টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ‘টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট’ শ্রীরাম

আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত সাবেক ভারতীয় অলরাউন্ডারকে এই দায়িত্ব দিচ্ছে বিসিবি।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 August 2022, 08:53 AM
Updated : 19 August 2022, 08:53 AM

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যর্থতার চক্র ভাঙার চেষ্টায় কোচিং স্টাফে নতুন সংযোজন করতে যাচ্ছে বিসিবি। এই সংস্করণে বাংলাদেশ দলের ‘টেকনিকাল কনসালটেন্ট’ হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন সাবেক ভারতীয় অলরাউন্ডার ও বিশ্ব ক্রিকেটের পরিচিত কোচ শ্রীধরন শ্রীরাম।

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান শুক্রবার দুপুরে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি নিশ্চিত করেন শ্রীরামকে নিয়োগ দেওয়ার কথা।

“শ্রীরামকে আমরা শর্ট লিস্ট করেছিলাম, সে ওই লিস্টে ছিল। আমাদের এখানে ২১ তারিখ দুপুরবেলা আসার কথা তার। সে কোচ হিসেবে আসছে না, নিশ্চিতভাবেই প্রধান কোচ হিসেবে আসছে না। সে আসছে টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট হিসেবে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত থাকবে সে।”

নতুন এই পদ তৈরির পাশাপাশি এশিয়া কাপে নতুন প্রধান কোচও দেখা যেতে পারে বাংলাদেশ দলের। বর্তমান প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকে টি-টোয়েন্টির দায়িত্ব থেকে মুক্তি দিতে চায় বিসিবি। ডমিঙ্গো, শ্রীরাম ও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে আগামী সোমবার এটা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানান বিসিবি সভাপতি।

আপাতত মনোযোগের কেন্দ্রে শ্রীরাম। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটের ধারাবাহিক পারফরমার হলেও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার বলার মতো কিছু নয়। ২০০০ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে ৮টি ওয়ানডে খেলেছেন, সবশেষটি বাংলাদেশেই। বাঁহাতি এই অলরাউন্ডারের রঞ্জি রেকর্ড অবশ্য দুর্দান্ত। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫২.৯৯ গড়ে তার রান ৯ হাজার ৫৩৯, বাঁহাতি স্পিনে উইকেট ৮৫টি।

২০১২ সালে খেলা ছাড়ার পর কোচ হিসেবে দ্রুতই নিজের জায়গা করে নেন বিশ্ব ক্রিকেটে। আইপিএলে বিভিন্ন দলে নানা ভূমিকায় কাজ করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলে কোচ হিসেবে দারুণ কাজ করার পর সেখানকার জাতীয় দলেও সুযোগ পেয়ে যান। ২০১৬ সালে ড্যারেন লিমান অস্ট্রেলিয়ার কোচ হওয়ার পর স্পিন পরামর্শক করা হয় শ্রীরামকে।

অস্ট্রেলিয়ান স্পিনার ন্যাথান লায়ন, অ্যাডাম জ্যাম্পা, অ্যাশটন অ্যাগারদের শানিত করে তোলায় তার বড় ভূমিকা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে চর্চা হয়েছে অনেক। অস্ট্রেলিয়ার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন আইপিএল দলেও তিনি কাজ করে যাচ্ছিলেন।

ছয় বছর অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে নানা ভূমিকায় কাজ করার পর সবশেষ গত জুলাইয়ে সেই দায়িত্ব ছেড়ে দেন তিনি আইপিএল দল র‌য়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালোরের কোচিংয়ে পুরো মনোযোগ দেওয়ার জন্য।

৪৬ বছর বয়সী কোচ এবার চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন বাংলাদেশে। তাকে দায়িত্ব দেওয়ার কারণ হিসেবে বিসিবি সভাপতি বললেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার অভিজ্ঞতার কথা।

“কতগুলো বিবেচনায় তাকে আনা হয়েছে। যেহেতু আইপিএল দলের সঙ্গে কাজ করছে, তার সম্পৃক্ততা আছে। আমরা এমন কাউকে চাচ্ছিলাম, যার ‘হাই গ্রেড’ টি-টোয়েন্টির অভিজ্ঞতা আছে। এটা একটা কারণ।”

“আরেকটা ব্যাপার হলো, অস্ট্রেলিয়াতে এবার বিশ্বকাপ। অস্ট্রেলিয়াতে সে বহুদিন কাজ করেছে। এই দুটি কারণে তাকে আমরা বিশ্বকাপ পর্যন্ত নিয়েছি টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট হিসেবে।”

বিসিবির সভাপতি জানালেন, শ্রীরামের নিয়োগ দিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের খোলনলচে পাল্টে ফেলার শুরু হলো। এই সংস্করণের কোচিং স্টাফ পুরো আলাদা করে দিতে চায় বিসিবি। এই সংস্করণের দায়িত্ব থেকে ডমিঙ্গোকে ছেড়ে দিতে চাওয়ার পেছনের কারণও ব্যাখ্যা করলেন নাজমুল হাসান।

“অনেক কিছুতেই বদল আসবে। একটি-দুটি নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে অনেক কিছু করা হবে। আমরা টি-টোয়েন্টি মানসিকতায় বদল আনতে চাচ্ছি। সেটা ডমিঙ্গোকে রেখে নাকি বাদ দিয়ে, সেটা এখনও আলোচনা হয়নি। এখনও পর্যন্ত চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে, ডমিঙ্গো টেস্ট ও ওয়ানডেতে মনোযোগ দেবে।”

“সামনে যে পরিমাণ খেলা, ডমিঙ্গোর পক্ষে এত ভ্রমণ করা সম্ভব নয়। অনেক সিরিজে যেতেই পারবে না সে, কারণ তার তো ছুটিও লাগবে। সব খেলায় যেতে পারবে না। আমরা পুরো জিনিসটাকে আলাদা করতে চাচ্ছি। সামনের এফটিপিতে টি-টোয়েন্টিতে অনেক ম্যাচ। এটা আরেকজনকে দেওয়া মানে তার (ডমিঙ্গোর) ভার অনেক কমে গেল। টি-টোয়েন্টির ধরন, অ্যাপ্রোচ সব আলাদা। আমরা চিন্তা করছি যে, টি-টোয়েন্টির কোচিং স্টাফ আলাদা করে দেব।”

সেই আলাদা কোচিং স্টাফে প্রধান কোচের সম্ভাব্য ভাবনায় শ্রীরামকেও রেখেছে বিসিবি। আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে চান বিসিবি সভাপতি।

“এশিয়া কাপ আছে, সামনে বিশ্বকাপ আছে, এসব আমরা দেখব। তার পর আমরা ভেবে দেখব যে তাকে কি টি-টোয়েন্টিতে পাকাপাকিভাবে রেখে দেব নাকি অন্য কিছু ভাবব। সে নিজে চালিয়ে যেতে চাইবে কিনা, সেটাও তো জানি না।”

আগামী ২৭ অগাস্ট থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হবে এবারের এশিয়া কাপ। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩০ অগাস্ট।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক