই অভিজ্ঞতাই এখন হয়ে উঠছে আশীর্বাদ।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি মানে তো কেবল ব্যাট-বল ঝালাই করা বা উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া নয়, আবহাওয়ার সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়াও। ক্রাইস্টচার্চে দিন দশেক কাটিয়ে এসে তাই ব্রিজবেন আর হোবার্টের শীতলতাকে স্থানীয়দের মতোই আপন করে নিয়েছেন ক্রিকেটাররা।
অতীতের নানা সময়ের অভিজ্ঞতা বলে সরাসরি বাংলাদেশ থেকে এই আবহাওয়ায় এলে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হতো ক্রিকেটারদের। এবার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আগে অন্তত কন্ডিশনের বাধা খুব একটা নেই।
অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের কণ্ঠেও উঠে এলো সেই স্বস্তির কথা।
“আমি মনে করি আমাদের খুব ভালো প্রস্তুতি হয়েছে। সবাই ফিট এবং খেলার জন্য তৈরি। আমার মতে নিউ জিল্যান্ডে খেলা চার ম্যাচ আমাদের সাহায্য করবে। বিশেষ করে হোবার্টের আবহাওয়া অনেকটা ক্রাইস্টচার্চের মতো। সবাই প্রস্তুত এবং আগামীকালের ম্যাচের জন্য রোমাঞ্চিত।”
