অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে দ্যুতিময় রুমানা
মেয়েদের জাতীয় লিগে এদিন ফিফটি করেছেন সোবহানা মোস্তারি, নুজহাত তাসনিয়া ও ফারজানা হক।
রাজশাহী বিভাগকে অল্পতে আটকে দিতে বল হাতে বড় ভূমিকা রাখলেন রুমানা আহমেদ। পরে রান তাড়ায় খেললেন কার্যকর ইনিংস। তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে অনায়াস জয় পেল খুলনা বিভাগ।
টি-টোয়েন্টি সংস্করণে মেয়েদের জাতীয় ক্রিকেট লিগে সোমবার খুলনার জয় ৬ উইকেটে। প্রতিপক্ষের ৭২ রান তারা পেরিয়ে যায় ২৭ বল বাকি থাকতে।
দুর্দান্ত বোলিংয়ে স্রেফ ৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন রুমানা। পরে ব্যাট হাতে ৩ চারে ২১ রান করে মাঠ ছাড়েন দলের জয় সঙ্গে নিয়ে। ম্যাচ সেরার পুরস্কার ওঠে তার হাতে।
সিলেট একাডেমি মাঠে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা চট্টগ্রামের হয়ে একাই লড়াই করেন সানজিদা ইসলাম। ৪ চারে ৪১ রান করে এই ওপেনার থাকেন অপরাজিত। দলটির হয়ে দুই অঙ্কে যেতে পারেননি আর কেউ।
প্রতিপক্ষকে অল্পতে আটকে রাখার স্বস্তি খুলনার উড়ে যায় জবাব দিতে নেমে। ২৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় তারা। শঙ্কায় পড়া দলকে পথে ফেরান রুমানা ও শরিফা খাতুন। তাদের ৫০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় খুলনা।
বল হাতে ২ উইকেট নেওয়া শরিফা দুটি করে ছক্কা-চারে ২২ বলে খেলেন ২৮ রানের অপরাজিত ইনিংস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রাজশাহী বিভাগ: ২০ ওভারে ৭২/৮ (সানজিদা ৪১*, ফারজানা ০, আফিয়া ৩, লতা ০, আয়েশা ৫, বৃষ্টি ৬, ফেরদৌসি ৫, পূজা ৬, পান্না ০, মোরশেদা ১*; সোহেলি ৩-০-১৩-০, সুরায়া ৩-০-১৩-১, শরিফা ৪-০-১৬-২, রুমানা ৩-১-৫-৩, ফাতেমা ৪-০-৮-০, ফাহমিদা ২-০-৭-১, লেকি ১-০-৯-১)
খুলনা বিভাগ: ১৫.৩ ওভারে ৭৪/৪ (শম্পা ৫, ফাহমিদা ৯, ফাতেমা ৬, রুমানা ২১*, তাজ ১, শরিফা ২৮*; পান্না ২-০-৮-১, সোমা ২-০-১০-১, পূজা ৩-১-৩-০, লতা ৩.৩-০-১৭-১, বৃষ্টি ১-০-৮-০, মোরশেদা ২-০-৯-০, আফিয়া ২-০-১৮-০)
ফল: খুলনা বিভাগ ৬ উইকেটে জয়ী
প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: রুমানা আহমেদ
তিন ফিফটির ম্যাচে চট্টগ্রামের জয়
ফিফটি করলেন সোবহানা মোস্তারি ও নুজহাত তাসনিয়া। দুইজনের শতরানের জুটিতে চট্টগ্রাম বিভাগ পেল মাঝারি সংগ্রহ। পঞ্চাশ ছাড়ানো ইনিংস খেলে জবাবটা ভালোই দিলেন ফারজানা হক। কিন্তু তাতেও লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারল না ঢাকা বিভাগ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১২ রানে জিতেছে চট্টগ্রাম। ১২৪ রানের পুঁজি নিয়ে প্রতিপক্ষকে তারা থামিয়ে দেয় ১১২ রানে।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা চট্টগ্রামের শুরুটা হয় বেশ বাজে। ১৭ রানে ৩ উইকেট হারানো দলকে একশ ছাড়ানো পুঁজি এনে দেন সোবহানা ও নুজহাত।
চতুর্থ উইকেটে দুজনে গড়েন ১০৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। ২ ছক্কা ও ৩ চারে ৫২ রান করে ম্যাচ সেরা হন সোবহানা। ৫ চারে ঠিক ৫০ রান করেন নুজহাত।
লক্ষ্য তাড়ায় ঢাকাকে একাই টানেন ফারজানা। ইনিংস শুরু করতে নেমে ২ ছক্কা ও ৫ চারে ৬৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। আরেক ওপেনার একা মল্লিকের ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
চট্টগ্রাম বিভাগ: ২০ ওভারে ১২৪/৩ (আফিয়া ০, ইভা ১২, ফাল্গুনী ০, সোবহানা ৫২*, নুজহাত ৫০*; রিতু ৪-১-১৮-২, রূপা রয় ৪-০-১৬-১, হাসনাত ৪-০-২৪-০, রূপা আবেদীন ৩-০-১৯-০, তানজিলা ২-০-১৮-০, শানু ৩-০-২৫-০)
ঢাকা বিভাগ: ২০ ওভারে ১১২/৫ (ফারজানা ৬৯*, একা ১৯, রিতু ৮, সুমি ৮, পিংকি ১, তানজিলা ০; খাদিজা ৩-০-১৩-০, অপর্ণা ৩-০-২৫-০, স্বর্ণা ৪-০-১২-১, নুসরাত ৪-০-১৯-১, হ্যাপী ২-০-১৭-০, সোবহানা ৪-০-২৩-০)
ফল: চট্টগ্রাম বিভাগ ১২ রানে জয়ী
প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: সোবহানা মোস্তারি
অর্থি-মারুফার দারুণ বোলিংয়ে সিলেটের জয়
দুর্দান্ত বোলিং উপহার দিলেন আশরাফি ইয়াসমিন অর্থি ও মারুফা আক্তার। তাতে রংপুর বিভাগকে অল্পতে আটকে সহজ জয়ে তুলে নিল সিলেট বিভাগ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৪ উইকেটে জিতেছে সিলেট। ৬৯ রানের লক্ষ্য তারা ছুঁয়ে ফেলে ৭ বল বাকি থাকতে।
৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন মারুফা। ৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন অর্থি।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা রংপুরের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের তিন জন যেতে পারেন দুই অঙ্কে। কিন্তু বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কেউ। সর্বোচ্চ ১৭ রান করেন উন্নতি আক্তার।
জবাব দিতে নেমে ২৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কাঁপছিল সিলেট। বিপদে পড়া দলের হাল ধরেন দিপা খাতুন ও ফাহিমা খাতুন। তাদের ৩৬ রানের জুটিতে জয়ের কাছে পৌঁছে যায় দল।
দুইজনের কেউই শেষ করে আসতে পারেননি কাজ। দিপা ৩ চারে করেন ২১ রান। ফাহিমার ব্যাট থেকে আসে ১ চারে ১৬।
রংপুরের হয়ে ৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিথি রানী সরকার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রংপুর বিভাগ: ২০ ওভারে ৬৮/৮ (মুর্শিদা ১, সাথী ০, উন্নতি ১৭, জেসি ১৩, সালমা ১৪*, তাজিয়া ৬, ইসমত ৫, তিথি ৫, ফারজানা ২; মারুফা ৪-০-৭-৩, লাবনি ৪-১-১১-০, ফাহিমা ৩-০-১৪-০, দিপা ২-০-১২-০, অর্থি ৪-১-৫-৩, ইসমত ৩-০-১৬-০)
সিলেট বিভাগ: ১৮.৫ ওভারে ৬৯/৬ (শামীমা ১৩, অর্থি ১, ইশমা ৭, শিবানি ০, দিপা ২১, ফাহিমা ১৬, নাসিমা ৩*, মারুফা ২*; তৃষ্ণা ৩.৫-০-১১-১, সালমা ৪-০-১৯-০, জেসি ৪-০-১০-০, তিথি ৪-০-৮-৩, লাখি ২-০-১০-১, তাজিয়া ১-০-১০-০)
ফল: সিলেট বিভাগ ৪ উইকেটে জয়ী
প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: আশরাফি ইয়াসমিন অর্থি
জাহানারাদের হারিয়ে দিল নিগারের দল
আগের ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়া লিলি রানী বিশ্বাস আবারও ছড়ালেন আলো। তাতে লক্ষ্যটা থাকল নাগালে। পরে শারমিন আক্তার সুপ্তা ও নিগার সুলতানার ব্যাটে ময়মনসিংহ বিভাগের বিপক্ষে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল বরিশাল বিভাগ।
সিলেট একাডেমি মাঠে জাহানারা আলমদের ৯ উইকেটে হারিয়েছে বরিশাল। প্রতিপক্ষকে ৭৭ রানে থামিয়ে জয় তুলে নেয় তারা ৪০ বল আগে।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ময়মনসিংহের হয়ে তিন ব্যাটার যান তিন অঙ্কে। কিন্তু কেউ বড় করতে পারেননি ইনিংস। সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন ওপেনার সুমাইয়া আক্তার।
বরিশালের পেসার লিলি ২১ রান দিয়ে ধরেন ৩ শিকার।
রান তাড়ায় মুর্শিদা নাজনিনকে দ্রুত হারায় বরিশাল। পরে ৬৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে দেন শারমিন ও নিগার।
৬ চারে ৩৮ রান করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন শারমিন। নিগার ৩ চারে করেন ২৫।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ময়মনসিংহ বিভাগ: ২০ ওভারে ৭৭/৮ (শারমিন ১০, সুমাইয়া ১৯, মিশু ৭, বিথি ৩, জাহানারা ৮, দোলা ১১, শিখা ৭, সানজিদা ৩, রোকাইয়া ৮*, সাদিয়া ০*; ফোয়ারা ৪-১-৮-০, লিলি ৪-০-২১-৩, ফাতেমা ৪-০-১৭-০, দিশা ৩-০-১৪-১, রাবেয়া ৩-০-১১-০, রুমানা ২-০-৫-১)
বরিশাল বিভাগ: ১৩.২ ওভারে ৭৮/১ (মুর্শিদা ২, শারমিন ৩৮*, নিগার ২৫*; জাহানারা ৩.২-০-১৫-০, শিখা ৩-০-১৬-০, সানজিদা ২-০-৯-০, বিথি ২-০-১৪-০, আনিসা ২-০-১৪-০, রোকাইয়া ১-০-৬-০)
ফল: বরিশাল বিভাগ ৯ উইকেটে জয়ী
প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: শারমিন আক্তার সুপ্তা
