২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

বাটলার বেরিয়ে যেতেই পথহারা ইংল্যান্ড, সমতায় ফিরে উচ্ছ্বসিত শ্রীলঙ্কা

৩২২ রান তাড়ায় বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে এগোচ্ছিল ইংল্যান্ড, কিন্তু পায়ে টান লাগায় জশ বাটলার বেরিয়ে যেতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।

বাটলার বেরিয়ে যেতেই পথহারা ইংল্যান্ড, সমতায় ফিরে উচ্ছ্বসিত শ্রীলঙ্কা

পায়ে টান লাগার পর ভূপাতিত বাটলার, ম্যাচের মোড় ঘুরে যাওয়ার মুহূর্ত। ছবি: রয়টার্স।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 25 Sep 2026, 10:22 AM

Updated : 25 Sep 2026, 10:48 AM

জস বাটলারকে মনে হচ্ছিল অপ্রতিরোধ্য, ইংল্যান্ড ছুটছিল জয়ের দিকে। হঠাৎ পায়ে টান লাগল তার। একটু পর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়লেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। গোটা মাঠ দাঁড়িয়ে তালি দিয়ে অভিবাদন জানাল তাকে। কিন্তু তিনি ক্রিজ ছাড়ার পর গতি, ছন্দ, নিয়ন্ত্রণ, সব হারিয়ে ফেলল ইংল্যান্ড। বাধ্য হয়ে শেষ দিকে আবার খুঁড়িয়ে মাঠে নামতে হলো তাকে। কিন্তু চোটাক্রান্ত পা নিয়ে পারলেন না তিনি তেমন কিছু করতে। পারল না তার দলও।

শ্রীলঙ্কার তাতে আপত্তির কোনো কারণ নেই! বাটলার বেরিয়ে যাওয়ার পর যে সুযোগ মিলেছিল, সেটি পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে তারা আদায় করে নিল দারুণ এক জয়। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইংলিশদের ২১ রানে হারিয়ে লঙ্কানরা ফিরল সমতায়।

শুধু বাটলারের ওই চোটকেই শ্রীলঙ্কার জয়ের একমাত্র কারণ বললে অবশ্য ভুল হবে। কুসাল মেন্ডিস উপহার দিয়েছেন অসাধারণ এক ইনিংস। লঙ্কান অধিনায়কের ব্যাট থেকে এসেছে ১০০ বলে ১২১ রান। পরে রান তাড়ায় ছুটতে থাকা ইংল্যান্ডের রাশ টেনে দারুণ বোলিংয়ে তিন উইকেট নেন দুনিথ ওয়েলালাগে।

হেডিংলিতে বৃহস্পতিবার ৫০ ওভারে শ্রীলঙ্কা তোলে ৩২১ রান। ইংলিশদের ইনিংস শেষ হয় ৩০৫ রানে।

সফরের তিন টি-টোয়েন্টি ও প্রথম ওয়ানডেতে পরাজয়ের পর অবশেষে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল লঙ্কানরা।

Image

৮২ বলের শতরানে শ্রীলঙ্কাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন কুসাল মেন্ডিস। ছবি: রয়টার্স। 

জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই অধিনায়ক মেন্ডিসের কণ্ঠে ছিল উচ্ছ্বাস।

"সত্যি বলতে, আমি খুব খুশি। আমার ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছি এবং আজকের সার্বিক পারফরম্যান্সও খুব ভালো ছিল। কামিন্দু খুব ভালো ব্যাট করেছে, সে আমাকে সমর্থন জুগিয়েছে এবং পাথুম খুব ভালো শুরু করেছে, মিডল অর্ডারও খুব ভালো ব্যাট করেছে। এ কারণেই আমরা স্কোরবোর্ডে তিনশর বেশি রান তুলতে পেরেছি।"

"ওয়েলালাগে খুব ভালো বোলিং করেছে, বিশেষ করে পাওয়ারপ্লের পর সে খুব ভালো বোলিং করেছে। ডেথ ওভারে ফাস্ট বোলিং ইউনিট খুব ভালো করেছে। আজকের ম্যাচে ছেলেরা তাদের শতভাগ দিয়েছে। আমি খুব খুশি।"

সেই রান তাড়ায় ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল বিধ্বংসী। টম ব্যান্টন ও বেন ডাকেট প্রথম ১০ ওভারেই তোলে ৮২ রান।

পাওয়ার প্লে শেষে রাগের গতি একটু কমলেও দুজনের জুটি এগোতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২০তম ওভারে ভাঙে এই জুটি। ডাকেটকে (৬৩ বলে ৬৭) বোল্ড করে দেন ওয়েলালাগে। জুটিতে আসে ১১৯ বলে ১৪৩ রান।

ওয়েলালাগে পরের দুই ওভারে ফেরান আরেক ওপেনার ব্যান্টন (৬২ বলে ৭৩) ও ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককে (১)।

বাটলার নেমেই শুরু করেন পাল্টা আক্রমণ। ওয়েলালাগেকে চার ও ছক্কা মারার পর দুই ছক্কা ও এক চার মারেন তিনি লেগ স্পিনার সাচিন্দু কলোম্বাগের বলে।

লঙ্কান অধিনায়ক তবু পরের ওভারে কলোম্বাগেকই রাখেন আক্রমণে। এতে কাজ হয়। জো রুট বিদায় নেন শর্ট কাভারে ধরা পড়ে।

তাতেও অবশ্য সমস্যায় পড়েনি ইংল্যান্ড। বাটলারের ব্যাট ছিল উত্তাল। ফিফটি করে ফেলেন ৩৫ বলেই। তাকে সঙ্গ দেন উইল জ্যাকস।

কিন্তু ৩৮তম ওভারে রান নিতে গিয়ে পায়ে টান লাগে তার। মাঠে চিকিৎসা নিয়ে উঠে দাঁড়ালেও দু্ই বল পরই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।

ইংল্যান্ডের সমীকরণ তখনও সহজ। ৭৫ বলে প্রয়োজন ছিল ৬৮ রান।

কিন্তু সেই সমীকরণ কঠিন করে তোলেন লঙ্কানরা। রেহান ফেরেন শূন্যতে। ১৬ রান করতে ২৮ বল খেলেনে গাস অ্যাটকিনসন। আগ্রাসী জেমি ওভারটন ফেরেন ২ রানে।

ছক্কায় ফিফটি ছুঁয়ে জ্যাকস ৫২ রানে ফেরেন ইশান মালিঙ্গার বলে।

অষ্টম উইকেট পতনের পর ক্রিজে ফেরেন বাটলার। কিন্তু লাভ হয়নি। ৫টি করে চার ও ছক্কায় ৪৯ বলে ৬৯ রান করে আউট হন তিনি। ইংল্যান্ডের শেষ আশাও শেষ হয়ে যায়।

ম্যাচ হারলেও রোমাঞ্চকর ম্যাচের অংশ হতে পেরে ভালো লেগেছে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের।

"সত্যি বলতে, অসাধারণ একটা খেলা ছিল। এর অংশ হতে এবং দেখতে খুব মজা লেগেছে। আমার মনে হয় আমরা বেশ ভালো লড়াই করেছি, বিশেষ করে আমাদের বোলিং ইনিংসের দ্বিতীয় ভাগে। তারা স্বাভাবিকভাবেই বেশ ভালো শুরু করেছিল, ৩০ ওভারের মতো সময়ে ১৮০ রান। তাই ব্যবধান কমিয়ে ৩২০ রানে আটকে রাখা এবং সেই স্কোর তাড়া করার সুযোগ পাওয়াটা ছিল এক অসাধারণ প্রচেষ্টা।"

" রান তাড়ায় ছেলেরা দুর্দান্তভাবে শুরু করেছিল। ব্যান্টস এবং ডাকি যেভাবে খেলেছে, তা ছিল অসাধারণ। সত্যি বলতে, এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার ছিল না। আবারও সেই মাঝের সময়টা, যখন আমরা সম্ভবত কিছুটা থমকে গিয়েছিলাম এবং বেশ কয়েকটি উইকেট হারিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা যে লড়াইটা দেখিয়েছি এবং জস যেভাবে ফিরে এসে চেষ্টা করেছে, তা ছিল সবার পক্ষ থেকে দুর্দান্ত প্রচেষ্টা।"

সিরিজের ফয়সালা শেষ ম্যাচে চলে যাওয়ার মধ্যে ইতিবাচক দিক দেখছেন ব্রুক।

"হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচ এবং টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচগুলো সবসময়ই রোমাঞ্চকর হয়। এই সিরিজটা জেতার জন্য এখন আমাদের সামনে এক দারুণ সুযোগ রয়েছে।

এটা শুধু আমাদের জন্য এখনই একটা ভালো সুযোগ নয়, বরং আগামী ১২ মাসের জন্যও এটা একটা দারুণ সুযোগ। শেষ ম্যাচে আমরা যে ধরনের চাপের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছি, তাতে দল হিসেবে আমরা কোথায় থাকব, তা দেখতে পারাটা হবে দারুণ ব্যাপার।"

সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ রোববার ওভালে।